ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মনোহরগঞ্জে ভাতের হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ২জন আটক ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ : হাসিনা ও রেহানার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা পবিপ্রবি’র ভেটেরিনারী অনুষদের মেইন গেট উদ্বোধন ও শিক্ষার্থীদের সেমিনার ৫ মাস পর সংসদ অধিবেশনে মির্জা আব্বাস, অভিনন্দন জানালেন স্পিকার দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির জীবিকার সন্ধানে সাগরে গিয়ে লাশ হলেন দুই জেলে, নিখোঁজ ২ ২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেপাল সরকারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ জানুয়ারিতে করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনী মাঠে জমজমাট লড়াই

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনী মাঠে জমজমাট লড়াই, আলোচনায় বিএনপি-জামায়াত ও উদীয়মান ইসলামি নেতৃত্ব। সুনামগঞ্জ-৫ আসন—শিল্পনগরী ছাতক ও সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত—বাংলাদেশের রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে বিবেচিত। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে পালাবদল হয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ রাজপথে সক্রিয় ও মাঠে জনপ্রিয় কয়েকজন প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটযুদ্ধ জমে উঠেছে।
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এবং একই কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। উভয়েই ছাতকের বাসিন্দা। কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এর আগেও তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, আর মিজানুর রহমান চৌধুরী ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং একবার ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এবার এই দুই নেতার একজনকে মনোনয়ন দিলে অন্যজন স্বতন্ত্র হয়ে মাঠে থাকতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

এদিকে, বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে অবস্থান নিতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামি। ৫ আগস্টের পর থেকে সংগঠন গোছানো, সভা-সমাবেশ, গণসংযোগসহ সবধরনের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে তারা। ছাতকের বাসিন্দা মাওলানা আবদুস সালাম আল মাদানী জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, তরুণদের মধ্যে ব্যতিক্রমী জনপ্রিয়তা পাওয়া এক নেতা মাওলানা সাদিক সালীমও আলোচনার কেন্দ্রে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা মার্কার প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন মাওলানা সাদিক সালীম। তিনি ইসলামী অঙ্গনে সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তার রয়েছে দেশব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামীতে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সমন্বিত নেতৃত্বে তিনিই এগিয়ে থাকতে পারেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ছাতক উপজেলা শাখার সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আলী আকবর। ইসলামি আলোচক হিসেবে স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাঁর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ ছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে লন্ডনপ্রবাসী কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ নুরুল হক  এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রবাসী নেতা মাওলানা আব্দুল কাদির প্রার্থী হবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, যিনি ছাতকের জাবা মেডিকেল সেন্টারের চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সমাজসেবামূলক কাজ ও গণসংযোগের মাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
তবে এখনও পর্যন্ত মাঠে দেখা যাচ্ছে না গণ-অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি কিংবা এনসিপির কোনো নেতাকে। ভোটারদের ভাষ্যমতে, এই দলগুলো সাংগঠনিকভাবে ছাতক ও দোয়ারাবাজারে একেবারেই নিষ্ক্রিয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। এবার তারা মুক্ত পরিবেশে সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা দুর্নীতিগ্রস্ত, দখলদার বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার ব্যাপারে বেশ সচেতন।
সামনের নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে যেমন প্রত্যাশা, তেমনি প্রার্থীদের ভেতরে দেখা যাচ্ছে নতুন করে জনসম্পৃক্ততা তৈরির প্রতিযোগিতা—যা সুনামগঞ্জ-৫ আসন এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে, নেতৃত্ব রদবদলের পালা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মনোহরগঞ্জে ভাতের হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ২জন আটক

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনী মাঠে জমজমাট লড়াই

আপডেট সময় ০৩:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচনী মাঠে জমজমাট লড়াই, আলোচনায় বিএনপি-জামায়াত ও উদীয়মান ইসলামি নেতৃত্ব। সুনামগঞ্জ-৫ আসন—শিল্পনগরী ছাতক ও সীমান্তবর্তী দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত—বাংলাদেশের রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে বিবেচিত। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে পালাবদল হয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন, কারণ রাজপথে সক্রিয় ও মাঠে জনপ্রিয় কয়েকজন প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোটযুদ্ধ জমে উঠেছে।
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এবং একই কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। উভয়েই ছাতকের বাসিন্দা। কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এর আগেও তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, আর মিজানুর রহমান চৌধুরী ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং একবার ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এবার এই দুই নেতার একজনকে মনোনয়ন দিলে অন্যজন স্বতন্ত্র হয়ে মাঠে থাকতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

এদিকে, বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটিতে অবস্থান নিতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামি। ৫ আগস্টের পর থেকে সংগঠন গোছানো, সভা-সমাবেশ, গণসংযোগসহ সবধরনের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে তারা। ছাতকের বাসিন্দা মাওলানা আবদুস সালাম আল মাদানী জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, তরুণদের মধ্যে ব্যতিক্রমী জনপ্রিয়তা পাওয়া এক নেতা মাওলানা সাদিক সালীমও আলোচনার কেন্দ্রে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা মার্কার প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন মাওলানা সাদিক সালীম। তিনি ইসলামী অঙ্গনে সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে তার রয়েছে দেশব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা। ধারণা করা হচ্ছে, আগামীতে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সমন্বিত নেতৃত্বে তিনিই এগিয়ে থাকতে পারেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে প্রার্থী হয়েছেন ছাতক উপজেলা শাখার সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আলী আকবর। ইসলামি আলোচক হিসেবে স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাঁর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ ছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে লন্ডনপ্রবাসী কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ নুরুল হক  এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রবাসী নেতা মাওলানা আব্দুল কাদির প্রার্থী হবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, যিনি ছাতকের জাবা মেডিকেল সেন্টারের চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সমাজসেবামূলক কাজ ও গণসংযোগের মাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
তবে এখনও পর্যন্ত মাঠে দেখা যাচ্ছে না গণ-অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি কিংবা এনসিপির কোনো নেতাকে। ভোটারদের ভাষ্যমতে, এই দলগুলো সাংগঠনিকভাবে ছাতক ও দোয়ারাবাজারে একেবারেই নিষ্ক্রিয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। এবার তারা মুক্ত পরিবেশে সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা দুর্নীতিগ্রস্ত, দখলদার বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার ব্যাপারে বেশ সচেতন।
সামনের নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে যেমন প্রত্যাশা, তেমনি প্রার্থীদের ভেতরে দেখা যাচ্ছে নতুন করে জনসম্পৃক্ততা তৈরির প্রতিযোগিতা—যা সুনামগঞ্জ-৫ আসন এখন আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে, নেতৃত্ব রদবদলের পালা।