ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

শীত ও তীব্র গরমের নেপথ্যে জাহান্নামের নিঃশ্বাস

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮১৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের এক প্রান্তে যখন হাড়কাঁপানো শীত, অন্য প্রান্তে তখন হয়তো চলছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। বিজ্ঞানের ভাষায় এর কারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও সূর্যের গতিপথ। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এর পেছনে রয়েছে এক আধ্যাত্মিক ও গায়েবি কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, দুনিয়ার এই তীব্র গরম ও কনকনে শীতের উৎস হলো জাহান্নামের নিঃশ্বাস। কিন্তু বিজ্ঞান ও হাদিসের এই দুই ব্যাখ্যার মধ্যে কি কোনো সংঘাত আছে? ইসলামি স্কলাররা এ বিষয়ে চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, জাহান্নাম একবার আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে বলল, ‘হে রব! আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলছে (প্রচণ্ড উত্তাপ বা শৈত্যের কারণে)।’ তখন আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামকে বছরে দুটি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন। একটি গ্রীষ্মকালে, অন্যটি শীতকালে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘‘তোমরা গরমের যে প্রচণ্ডতা অনুভব করো, তা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে; আর শীতের যে তীব্রতা (তুষারশীতল অবস্থা) অনুভব করো, তা জাহান্নামের ‘জমহরিল’ বা অতিশীতল অংশ থেকে আসে।’’

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় যখন গ্রীষ্ম, বাংলাদেশে তখন শীত। তাহলে জাহান্নামের নিঃশ্বাস কি অঞ্চলভেদে কাজ করে? এ বিষয়ে মুহাদ্দিস ও আলেমরা বলেন, একজন মুমিনের জন্য রাসুল (সা.)-এর বাণীকে ওহী হিসেবে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। তারা ব্যাখ্যা করেন, আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীতে কার্যকারণের (Cause and Effect) নিয়ম স্থাপন করেছেন।

বিখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.)-এর মতে, যেকোনো প্রাকৃতিক ঘটনার পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে—একটি দৃশ্যমান বা প্রাকৃতিক, অন্যটি অদৃশ্য বা শরিয়তি। যেমন, সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের বৈজ্ঞানিক কারণ চাঁদ ও সূর্যের অবস্থান। কিন্তু হাদিসে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে ভয় দেখান বা সতর্ক করেন। ঠিক তেমনি, শীত বা গরমের জন্য সূর্যের অবস্থান বা বায়ুপ্রবাহ হলো দৃশ্যমান কারণ। আর এর পেছনের অদৃশ্য চালিকাশক্তি বা ‘গায়েবি কারণ’ হলো জাহান্নামের নিঃশ্বাস।

ইমাম নববীসহ অনেক মুহাদ্দিস মনে করেন, হাদিসটিকে রূপক অর্থে না নিয়ে আক্ষরিক অর্থেই গ্রহণ করা উচিত। কারণ আল্লাহর অসীম কুদরতে একই সময়ে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন আবহাওয়া থাকা অসম্ভব কিছু নয়। জাহান্নামের বিভিন্ন স্তরের প্রভাব পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন সময়ে পড়তে পারে।

মূলত, শীতের তীব্রতা বা গ্রীষ্মের দাবদাহ মুমিনের জন্য কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শীত ও তীব্র গরমের নেপথ্যে জাহান্নামের নিঃশ্বাস

আপডেট সময় ০৩:০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের এক প্রান্তে যখন হাড়কাঁপানো শীত, অন্য প্রান্তে তখন হয়তো চলছে গ্রীষ্মের দাবদাহ। বিজ্ঞানের ভাষায় এর কারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও সূর্যের গতিপথ। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এর পেছনে রয়েছে এক আধ্যাত্মিক ও গায়েবি কারণ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, দুনিয়ার এই তীব্র গরম ও কনকনে শীতের উৎস হলো জাহান্নামের নিঃশ্বাস। কিন্তু বিজ্ঞান ও হাদিসের এই দুই ব্যাখ্যার মধ্যে কি কোনো সংঘাত আছে? ইসলামি স্কলাররা এ বিষয়ে চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, জাহান্নাম একবার আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে বলল, ‘হে রব! আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলছে (প্রচণ্ড উত্তাপ বা শৈত্যের কারণে)।’ তখন আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামকে বছরে দুটি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি দেন। একটি গ্রীষ্মকালে, অন্যটি শীতকালে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘‘তোমরা গরমের যে প্রচণ্ডতা অনুভব করো, তা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে; আর শীতের যে তীব্রতা (তুষারশীতল অবস্থা) অনুভব করো, তা জাহান্নামের ‘জমহরিল’ বা অতিশীতল অংশ থেকে আসে।’’

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় যখন গ্রীষ্ম, বাংলাদেশে তখন শীত। তাহলে জাহান্নামের নিঃশ্বাস কি অঞ্চলভেদে কাজ করে? এ বিষয়ে মুহাদ্দিস ও আলেমরা বলেন, একজন মুমিনের জন্য রাসুল (সা.)-এর বাণীকে ওহী হিসেবে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। তারা ব্যাখ্যা করেন, আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীতে কার্যকারণের (Cause and Effect) নিয়ম স্থাপন করেছেন।

বিখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রহ.)-এর মতে, যেকোনো প্রাকৃতিক ঘটনার পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে—একটি দৃশ্যমান বা প্রাকৃতিক, অন্যটি অদৃশ্য বা শরিয়তি। যেমন, সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের বৈজ্ঞানিক কারণ চাঁদ ও সূর্যের অবস্থান। কিন্তু হাদিসে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে ভয় দেখান বা সতর্ক করেন। ঠিক তেমনি, শীত বা গরমের জন্য সূর্যের অবস্থান বা বায়ুপ্রবাহ হলো দৃশ্যমান কারণ। আর এর পেছনের অদৃশ্য চালিকাশক্তি বা ‘গায়েবি কারণ’ হলো জাহান্নামের নিঃশ্বাস।

ইমাম নববীসহ অনেক মুহাদ্দিস মনে করেন, হাদিসটিকে রূপক অর্থে না নিয়ে আক্ষরিক অর্থেই গ্রহণ করা উচিত। কারণ আল্লাহর অসীম কুদরতে একই সময়ে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন আবহাওয়া থাকা অসম্ভব কিছু নয়। জাহান্নামের বিভিন্ন স্তরের প্রভাব পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভিন্ন সময়ে পড়তে পারে।

মূলত, শীতের তীব্রতা বা গ্রীষ্মের দাবদাহ মুমিনের জন্য কেবল আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়