ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির জনজীবন, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রেমিককে কুপিয়ে জখম, ক্ষোভে প্রেমিকার চাচা-ফুফুর বাড়িতে আগুন আফতাব নগরে সাব রেজিস্ট্রার মাইকেলের ২৯ ফ্ল্যাট! ভৈরব থেকে নিখোঁজ কিশোর রামিম সন্ধান চায় পরিবার টংঙ্গী মুজিব নগর সাবরেজিস্টার আবু হেনা মোস্তফা কামাল এর বিরুদ্ধে ঘুষ দুনীতির সমাচার ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা : শিক্ষক কারাগারে বোরহানউদ্দিনে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী আটক গোপালগঞ্জে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ৭ বিভাগে কালবৈশাখি ঝড়ের আভাস নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ এবং দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ভোলার লালমোহন উপজেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বয়স অপ্রাপ্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের জন্মসাল ১৯৬৬। সে হিসাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল আনুমানিক চার বছর। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই বয়সে কোনো শিশুর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বা মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা বাস্তবসম্মত নয়। অথচ সরকারি নথিতে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম নিজেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন কোনো ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ করেন এবং সেই সনদের ভিত্তিতেই মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের যে তালিকা ও নথিপত্র সরকারি আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে, সেখানে তার নাম বা ভূমিকার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে বয়স, অবস্থান ও সক্রিয় ভূমিকার বিষয়গুলো যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, চার বছর বয়সে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার দাবি শুধু বিতর্কিতই নয়, বরং তা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চাকরিতে যোগদানের পর বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি ও দলিল নিবন্ধন সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও অন্যান্য সেবায় নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার দলিল কার্যক্রম নানা অজুহাতে বিলম্বিত করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে জাল বা বিতর্কিত দলিল নিবন্ধনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে করে একদিকে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ধরনের অনিয়ম পুরো ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে।

চাকরির আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার নামে নিজ জেলা ও অন্যান্য এলাকায় জমি ও স্থাপনার তথ্য পাওয়া গেছে, যার আর্থিক মূল্য সরকারি বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে তার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংক্রান্ত অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জন্মসাল, শিক্ষা সনদ এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখলেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। তবে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের মতো গৌরবময় ও সংবেদনশীল বিষয়ে ভুয়া সনদের অভিযোগ দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

বিষয়টি নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। অথচ কেউ যদি শিশু বয়সে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে সরকারি চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, তাহলে তা শুধু দুর্নীতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতিও চরম অবমাননা।

এ বিষয়ে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের বিষয় নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা, সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতার প্রশ্নের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির জনজীবন, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম

আপডেট সময় ১২:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ এবং দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ভোলার লালমোহন উপজেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বয়স অপ্রাপ্ত থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের জন্মসাল ১৯৬৬। সে হিসাবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল আনুমানিক চার বছর। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মতে, এই বয়সে কোনো শিশুর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বা মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা বাস্তবসম্মত নয়। অথচ সরকারি নথিতে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম নিজেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন কোনো ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ করেন এবং সেই সনদের ভিত্তিতেই মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পান। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের যে তালিকা ও নথিপত্র সরকারি আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে, সেখানে তার নাম বা ভূমিকার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে বয়স, অবস্থান ও সক্রিয় ভূমিকার বিষয়গুলো যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, চার বছর বয়সে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার দাবি শুধু বিতর্কিতই নয়, বরং তা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চাকরিতে যোগদানের পর বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি ও দলিল নিবন্ধন সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও অন্যান্য সেবায় নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হতো। কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার দলিল কার্যক্রম নানা অজুহাতে বিলম্বিত করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে জাল বা বিতর্কিত দলিল নিবন্ধনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে করে একদিকে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। ভূমি প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ধরনের অনিয়ম পুরো ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে।

চাকরির আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার নামে নিজ জেলা ও অন্যান্য এলাকায় জমি ও স্থাপনার তথ্য পাওয়া গেছে, যার আর্থিক মূল্য সরকারি বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে তার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংক্রান্ত অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জন্মসাল, শিক্ষা সনদ এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকার তথ্য মিলিয়ে দেখলেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। তবে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, এতসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের মতো গৌরবময় ও সংবেদনশীল বিষয়ে ভুয়া সনদের অভিযোগ দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

বিষয়টি নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। অথচ কেউ যদি শিশু বয়সে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে সরকারি চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, তাহলে তা শুধু দুর্নীতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতিও চরম অবমাননা।

এ বিষয়ে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের বিষয় নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা, সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভূমি প্রশাসনের স্বচ্ছতার প্রশ্নের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।