ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

মক্কা বিজয়ের দিন কাবার ছাদে আজান দিয়েছিলেন যে সাহাবি

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৬৫৭ বার পড়া হয়েছে

অষ্টম হিজরির ২০ রমজান। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি প্রোজ্জ্বল হয়ে আছে ফাতহে মক্কা বা মক্কাবিজয় নামে। সেদিন ১০, ০০০ মুজাহিদকে সাথে নিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করলেন মক্কায়।

পৃথিবীর ভাগ্যে এরকম মহিমান্বিত বিজয় হয়তো আর দেখা হবে না। কারণ মক্কার মতো একটা প্রতাপান্বিত ঐশর্যময় শহরকে রাসুল জয় করেছেন বিনা রক্তপাতে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আর শহর জয়ের পর ন্যায় ও ক্ষমার যে পরাকাষ্ঠা তিনি দেখিয়েছেন, এরকম দৃষ্টান্ত রাহমাতুল্লিল আলামিনের পক্ষেই সম্ভব।

মক্কাবিজয়ের দিন হজরত বিলাল ছিলেন রাসুলের সাথে—তার ছায়াসঙ্গী হয়ে। রাসুল মাথায় কালো পাগড়ি বেঁধে ঘোড়ায় চড়ে মক্কার প্রাণকেন্দ্র কাবাচত্বরে এলেন। চারিদিকে তখন হাজার হাজার জনতার ভিড়। তাদের মধ্য থেকে যে তিন ব্যক্তি রাসুলের সাথে কাবার ভেতরে প্রবেশ করার সৌভাগ্য লাভ করলেন, হজরত বিলাল ছিলেন তাদের একজন। সেদিন অনেক বড়ো বড়ো সাহাবি তার এই সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষাকাতর হয়েছিলেন।

রাসুল কাবার ভেতরে ঢুকে একে মূর্তির নাপাকি থেকে পূতপবিত্র করলেন। একেকটা মূর্তির গায়ে তিনি যখন আঘাত করছিলেন, তখন বলছিলেন, জাআল হক ওয়া জাহাকাল বাতিল—সত্য এসে গেছে, মিথ্যা বিতাড়িত হোক…

এভাবে জোহরের নামাজের সময় হয়ে এলো। রাসুল বিলালকে আদেশ করলেন, কাবার ছাদে উঠে আজান দিতে। রাসুলের কথায় হজরত বিলাল কাবার ছাদে উঠে শুরু করলেন সুগভীর সুমধুর সুরের আজান—যা শুনে উপস্থিত সকলেই বিমোহিত হয়েছিল।

মুসলমানরা বিলালের আজানের প্রতিটি বাক্যকে সুউচ্চ স্বরে তাকরার করছিল। আর যারা নওমুসলিম—তাদের অন্তর তখনো কিছুটা কুফুরির দিকে ধাবিত হওয়ায়—তারা তার উন্নত শির দেখে এবং শাশ্বত আজান শুনে হিংসায় জ্বলেপুড়ে যাচ্ছিল। রাসুলের মুয়াজ্জিন হজরত বিলালের এই শির হাশরের ময়দানেও চির উন্নত দেখাবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মক্কা বিজয়ের দিন কাবার ছাদে আজান দিয়েছিলেন যে সাহাবি

আপডেট সময় ০১:১৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

অষ্টম হিজরির ২০ রমজান। ইসলামের ইতিহাসে দিনটি প্রোজ্জ্বল হয়ে আছে ফাতহে মক্কা বা মক্কাবিজয় নামে। সেদিন ১০, ০০০ মুজাহিদকে সাথে নিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বিজয়ীর বেশে প্রবেশ করলেন মক্কায়।

পৃথিবীর ভাগ্যে এরকম মহিমান্বিত বিজয় হয়তো আর দেখা হবে না। কারণ মক্কার মতো একটা প্রতাপান্বিত ঐশর্যময় শহরকে রাসুল জয় করেছেন বিনা রক্তপাতে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আর শহর জয়ের পর ন্যায় ও ক্ষমার যে পরাকাষ্ঠা তিনি দেখিয়েছেন, এরকম দৃষ্টান্ত রাহমাতুল্লিল আলামিনের পক্ষেই সম্ভব।

মক্কাবিজয়ের দিন হজরত বিলাল ছিলেন রাসুলের সাথে—তার ছায়াসঙ্গী হয়ে। রাসুল মাথায় কালো পাগড়ি বেঁধে ঘোড়ায় চড়ে মক্কার প্রাণকেন্দ্র কাবাচত্বরে এলেন। চারিদিকে তখন হাজার হাজার জনতার ভিড়। তাদের মধ্য থেকে যে তিন ব্যক্তি রাসুলের সাথে কাবার ভেতরে প্রবেশ করার সৌভাগ্য লাভ করলেন, হজরত বিলাল ছিলেন তাদের একজন। সেদিন অনেক বড়ো বড়ো সাহাবি তার এই সৌভাগ্য দেখে ঈর্ষাকাতর হয়েছিলেন।

রাসুল কাবার ভেতরে ঢুকে একে মূর্তির নাপাকি থেকে পূতপবিত্র করলেন। একেকটা মূর্তির গায়ে তিনি যখন আঘাত করছিলেন, তখন বলছিলেন, জাআল হক ওয়া জাহাকাল বাতিল—সত্য এসে গেছে, মিথ্যা বিতাড়িত হোক…

এভাবে জোহরের নামাজের সময় হয়ে এলো। রাসুল বিলালকে আদেশ করলেন, কাবার ছাদে উঠে আজান দিতে। রাসুলের কথায় হজরত বিলাল কাবার ছাদে উঠে শুরু করলেন সুগভীর সুমধুর সুরের আজান—যা শুনে উপস্থিত সকলেই বিমোহিত হয়েছিল।

মুসলমানরা বিলালের আজানের প্রতিটি বাক্যকে সুউচ্চ স্বরে তাকরার করছিল। আর যারা নওমুসলিম—তাদের অন্তর তখনো কিছুটা কুফুরির দিকে ধাবিত হওয়ায়—তারা তার উন্নত শির দেখে এবং শাশ্বত আজান শুনে হিংসায় জ্বলেপুড়ে যাচ্ছিল। রাসুলের মুয়াজ্জিন হজরত বিলালের এই শির হাশরের ময়দানেও চির উন্নত দেখাবে।