ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাইস কুকারে রান্না করতে গিয়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমন ১০ দিনের রিমান্ডে ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট ইউপি সদস্য ফিরোজের বিরুদ্ধে, বিচার চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ ভুক্তভোগীরা ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কার্যক্রম আগস্টে পরিলক্ষিত হচ্ছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোড়াই কটনমিল পরিদর্শন করলেন শরীফুল আলম বালুর ড্রেজার বসানো নিয়ে বাকবিতন্ডা, স্থানীয়দের হাতে মার খেলেন ববি ছাত্রদলের তিন নেতা কুমিল্লা ও ফেনী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় শাড়ি-মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ

রাতের আঁধারে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যা: তারাগঞ্জে চরম উৎকণ্ঠা

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)। শনিবার গভীর রাতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বহু ডাকাডাকির পর বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা সন্দেহে মই বেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে প্রধান ফটকের চাবি পেয়ে দরজা খুলে ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের এবং রান্নাঘরে তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় জানান, প্রায় ৪০–৫০ বছর ধরে তারা ওই বাড়ি দেখাশোনা করেন। প্রতিদিনের মতো কাজে এলেও সেদিন ভোর থেকে কেউ বাইরে না আসায় সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে ঘরে ঢুকে লাশ দেখতে পান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় শিক্ষক ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন। তাঁদের দুই ছেলে—বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে চাকরি করেন। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গেই বসবাস করতেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলী হোসেন। আলী হোসেন বলেন,
“বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির হত্যাকাণ্ড আমাদের আতঙ্কিত করেছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছি। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে নিরাপত্তা দাবি করছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তারাগঞ্জ থানার এসআই মো:আবু ছাইয়ুম জানান, নিহত দুজনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে জোরালো তদন্ত চলছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

রাতের আঁধারে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যা: তারাগঞ্জে চরম উৎকণ্ঠা

আপডেট সময় ০২:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে নিজ বাড়িতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায় (৬০)। শনিবার গভীর রাতে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বহু ডাকাডাকির পর বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা সন্দেহে মই বেয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে প্রধান ফটকের চাবি পেয়ে দরজা খুলে ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের এবং রান্নাঘরে তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় জানান, প্রায় ৪০–৫০ বছর ধরে তারা ওই বাড়ি দেখাশোনা করেন। প্রতিদিনের মতো কাজে এলেও সেদিন ভোর থেকে কেউ বাইরে না আসায় সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের নিয়ে ঘরে ঢুকে লাশ দেখতে পান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় শিক্ষক ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অবসর নেন। তাঁদের দুই ছেলে—বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে চাকরি করেন। স্বামী-স্ত্রী দুইজনই গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গেই বসবাস করতেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন, পুলিশ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলী হোসেন। আলী হোসেন বলেন,
“বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতির হত্যাকাণ্ড আমাদের আতঙ্কিত করেছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা সংকটাপন্ন অবস্থায় আছি। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে নিরাপত্তা দাবি করছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তারাগঞ্জ থানার এসআই মো:আবু ছাইয়ুম জানান, নিহত দুজনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে জোরালো তদন্ত চলছে।