হাড়কাঁপানো শীতের ভোরে যখন সবাই গভীর ঘুমে, তখনই হঠাৎ কেঁপে ওঠে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুইবার এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। তবে আতঙ্কের বিষয় হলো, এই কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশক বা পরাঘাতের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং এলাকা এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
রেকর্ড বলছে, সোমবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। এর ঠিক ১৩ সেকেন্ড পর, ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে দ্বিতীয় দফায় আবারও কেঁপে ওঠে সিলেট অঞ্চল।
এ বিষয়ে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোরে বাংলাদেশ ও ভারতের আসাম সীমান্তে মূলত দুটি পৃথক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রথমটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২ এবং দ্বিতীয়টি ছিল ৫ দশমিক ৪ মাত্রার। দ্বিতীয় কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল আসামের রাজধানী গোহাটির নিকটবর্তী মরিগাঁও এলাকায়।
গবেষক পলাশ সতর্ক করে বলেন, ‘‘যেহেতু দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি ৫ দশমিক ৪ মাত্রার অর্থাৎ মাঝারি মানের ছিল, তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অথবা উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের কোনো ফল্ট লাইনে আফটারশক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’’
ভোররাতে আকস্মিক এই কম্পনে সিলেটে অনেকের ঘুম ভেঙে যায় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























