ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

রাতের আঁধারে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যা: তারাগঞ্জে চরম উৎকণ্ঠা

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)। শনিবার গভীর রাতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বহু ডাকাডাকির পর বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা সন্দেহে মই বেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে প্রধান ফটকের চাবি পেয়ে দরজা খুলে ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের এবং রান্নাঘরে তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় জানান, প্রায় ৪০–৫০ বছর ধরে তারা ওই বাড়ি দেখাশোনা করেন। প্রতিদিনের মতো কাজে এলেও সেদিন ভোর থেকে কেউ বাইরে না আসায় সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে ঘরে ঢুকে লাশ দেখতে পান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় শিক্ষক ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন। তাঁদের দুই ছেলে—বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে চাকরি করেন। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গেই বসবাস করতেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলী হোসেন। আলী হোসেন বলেন,
“বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির হত্যাকাণ্ড আমাদের আতঙ্কিত করেছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছি। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে নিরাপত্তা দাবি করছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তারাগঞ্জ থানার এসআই মো:আবু ছাইয়ুম জানান, নিহত দুজনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে জোরালো তদন্ত চলছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

রাতের আঁধারে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যা: তারাগঞ্জে চরম উৎকণ্ঠা

আপডেট সময় ০২:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)। শনিবার গভীর রাতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বহু ডাকাডাকির পর বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা সন্দেহে মই বেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে প্রধান ফটকের চাবি পেয়ে দরজা খুলে ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের এবং রান্নাঘরে তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় জানান, প্রায় ৪০–৫০ বছর ধরে তারা ওই বাড়ি দেখাশোনা করেন। প্রতিদিনের মতো কাজে এলেও সেদিন ভোর থেকে কেউ বাইরে না আসায় সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে ঘরে ঢুকে লাশ দেখতে পান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় শিক্ষক ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন। তাঁদের দুই ছেলে—বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে চাকরি করেন। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গেই বসবাস করতেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলী হোসেন। আলী হোসেন বলেন,
“বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির হত্যাকাণ্ড আমাদের আতঙ্কিত করেছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছি। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে নিরাপত্তা দাবি করছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তারাগঞ্জ থানার এসআই মো:আবু ছাইয়ুম জানান, নিহত দুজনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে জোরালো তদন্ত চলছে।