ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন  গোদাগাড়ীতে যুবককে পিটিয়ে জখম  পীরগঞ্জে মাদ্রাসা শিক্ষককে তুলে এনে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত আ.লীগ নেতা প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা প্রস্তুতিমূলক সভা  অপপ্রচার নয়-পুরো বক্তব্য শুনেই বিচার করুন-এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের বক্তব্য বিকৃতি নিয়ে প্রতিবাদ দেশ পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন : প্রধানমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ডিএসসিসির ৩২৭ কোটি টাকার মেগা কর্মসূচি সাবেক কাস্টমস কমিশনার হাফিজুর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিলে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেল দুদক অনিয়মকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক!

বরগুনার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে তিন বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

তালাকপ্রাপ্তা এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছর সংসার পেতে ধর্ষণ করার অভিযোগে মো. রুবেল মুন্সীর বিরুদ্ধে ১৭ নভেম্বর সোমবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনার গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু। অভিযুক্ত মো. রুবেল মুন্সী (৩০) বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকী গ্রামের মোঃ রুস্তুম আলী মুন্সীর ছেলে। মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী ও আসামি পরস্পর প্রতিবেশী। চার বছর আগে বাদী তালাকপ্রাপ্ত হন। প্রতিবেশী মো. রুবেল মুন্সী বাদীর বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করেন। বাদী ও তার বাবার বিপদ-আপদে সব সময় এগিয়ে আসতেন রুবেল। এ কারণে বাদী ও তার পরিবার রুবেলের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করে।

৩ বছর পূর্বে রুবেল বাদীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রুবেল কুরআন শরীফ সাক্ষী রেখে স্থানীয় মৌলভী দিয়ে গোপনে বাদীকে বিয়ে করেন। রুবেল বাদীকে নিয়ে ঢাকায় বাসা রেখে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তিন বছর সংসার করেন। বাদী বলেন, আমি ও আমার পরিবার রুবেলকে বারবার কাবিন দেওয়ার জন্য বলেছি। রুবেল বলে কিছু দিনের মধ্যেই কাবিন দেব। এমনিভাবে তিনটি বছর চলে যায়। ঢাকা থেকে আমরা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসতাম। কিছুদিন থেকে আবার ঢাকায় চলে যেতাম।

কিছুদিন আগে আমরা আবার বাড়িতে বেড়াতে আসি। তিনি বলেন, ১৪ নভেম্বর সকালে আমার বাবা ও আমি রুবেলের কাছে আবারও কাবিন রেজিস্ট্রি করে দিতে বলি। এ সময় রুবেল উত্তেজিত হয়ে বলে আমার সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তোমাকে বিয়ে করিনি। এই কথা বলে আসামি রুবেল চলে যায়। আমি রুবেলকে বোঝাতে চাই কাবিন না হলে বিয়ের স্বীকৃতি হয় না।

রুবেল আমাকে সাফ জানিয়ে দেয় সে আমাকে বিয়ে করেনি। রুবেল আমাকে বিয়ে করে তিন বছর সংসার করার পরে এখন বিয়ে অস্বীকার করে। রুবেলকে আমি তিন বছর বিশ্বাস করে তার সংসার করেছি। অসংখ্যবার রুবেল আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। রুবেল আমার সঙ্গে প্রতারণা করে বিয়ের নাটক সাজিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করবে তা আমি ও আমার পরিবার বুঝতে পারিনি।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, আদালতের আদেশ পেলে তদন্ত শুরু করবো। রুবেলের ফোন নাম্বার বাদীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেন না। যার কারণে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেনের ৯৬তম জন্মদিন 

বরগুনার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে তিন বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

আপডেট সময় ০১:১৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

তালাকপ্রাপ্তা এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তিন বছর সংসার পেতে ধর্ষণ করার অভিযোগে মো. রুবেল মুন্সীর বিরুদ্ধে ১৭ নভেম্বর সোমবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস মামলাটি গ্রহণ করে বরগুনার গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ৭ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু। অভিযুক্ত মো. রুবেল মুন্সী (৩০) বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বাইনচটকী গ্রামের মোঃ রুস্তুম আলী মুন্সীর ছেলে। মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী ও আসামি পরস্পর প্রতিবেশী। চার বছর আগে বাদী তালাকপ্রাপ্ত হন। প্রতিবেশী মো. রুবেল মুন্সী বাদীর বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করেন। বাদী ও তার বাবার বিপদ-আপদে সব সময় এগিয়ে আসতেন রুবেল। এ কারণে বাদী ও তার পরিবার রুবেলের প্রতি বিশ্বাস অর্জন করে।

৩ বছর পূর্বে রুবেল বাদীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রুবেল কুরআন শরীফ সাক্ষী রেখে স্থানীয় মৌলভী দিয়ে গোপনে বাদীকে বিয়ে করেন। রুবেল বাদীকে নিয়ে ঢাকায় বাসা রেখে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তিন বছর সংসার করেন। বাদী বলেন, আমি ও আমার পরিবার রুবেলকে বারবার কাবিন দেওয়ার জন্য বলেছি। রুবেল বলে কিছু দিনের মধ্যেই কাবিন দেব। এমনিভাবে তিনটি বছর চলে যায়। ঢাকা থেকে আমরা বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসতাম। কিছুদিন থেকে আবার ঢাকায় চলে যেতাম।

কিছুদিন আগে আমরা আবার বাড়িতে বেড়াতে আসি। তিনি বলেন, ১৪ নভেম্বর সকালে আমার বাবা ও আমি রুবেলের কাছে আবারও কাবিন রেজিস্ট্রি করে দিতে বলি। এ সময় রুবেল উত্তেজিত হয়ে বলে আমার সঙ্গে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তোমাকে বিয়ে করিনি। এই কথা বলে আসামি রুবেল চলে যায়। আমি রুবেলকে বোঝাতে চাই কাবিন না হলে বিয়ের স্বীকৃতি হয় না।

রুবেল আমাকে সাফ জানিয়ে দেয় সে আমাকে বিয়ে করেনি। রুবেল আমাকে বিয়ে করে তিন বছর সংসার করার পরে এখন বিয়ে অস্বীকার করে। রুবেলকে আমি তিন বছর বিশ্বাস করে তার সংসার করেছি। অসংখ্যবার রুবেল আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। রুবেল আমার সঙ্গে প্রতারণা করে বিয়ের নাটক সাজিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করবে তা আমি ও আমার পরিবার বুঝতে পারিনি।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, আদালতের আদেশ পেলে তদন্ত শুরু করবো। রুবেলের ফোন নাম্বার বাদীর কাছ থেকে সংগ্রহ করে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেন না। যার কারণে রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।