ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তুরাগে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ তারার টেকের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হৃদয় গ্রেপ্তার ফেনীতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, হামলায় নারীসহ আহত ২; মামলা না নেওয়ার অভিযোগ লালদিয়া টার্মিনাল বন্দরের সক্ষমতা ২৩% বাড়ানোর পরিকল্পনা এপিএম টার্মিনালসের আজ গার্লফ্রেন্ড দিবস, শেষ মুহূর্তেও চমকে দিন এই ৬ উপহারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দুর্নীতি যেন মরনঘাতি ভাইরাসে পরিণত হয়েছে প্যান্টের নিচে কোটি টাকার সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শেষ হবে: কৃষিমন্ত্রী আগস্ট মাসে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া ট্রেন চালু ঘোষণা

লাউকাঠি নদীর পাড় কেটে মাটি লুটের মহোৎসব: প্রশাসনের হানা, জব্দ করা হলো ভ্যাকু মেশিন

পটুয়াখালী সদরের লাউকাঠি নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির মহোৎসব থামিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর (ভ্যাকু) জব্দ করা হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে এবং কখনও প্রকাশ্যে টেংরাখালীর মাওলানা বাড়ি ও ধোপা বাড়ির সামনে থেকে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছিল। এই মাটি চুরির ফলে বদরপুর, লাউকাঠি, ইটবাড়িয়া ইউনিয়নসহ পৌরসভার মাজগ্রাম এলাকা তীব্র নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি পটুয়াখালী সেতুর উত্তরপাড় এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি জবরদখল করে মাটি কেটে নেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

গণমাধ্যমকর্মীদের তৎপরতায় বিষয়টি নজরে আসার পর রবিবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি ভ্যাকু মেশিন জব্দ করা হয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, আসাদ, বাপ্পি, আল-আমিন মৃধা ও নাসির হাওলাদারের মতো প্রভাবশালীরা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের এই তড়িৎ অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, শুরুতে মাটি দস্যুদের বাধার মুখে পড়লেও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই অভিযান অন্য ভূমিদস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

লাউকাঠি নদীর পাড় কেটে মাটি লুটের মহোৎসব: প্রশাসনের হানা, জব্দ করা হলো ভ্যাকু মেশিন

আপডেট সময় ০৫:২৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালী সদরের লাউকাঠি নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির মহোৎসব থামিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর (ভ্যাকু) জব্দ করা হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে এবং কখনও প্রকাশ্যে টেংরাখালীর মাওলানা বাড়ি ও ধোপা বাড়ির সামনে থেকে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছিল। এই মাটি চুরির ফলে বদরপুর, লাউকাঠি, ইটবাড়িয়া ইউনিয়নসহ পৌরসভার মাজগ্রাম এলাকা তীব্র নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি পটুয়াখালী সেতুর উত্তরপাড় এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি জবরদখল করে মাটি কেটে নেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

গণমাধ্যমকর্মীদের তৎপরতায় বিষয়টি নজরে আসার পর রবিবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি ভ্যাকু মেশিন জব্দ করা হয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, আসাদ, বাপ্পি, আল-আমিন মৃধা ও নাসির হাওলাদারের মতো প্রভাবশালীরা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের এই তড়িৎ অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, শুরুতে মাটি দস্যুদের বাধার মুখে পড়লেও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই অভিযান অন্য ভূমিদস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা।