সংবাদ শিরোনাম ::
গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা তালাকের নোটিশের পর শ্বশুরবাড়ি-জামাইপক্ষের বিরোধ, গরু ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ ডিএনসিসির সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পবিপ্রবিতে ব্যবসায় প্রশাসন, সিএসই ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময় বিআইডাব্লিউটিএর প্রকল্প পরিচালক আবুল কালামের দূর্নীতি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কর্মকর্তা মাহফুজের বিরুদ্ধে নারীকে মারধরের অভিযোগ ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী, অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক! শফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন চার্জে লাগিয়ে মোবাইল চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল মিজানের কমলনগরে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান  আমশিল্প ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্বের দাবি, প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের

লাউকাঠি নদীর পাড় কেটে মাটি লুটের মহোৎসব: প্রশাসনের হানা, জব্দ করা হলো ভ্যাকু মেশিন

পটুয়াখালী সদরের লাউকাঠি নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির মহোৎসব থামিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর (ভ্যাকু) জব্দ করা হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে এবং কখনও প্রকাশ্যে টেংরাখালীর মাওলানা বাড়ি ও ধোপা বাড়ির সামনে থেকে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছিল। এই মাটি চুরির ফলে বদরপুর, লাউকাঠি, ইটবাড়িয়া ইউনিয়নসহ পৌরসভার মাজগ্রাম এলাকা তীব্র নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি পটুয়াখালী সেতুর উত্তরপাড় এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি জবরদখল করে মাটি কেটে নেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

গণমাধ্যমকর্মীদের তৎপরতায় বিষয়টি নজরে আসার পর রবিবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি ভ্যাকু মেশিন জব্দ করা হয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, আসাদ, বাপ্পি, আল-আমিন মৃধা ও নাসির হাওলাদারের মতো প্রভাবশালীরা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের এই তড়িৎ অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, শুরুতে মাটি দস্যুদের বাধার মুখে পড়লেও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই অভিযান অন্য ভূমিদস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা

লাউকাঠি নদীর পাড় কেটে মাটি লুটের মহোৎসব: প্রশাসনের হানা, জব্দ করা হলো ভ্যাকু মেশিন

আপডেট সময় ০৫:২৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালী সদরের লাউকাঠি নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির মহোৎসব থামিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এস্কেভেটর (ভ্যাকু) জব্দ করা হয়েছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে এবং কখনও প্রকাশ্যে টেংরাখালীর মাওলানা বাড়ি ও ধোপা বাড়ির সামনে থেকে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছিল। এই মাটি চুরির ফলে বদরপুর, লাউকাঠি, ইটবাড়িয়া ইউনিয়নসহ পৌরসভার মাজগ্রাম এলাকা তীব্র নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। এমনকি পটুয়াখালী সেতুর উত্তরপাড় এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি জবরদখল করে মাটি কেটে নেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

গণমাধ্যমকর্মীদের তৎপরতায় বিষয়টি নজরে আসার পর রবিবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি ভ্যাকু মেশিন জব্দ করা হয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, আসাদ, বাপ্পি, আল-আমিন মৃধা ও নাসির হাওলাদারের মতো প্রভাবশালীরা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের এই তড়িৎ অভিযানে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, শুরুতে মাটি দস্যুদের বাধার মুখে পড়লেও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই অভিযান অন্য ভূমিদস্যুদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা।