ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’ জামায়াত এমপির ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৯ যুদ্ধের ডামাডোল পেরিয়ে হজে যাচ্ছেন ৩০ হাজার ইরানি ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের ​বন বিভাগের ‘মাফিয়া’ সুমন মিয়ার ক্ষমতার দাপট: নির্বাচন কমিশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হরিলুট মিঠাপুকুরে দুই সাংবাদিক ও কয়েকটি পত্রিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা স্বরলিপি পাবলিকেশনের কৃতী নারী সম্মাননা ফ্যাসিস্ট মন্ত্রীর প্রভাবে মহাজন, এরপর কোটি টাকার হরিলুট বালিজুড়ী রেঞ্জারের পৈশাচিকতায় ধ্বংস হচ্ছে বন বড়লেখায় পৃথক ২ রাস্তার উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নাসির উদ্দিন এমপি দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না শেরপুরে, বিপর্যস্ত জনজীবন
ত্রিশালে কাগজে প্রকল্প

মাঠে নেই অস্তিত্ব পিআইও শহিদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১০নং মঠবাড়ী ইউনিয়নে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভয়াবহ অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে প্রকল্প মাঠে নেই অস্তিত্ব! এমন জোরালো আলোচনা সমালোচনার কারণেই
জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে মটবাড়ী ইউনিয়নের ২৮ টি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন।

জানা যায় ‎২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে বরাদ্দ পাওয়া মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প নামের সংশ্লিষ্ট এলাকায় (মাঠপর্যায়ে) কোনো কাজ না করেই কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষে মো. বাবুল মিয়া দুদক চেয়ারম্যান বরাবর বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, বাস্তব অবস্থা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার তথ্য সংযুক্ত রয়েছে।

‎কাগজে প্রকল্প, মাঠে নেই অস্তিত্ব! অভিযোগ অনুযায়ী, মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে রাস্তা সংস্কার, ড্রেন, কালভার্ট, মাটি ভরাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয়দের দাবি যেসব প্রকল্প কাগজে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেসব স্থানে বছরের পর বছর কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। ডিজিটাল তথ্য বোর্ডে প্রকল্পের নাম থাকলেও মাঠে কাজের চিহ্ন না থাকায় প্রকল্প অনুমোদন ও বিল ছাড় প্রক্রিয়া নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠেছে।

ত্রিশাল উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ত্রিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। স্থানীয়দের অভিযোগ মটবাড়ী ইউনিয়নে কোন কাজ না করেই সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, প্রকল্প যাচাই, কাজের সমাপ্তি সনদ প্রদান এবং বিল ছাড়ের প্রতিটি ধাপেই তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নে হয়তো কিছু কাজ করছে, নয়তো প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে এলাকার জনগণকে উন্নয়ন বঞ্চিত করেছে।

‎,“মাঠপর্যায়ে কাজ না হলে কোনোভাবেই বিল পাস হওয়ার সুযোগ নেই। বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত যাওয়ার বিধিবিধান রয়েছে।
পিআইও প্রকল্পের যাচাই বাছাই কাজের মান নির্ণয়
পুরো ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রক

‎জানা যায় নানা অভিযোগের ভিত্তিতে পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে সম্প্রতি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন এই বদলি কি শাস্তি, নাকি দায় এড়ানোর কৌশল?
ত্রিশাল উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে গত কয়েক বছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা তা পূর্ণাঙ্গভাবে অডিট করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অভিযুক্ত পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সব প্রকল্প সরকারি বিধি-বিধান মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে আমাকে হয়রানি করতে এসব অভিযোগ তুলেছে। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’

ত্রিশালে কাগজে প্রকল্প

মাঠে নেই অস্তিত্ব পিআইও শহিদুল্লাহ’র বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১০নং মঠবাড়ী ইউনিয়নে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভয়াবহ অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে প্রকল্প মাঠে নেই অস্তিত্ব! এমন জোরালো আলোচনা সমালোচনার কারণেই
জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছে মটবাড়ী ইউনিয়নের ২৮ টি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন।

জানা যায় ‎২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে বরাদ্দ পাওয়া মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প নামের সংশ্লিষ্ট এলাকায় (মাঠপর্যায়ে) কোনো কাজ না করেই কাগজে-কলমে সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

‎এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষে মো. বাবুল মিয়া দুদক চেয়ারম্যান বরাবর বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, বাস্তব অবস্থা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার তথ্য সংযুক্ত রয়েছে।

‎কাগজে প্রকল্প, মাঠে নেই অস্তিত্ব! অভিযোগ অনুযায়ী, মঠবাড়ী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে রাস্তা সংস্কার, ড্রেন, কালভার্ট, মাটি ভরাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

‎স্থানীয়দের দাবি যেসব প্রকল্প কাগজে শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেসব স্থানে বছরের পর বছর কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। ডিজিটাল তথ্য বোর্ডে প্রকল্পের নাম থাকলেও মাঠে কাজের চিহ্ন না থাকায় প্রকল্প অনুমোদন ও বিল ছাড় প্রক্রিয়া নিয়েই বড় প্রশ্ন উঠেছে।

ত্রিশাল উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ত্রিশাল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ। স্থানীয়দের অভিযোগ মটবাড়ী ইউনিয়নে কোন কাজ না করেই সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে, প্রকল্প যাচাই, কাজের সমাপ্তি সনদ প্রদান এবং বিল ছাড়ের প্রতিটি ধাপেই তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অন্যান্য ইউনিয়নে হয়তো কিছু কাজ করছে, নয়তো প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বরাদ্দের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে এলাকার জনগণকে উন্নয়ন বঞ্চিত করেছে।

‎,“মাঠপর্যায়ে কাজ না হলে কোনোভাবেই বিল পাস হওয়ার সুযোগ নেই। বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফেরত যাওয়ার বিধিবিধান রয়েছে।
পিআইও প্রকল্পের যাচাই বাছাই কাজের মান নির্ণয়
পুরো ব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রক

‎জানা যায় নানা অভিযোগের ভিত্তিতে পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে সম্প্রতি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন এই বদলি কি শাস্তি, নাকি দায় এড়ানোর কৌশল?
ত্রিশাল উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে গত কয়েক বছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হয়েছে কিনা তা পূর্ণাঙ্গভাবে অডিট করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অভিযুক্ত পিআইও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সব প্রকল্প সরকারি বিধি-বিধান মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কোনো প্রকল্পে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কেউ ব্যক্তিস্বার্থে আমাকে হয়রানি করতে এসব অভিযোগ তুলেছে। তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।