সংবাদ শিরোনাম ::
২৭৭৯ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে রাজিব দাশ সওজে টেন্ডার বাণিজ্যের ‘গডফাদার’ মনিরুজ্জামান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন আউটলেট, ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত : মির্জা ফখরুল ডেপুটি রেঞ্জার আবু সুফিয়ানের লোভনীয় পোস্টিং, রাঙ্গামাটিতে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বহাল ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখা-৫ এর কর্মচারী মিজানের বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে সাড়ে ৭ কোটি টাকার টেন্ডারে নয়ছয়ের অভিযোগ তিন মহাদেশে স্মার্ট টেকনোলজির ব্যবসা, আড়ালে অর্থপাচারের অভিযোগ

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

ক্যানভাসে রংতুলির ছোঁয়ায় শিল্পের সুষমায় অনবদ্য সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন জয়নুল আবেদিন। চিত্রমালা, মই দেওয়া, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড়, কাক, বিদ্রোহী ইত্যাদি শিল্পকর্ম এখনো শিল্পানুরাগীদের পরানের গহীনে দাগ কাটে। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য অভিধা লাভ করেন। আজ ২৯ ডিসেম্বর কিংবদন্তি এই শিল্পীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী। 

১৯১৪ সালের এই দিনে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা বর্তমান কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তিনি  ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা, মা জয়নাবুন্নেছা ছিলেন গৃহিণী। ৯ ভাইবোনের মধ্যে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সবার বড়। তার মা জয়নুল আবেদিনের আগ্রহ দেখে নিজের গলার হার বিক্রি করে ছেলেকে কলকাতার তখনকার আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে সাহায্য করেন।

১৯৪৭ সালে ভারতবিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে একটি চিত্রকলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুভূত হয়। জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডের ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলের একটি জীর্ণ কক্ষে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউট স্থাপিত হয়। শুরুতে এর ছাত্র সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮ জন। জয়নুল আবেদিন ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম শিক্ষক।

১৯৫১ সালে এই আর্ট ইন্সটিটিউট সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৫৬ সালে আর্ট ইন্সটিটিউটটি শাহবাগে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৬৩ সালে এটি একটি প্রথম শ্রেণির সরকারি কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়।

জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্মের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহীত তার শিল্পকর্মের সংখ্যা ৮০৭টি। তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৭৭৯ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে রাজিব দাশ

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় ০১:২৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

ক্যানভাসে রংতুলির ছোঁয়ায় শিল্পের সুষমায় অনবদ্য সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন জয়নুল আবেদিন। চিত্রমালা, মই দেওয়া, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড়, কাক, বিদ্রোহী ইত্যাদি শিল্পকর্ম এখনো শিল্পানুরাগীদের পরানের গহীনে দাগ কাটে। পূর্ববঙ্গে তথা বাংলাদেশে চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রসারে আমৃত্যু প্রচেষ্টার জন্য তিনি শিল্পাচার্য অভিধা লাভ করেন। আজ ২৯ ডিসেম্বর কিংবদন্তি এই শিল্পীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী। 

১৯১৪ সালের এই দিনে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা বর্তমান কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তিনি  ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী। বাবা তমিজউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশের দারোগা, মা জয়নাবুন্নেছা ছিলেন গৃহিণী। ৯ ভাইবোনের মধ্যে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সবার বড়। তার মা জয়নুল আবেদিনের আগ্রহ দেখে নিজের গলার হার বিক্রি করে ছেলেকে কলকাতার তখনকার আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে সাহায্য করেন।

১৯৪৭ সালে ভারতবিভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে একটি চিত্রকলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুভূত হয়। জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডের ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলের একটি জীর্ণ কক্ষে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউট স্থাপিত হয়। শুরুতে এর ছাত্র সংখ্যা ছিল মাত্র ১৮ জন। জয়নুল আবেদিন ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম শিক্ষক।

১৯৫১ সালে এই আর্ট ইন্সটিটিউট সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৫৬ সালে আর্ট ইন্সটিটিউটটি শাহবাগে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৬৩ সালে এটি একটি প্রথম শ্রেণির সরকারি কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে এবং এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়।

জয়নুল আবেদিনের চিত্রকর্মের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহীত তার শিল্পকর্মের সংখ্যা ৮০৭টি। তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।