সংবাদ শিরোনাম ::
মনোহরগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি, হাবিবসহ তিন পুলিশের মৃত্যুদণ্ড আত্রাইয়ে ১৯৩ কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’ অভিযোগের পাহাড় কাদির ও সহকারী হারিসের বিরুদ্ধে বিজিবি-র‍্যাবের যৌথ অভিযানে কাভার্ড ভ্যানসহ ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিক্স আটক এলেঙ্গাকে উপজেলা করার দাবিতে সংসদে এমপির বক্তব্য, কালিহাতীজুড়ে সমালোচনার ঝড় বিস্তর অনিয়মের অভিযোগের পরও বহাল ডিআইজি (প্রিজন্স) কামাল হোসেন ফায়ার সার্ভিসের দুর্নীতিবাজ সাদ্দাম ও রাব্বির
স্বাদে অনন্য মহেশখালীর শুটকি

অর্গানিক পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে উপকূলীয় অর্থনীতি

দেশের সর্ববৃহৎ শুটকি পল্লি হিসেবে নাজিরাটেকের পরিচিতি থাকলেও জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে নেই কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর শুটকি পল্লিগুলো। সাগরের নোনা জল আর রোদের তাপে প্রস্তুতকৃত এখানকার বিষমুক্ত শুটকি এখন জয় করছে দেশি-বিদেশি ভোজনরসিকদের মন। শুধু পর্যটন নয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও মহেশখালীর শুটকি রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

মহেশখালীর বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি মাচায় শুখানো হচ্ছে সাগর থেকে সদ্য ধরে আনা রূপচাঁদা, লাক্ষা, ছুরি, ইছা (চিংড়ি) ও পোয়া মাছসহ হরেক প্রজাতির মাছ। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন পর্যটকরা। তারা কেবল এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন না, ফেরার পথে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছেন মহেশখালীর খাঁটি শুটকি।

বেড়াতে আসা এক পর্যটক জানান, মহেশখালীর শুটকি যেমন সুস্বাদু, তেমনি এর ঘ্রাণ স্বতন্ত্র। এই শুটকি এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে প্রক্রিয়াকরণে আধুনিকতার ছোঁয়া পেলে এটি সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় উৎস হয়ে দাঁড়াবে।”

স্থানীয় শুটকি ব্যবসায়ীরা জানান, মহেশখালীর শুটকির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশুদ্ধতা। সাগরের তাজা মাছ কোনো প্রকার রাসায়নিক বা ক্ষতিকর কীটনাশক ছাড়াই রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয়।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, আমরা একদম অর্গানিক পদ্ধতিতে শুটকি তৈরি করি। সাগরের তাজা মাছ সরাসরি রোদে শুকানো হয় বলে এর স্বাদ অটুট থাকে। সারা দেশ থেকেই আমাদের শুটকির চাহিদা রয়েছে। তবে সরকারি সহায়তা ও আধুনিক শুটকি মহাল নির্মাণের সুযোগ পেলে আমরা আরও মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে বড় অবস্থান তৈরি করতে পারব।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মহেশখালীর শুটকি শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা গেলে অপচয় কমানো সম্ভব এবং স্বাস্থ্যসম্মত মান বজায় রাখা সহজ হবে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অঞ্চলটি শুটকি রপ্তানির একটি প্রধান হাবে পরিণত হতে পারে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মনোহরগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

স্বাদে অনন্য মহেশখালীর শুটকি

অর্গানিক পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে উপকূলীয় অর্থনীতি

আপডেট সময় ০৯:১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের সর্ববৃহৎ শুটকি পল্লি হিসেবে নাজিরাটেকের পরিচিতি থাকলেও জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে নেই কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর শুটকি পল্লিগুলো। সাগরের নোনা জল আর রোদের তাপে প্রস্তুতকৃত এখানকার বিষমুক্ত শুটকি এখন জয় করছে দেশি-বিদেশি ভোজনরসিকদের মন। শুধু পর্যটন নয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও মহেশখালীর শুটকি রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

মহেশখালীর বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি মাচায় শুখানো হচ্ছে সাগর থেকে সদ্য ধরে আনা রূপচাঁদা, লাক্ষা, ছুরি, ইছা (চিংড়ি) ও পোয়া মাছসহ হরেক প্রজাতির মাছ। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন পর্যটকরা। তারা কেবল এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন না, ফেরার পথে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছেন মহেশখালীর খাঁটি শুটকি।

বেড়াতে আসা এক পর্যটক জানান, মহেশখালীর শুটকি যেমন সুস্বাদু, তেমনি এর ঘ্রাণ স্বতন্ত্র। এই শুটকি এখন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে প্রক্রিয়াকরণে আধুনিকতার ছোঁয়া পেলে এটি সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় উৎস হয়ে দাঁড়াবে।”

স্থানীয় শুটকি ব্যবসায়ীরা জানান, মহেশখালীর শুটকির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশুদ্ধতা। সাগরের তাজা মাছ কোনো প্রকার রাসায়নিক বা ক্ষতিকর কীটনাশক ছাড়াই রোদে শুকিয়ে প্রস্তুত করা হয়।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, আমরা একদম অর্গানিক পদ্ধতিতে শুটকি তৈরি করি। সাগরের তাজা মাছ সরাসরি রোদে শুকানো হয় বলে এর স্বাদ অটুট থাকে। সারা দেশ থেকেই আমাদের শুটকির চাহিদা রয়েছে। তবে সরকারি সহায়তা ও আধুনিক শুটকি মহাল নির্মাণের সুযোগ পেলে আমরা আরও মানসম্মত পণ্য উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে বড় অবস্থান তৈরি করতে পারব।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মহেশখালীর শুটকি শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা গেলে অপচয় কমানো সম্ভব এবং স্বাস্থ্যসম্মত মান বজায় রাখা সহজ হবে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অঞ্চলটি শুটকি রপ্তানির একটি প্রধান হাবে পরিণত হতে পারে।