ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবাদলিপি প্রাইভেটকারে পরীক্ষা নিয়ে বাস-ট্রাকের লাইসেন্স দেন আবু পলাশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ওয়াদাগুলো একটি একটি পূরণ করছেন: মঈন খান নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৪০৩ পল্লবীতে পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, রাসেলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ব্রাহ্মণপাড়া​ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে স্বর্ণের চেইন চুরি, নারী চোরচক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার মুরাদনগরে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ‘পাশে আছি’, বালেন্দ্র শাহকে ফোন মোদির, দিলেন সাহায্যের আশ্বাস মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা আত্রাইয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

মেট্রোরেল : প্রথম দিন যাত্রীসেবায় তৎপর ছিল রোভার স্কাউট

অপেক্ষা ছিল মেট্রোরেল উদ্বোধনের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত স্বপ্নের মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পেরেছেন যাত্রীরা। তবে প্রথমবারের মতো স্বপ্নময় মেট্রোরেলে উঠতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে উৎসুক যাত্রীদের।

এরপর স্টেশনে ঢুকে টিকিট সংগ্রহ, সঠিক নির্দেশনা,  মেট্রো রেলে ভ্রমণ সবকিছুই ছিল যাত্রী সাধারণের কাছে একেবারে নতুন বিষয়। আর না জানা এসব যাত্রীদের পুরো সময় ধরে সেবা দিয়েছেন রোভার স্কাউট সদস্যরা।

উত্তরা উত্তর স্টেশনের দায়িত্বপালন করা রোভার স্কাউট সদস্য রাশেদুল আলম বলেন, আমরা যাত্রীদের টিকিটি সংগ্রহ করতে সহযোগিতাসহ পথ দেখানো, টিকিট পাঞ্চ জাতীয় নানা সহযোগিতা করেছি। এসব বিষয়ে আমাদের আগেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

রোভার স্কাউট সদস্যদের সেবায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করতে আসা জাহিদুর রহমান বলেন,  রোভার স্কাউট সদস্যরা যাত্রীদের খুবই সহযোগিতা করছেন। আমাদের কাছে মেট্রোরেলের স্টেশন, রেল পুরো বিষয়টাই একেবারে নতুন। কিন্তু তারা আমাদের সব শিখিয়ে দিচ্ছেন, সার্বিক সহযোগিতা করছেন। স্কাউট সদস্যরা এখানে দায়িত্বপালন করায় যাত্রীদের খুবই উপকার হয়েছে।

dhakapost

জানা গেছে, বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার অঞ্চল, নৌ-অঞ্চল, এয়ার অঞ্চল ও রেলওয়ে অঞ্চলের ১৫০ জন রোভার স্কাউট সদস্য এবং রোভার স্কাউট লিডারদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষিত রোভার স্কাউট সদস্যরা মানুষের যাত্রা সহজীকরণে প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তরা উত্তর স্টেশন ও আগারগাঁও স্টেশনে ৩৬ জন রোভার স্কাউট স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। রোভার স্কাউটদের মেট্রোরেল চত্বরে বহিরাগত অনুপ্রবেশ পর্যবেক্ষণ, মেট্রোরেলের সম্পত্তি চুরি বা ক্ষতি ঠেকানো, যাত্রী ও অন্যদের সহযোগিতা করা এবং মেট্রোরেল চত্বরে আগুন এবং অন্যান্য অনিরাপদ ঘটনার তাৎক্ষণিক সমাধান ও ক্ষতি হ্রাস করতে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর, ট্রেন অপারেটরের বা চালকদের প্রবেশ ও প্রস্থানের দরজা, প্ল্যাটফর্মের শেষ দরজা, ইমার্জেন্সি এস্কেপ ডোরস, ফিক্সড প্যানেলসহ অন্যান্য অংশের যথাযথ ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রাথমিক সহযোগীর ভূমিকা রোভার স্কাউট সদস্যরা পালন করছেন।

এদিকে গতকাল (বুধবার) মেট্রোরেলের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। এরপর আজ সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় মেট্রোরেল।

dhakapost

আগারগাঁও ও উত্তরা উত্তর স্টেশনে শীতের সকালে ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই ছিল মানুষের লম্বা লাইন। কিন্তু প্রথম দিনেই এতো মানুষের ভিড়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্টেশনে ধীর গতিতে যাত্রী ঢুকিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। ফলে স্টেশনের বাইরে অপেক্ষমাণ যাত্রীর সংখ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘায়িত হয়েছে। এরপর এসেছে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, স্বপ্ন ছোঁয়ার সেই ক্ষণ, অর্থাৎ মেট্রোরেলে প্রথমবারের মতো উঠতে পারার তৃপ্তি। সেই ক্ষণের সাক্ষী হতে কেউ এসেছিলেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধু বান্ধব ও প্রিয়জনকে নিয়ে। কিন্তু প্রথম দিনে বেশিরভাগেরই মেট্রোরেলে চড়ার সুযোগ হয়নি। শেষে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন তারা। কারণ প্রথম দিনে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্তই ছিল মেট্রোরেলের প্রথম সার্ভিসটি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবাদলিপি

