রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকসহ খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণ। এই পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পীরগঞ্জ উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের অন্যান্য এলাকার মতো পীরগঞ্জেও দিন দিন শীতের তীব্রতা বেড়ে চলেছে। শীতের কারণে অনেকেই ভোরবেলায় কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে দৈনন্দিন আয় কমে গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় দিনের শুরুতে ও সকালবেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা শীতের প্রকোপ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এতে শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
উপজেলার চৌত্রকোল, চতরা, বড় আলমপুর, পাঁচগাছি, মদনখালী, টুকুরিয়া, মিঠিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে অসহায় অনেক পরিবার কষ্টের সঙ্গে দিন পার করছেন। অনেক দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ ছেঁড়া বা অপ্রতুল কাপড় দিয়েই শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ বিষয়ে এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, শীত প্রতিবছরই আসে, কিন্তু দরিদ্র মানুষের কষ্ট থেকেই যায়। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সমাজের বিত্তবানদের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শীতবস্ত্র বিতরণে দ্রুত এগিয়ে আসা।
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এখনই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সম্মিলিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ না করা হলে শীত আরও বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
তারিকুল ইসলাম তারিক, পীরগঞ্জ রংপুর প্রতিনিধি 



















