ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

সাড়ে ৩ ঘণ্টায় জোড়া লাগানো হলো পলিথিনে আনা বিচ্ছিন্ন হাত

  • কুমিল্লা ব্যুরো
  • আপডেট সময় ১২:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৪৮ বার পড়া হয়েছে

গাছের গুঁড়ি নামানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদমসার গ্রামের করাতকল শ্রমিক নজির আহমেদ (৪০)। ট্রাক থেকে নামানোর সময় গুঁড়ি পড়ে তার ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্বজন ও সহকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হাতটি পলিথিনে ভরে তাকে হাসপাতালে নেন।

তবে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় সেই হাতই আবার জোড়া লাগানো সম্ভব হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচারের পর নজির আহমেদ এখন হাতে অনুভূতি পাচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদমসার গ্রামে। নজির আহমেদ ওই এলাকার একটি করাতকলে কাজ করেন। গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) কাজ করার সময় গাছের গুঁড়ি পড়ে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সহকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হাতটি পলিথিনে ভরে তাকে প্রথমে কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পাঠানো হয় কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে।

সেদিন রাতেই সেখানে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচার করে নজির আহমেদের হাত পুনরায় সংযোজন করেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার দলের নেতৃত্ব দেন কুমিল্লার ময়নামতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক আরিফুর রহমান, রহমত উল্লাহ ও এনামুল হক।

সহকারী অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারে সময় গুরুত্বপূর্ণ। রোগী দ্রুত হাসপাতালে আসায় হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব হয়েছে। এটি কুমিল্লায় করা একটি বড় সাফল্য, দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন কুমিল্লাতেই এমন জটিল অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ও অনেক কমে এসেছে।’

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নজির আহমেদ বেডে শুয়ে আছেন, পাশেই আছেন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন তার। নজিরের হাত বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছে। তিনি জোড়া লাগানো হাতে স্পর্শ করলে অনুভব পাচ্ছেন।

আহত নজির আহমেদ বলেন, ‘ট্রাকের ওপর থাইক্কা গাছের খাড়িডা যখন পড়ে, তখন আমার হাতের উপরই পড়ে। চিল্লাইয়া কইলাম, আমার হাত নাই। সবাই হাতটা পলিথিনে ভইরা আইনা আমারে হাসপাতালে নিয়া আসলো।’

জানা গেছে, দিনমজুর নজির আহমেদ তিন সন্তানের বাবা। দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করে সংসার চালান। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল হক বলেন, ‘রোগী অর্থের দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তখন আমরা বলেছি, আগে চিকিৎসা, পরে অর্থের বিষয়টি দেখা যাবে। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

সাড়ে ৩ ঘণ্টায় জোড়া লাগানো হলো পলিথিনে আনা বিচ্ছিন্ন হাত

আপডেট সময় ১২:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাছের গুঁড়ি নামানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদমসার গ্রামের করাতকল শ্রমিক নজির আহমেদ (৪০)। ট্রাক থেকে নামানোর সময় গুঁড়ি পড়ে তার ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্বজন ও সহকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হাতটি পলিথিনে ভরে তাকে হাসপাতালে নেন।

তবে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়ায় সেই হাতই আবার জোড়া লাগানো সম্ভব হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচারের পর নজির আহমেদ এখন হাতে অনুভূতি পাচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদমসার গ্রামে। নজির আহমেদ ওই এলাকার একটি করাতকলে কাজ করেন। গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) কাজ করার সময় গাছের গুঁড়ি পড়ে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সহকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হাতটি পলিথিনে ভরে তাকে প্রথমে কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পাঠানো হয় কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারে।

সেদিন রাতেই সেখানে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচার করে নজির আহমেদের হাত পুনরায় সংযোজন করেন চিকিৎসকরা। অস্ত্রোপচার দলের নেতৃত্ব দেন কুমিল্লার ময়নামতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক আরিফুর রহমান, রহমত উল্লাহ ও এনামুল হক।

সহকারী অধ্যাপক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারে সময় গুরুত্বপূর্ণ। রোগী দ্রুত হাসপাতালে আসায় হাতটি জোড়া লাগানো সম্ভব হয়েছে। এটি কুমিল্লায় করা একটি বড় সাফল্য, দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন কুমিল্লাতেই এমন জটিল অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন এবং চিকিৎসার ব্যয়ও অনেক কমে এসেছে।’

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নজির আহমেদ বেডে শুয়ে আছেন, পাশেই আছেন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন তার। নজিরের হাত বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছে। তিনি জোড়া লাগানো হাতে স্পর্শ করলে অনুভব পাচ্ছেন।

আহত নজির আহমেদ বলেন, ‘ট্রাকের ওপর থাইক্কা গাছের খাড়িডা যখন পড়ে, তখন আমার হাতের উপরই পড়ে। চিল্লাইয়া কইলাম, আমার হাত নাই। সবাই হাতটা পলিথিনে ভইরা আইনা আমারে হাসপাতালে নিয়া আসলো।’

জানা গেছে, দিনমজুর নজির আহমেদ তিন সন্তানের বাবা। দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরিতে কাজ করে সংসার চালান। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা ট্রমা সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল হক বলেন, ‘রোগী অর্থের দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তখন আমরা বলেছি, আগে চিকিৎসা, পরে অর্থের বিষয়টি দেখা যাবে। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’