মেট্রোরেল : প্রথম দিন যাত্রীসেবায় তৎপর ছিল রোভার স্কাউট

আপডেট সময় ০৪:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

অপেক্ষা ছিল মেট্রোরেল উদ্বোধনের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত স্বপ্নের মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পেরেছেন যাত্রীরা। তবে প্রথমবারের মতো স্বপ্নময় মেট্রোরেলে উঠতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে উৎসুক যাত্রীদের।

এরপর স্টেশনে ঢুকে টিকিট সংগ্রহ, সঠিক নির্দেশনা,  মেট্রো রেলে ভ্রমণ সবকিছুই ছিল যাত্রী সাধারণের কাছে একেবারে নতুন বিষয়। আর না জানা এসব যাত্রীদের পুরো সময় ধরে সেবা দিয়েছেন রোভার স্কাউট সদস্যরা।

উত্তরা উত্তর স্টেশনের দায়িত্বপালন করা রোভার স্কাউট সদস্য রাশেদুল আলম বলেন, আমরা যাত্রীদের টিকিটি সংগ্রহ করতে সহযোগিতাসহ পথ দেখানো, টিকিট পাঞ্চ জাতীয় নানা সহযোগিতা করেছি। এসব বিষয়ে আমাদের আগেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

রোভার স্কাউট সদস্যদের সেবায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করতে আসা জাহিদুর রহমান বলেন,  রোভার স্কাউট সদস্যরা যাত্রীদের খুবই সহযোগিতা করছেন। আমাদের কাছে মেট্রোরেলের স্টেশন, রেল পুরো বিষয়টাই একেবারে নতুন। কিন্তু তারা আমাদের সব শিখিয়ে দিচ্ছেন, সার্বিক সহযোগিতা করছেন। স্কাউট সদস্যরা এখানে দায়িত্বপালন করায় যাত্রীদের খুবই উপকার হয়েছে।

dhakapost

জানা গেছে, বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার অঞ্চল, নৌ-অঞ্চল, এয়ার অঞ্চল ও রেলওয়ে অঞ্চলের ১৫০ জন রোভার স্কাউট সদস্য এবং রোভার স্কাউট লিডারদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষিত রোভার স্কাউট সদস্যরা মানুষের যাত্রা সহজীকরণে প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তরা উত্তর স্টেশন ও আগারগাঁও স্টেশনে ৩৬ জন রোভার স্কাউট স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। রোভার স্কাউটদের মেট্রোরেল চত্বরে বহিরাগত অনুপ্রবেশ পর্যবেক্ষণ, মেট্রোরেলের সম্পত্তি চুরি বা ক্ষতি ঠেকানো, যাত্রী ও অন্যদের সহযোগিতা করা এবং মেট্রোরেল চত্বরে আগুন এবং অন্যান্য অনিরাপদ ঘটনার তাৎক্ষণিক সমাধান ও ক্ষতি হ্রাস করতে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর, ট্রেন অপারেটরের বা চালকদের প্রবেশ ও প্রস্থানের দরজা, প্ল্যাটফর্মের শেষ দরজা, ইমার্জেন্সি এস্কেপ ডোরস, ফিক্সড প্যানেলসহ অন্যান্য অংশের যথাযথ ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রাথমিক সহযোগীর ভূমিকা রোভার স্কাউট সদস্যরা পালন করছেন।

এদিকে গতকাল (বুধবার) মেট্রোরেলের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজধানীবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। এরপর আজ সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় মেট্রোরেল।

dhakapost

আগারগাঁও ও উত্তরা উত্তর স্টেশনে শীতের সকালে ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই ছিল মানুষের লম্বা লাইন। কিন্তু প্রথম দিনেই এতো মানুষের ভিড়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্টেশনে ধীর গতিতে যাত্রী ঢুকিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। ফলে স্টেশনের বাইরে অপেক্ষমাণ যাত্রীর সংখ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘায়িত হয়েছে। এরপর এসেছে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, স্বপ্ন ছোঁয়ার সেই ক্ষণ, অর্থাৎ মেট্রোরেলে প্রথমবারের মতো উঠতে পারার তৃপ্তি। সেই ক্ষণের সাক্ষী হতে কেউ এসেছিলেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধু বান্ধব ও প্রিয়জনকে নিয়ে। কিন্তু প্রথম দিনে বেশিরভাগেরই মেট্রোরেলে চড়ার সুযোগ হয়নি। শেষে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন তারা। কারণ প্রথম দিনে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্তই ছিল মেট্রোরেলের প্রথম সার্ভিসটি।