নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের অভিযানের প্রতিবাদে আকস্মিক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সুন্দরবনের পর্যটকবাহী নৌযান মালিক সমিতি। এর ফলে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী প্রায় ৪০০টি জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের কারণে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটক সুন্দরবনে প্রবেশ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
বোট মালিকদের অভিযোগ, রোববার দুপুরে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে ফেলে এবং মালামাল নিয়ে যায়। এই ঘটনাকে ‘হয়রানি’ উল্লেখ করে এর প্রতিবাদে মালিকপক্ষ সোমবার সকাল থেকে সব ধরনের পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার সকাল থেকেই মোংলার পিকনিক কর্নার ও পশুর নদীর পাড়ে পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু সুন্দরবনে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম নৌযানগুলো বন্ধ থাকায় তারা নিরূপায় হয়ে পড়েছেন।
যশোর থেকে সপরিবারে আসা পর্যটক সাজেদ রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে ঘুরতে এসেছিলাম। গাড়ি থেকে নেমে শুনি ধর্মঘট চলছে। এখন হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।’’ দিনাজপুর থেকে আসা তামান্না বেগম ও খুলনার চুকনগর থেকে ৫৪ জনের একটি দল নিয়ে আসা রেজাউল করিমও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘নৌ পরিবহন অধিদপ্তর আমাদের ওপর জুলুম করেছে। অভিযানের নামে বোট ভাঙচুর ও হয়রানি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৪০০ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলারের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।’’
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, ধর্মঘটের কারণে সোমবার ভোর থেকে কোনো পর্যটকবাহী নৌযান কেন্দ্রে আসেনি, ফলে পর্যটন কেন্দ্রটি কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, ‘‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই জালিবোটগুলোর ওপরের নড়বড়ে অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। এতে বোটের স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।’’
নিজস্ব প্রতিবেদক 























