মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৩ জুন মন্টু মিয়া জয়পুরহাটের ৫ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে কালাই থানাকে নির্দেশ দেন। পরে থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।
মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা-খানপাড়া গ্রামের সাব্বির আহমেদ, একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কথিত কিডনি চক্রের দালাল আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা-বহুতি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরী।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সংসার চালাতে গিয়ে এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মন্টু মিয়া। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে কিডনি বিক্রির প্রস্তাব দেন।
তারা তাকে বলেন, ঢাকার এক ধনাঢ্য নারীর জন্য একটি কিডনি প্রয়োজন। এর বিনিময়ে তিনি ১০ লাখ টাকা পাবেন। দারিদ্র্য থেকে মুক্তির আশায় মন্টু মিয়া ওই প্রস্তাবে রাজি হন।
এরপর অভিযুক্তরা তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে দেন। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে তাকে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। পরে ভারত হয়ে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসার অজুহাতে কিছুদিন নেপালে রাখার পর চুক্তির বাকি টাকা না দিয়েই তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
দেশে ফিরে মন্টু মিয়া চুক্তি অনুযায়ী বাকি সাড়ে ৯ লাখ টাকা দাবি করলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। শেষ পর্যন্ত আদালতে মামলা করেন।
এ বিষয়ে জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট উজ্জ্বল হোসেন বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সুযোগ নিয়ে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেচাকেনার মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই এ ধরনের চক্রকে দমন করা সম্ভব।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















