ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মনোহরগঞ্জে ভাতের হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ২জন আটক ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ : হাসিনা ও রেহানার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত মাদক ও বাল্যবিবাহ রোধে ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সভা পবিপ্রবি’র ভেটেরিনারী অনুষদের মেইন গেট উদ্বোধন ও শিক্ষার্থীদের সেমিনার ৫ মাস পর সংসদ অধিবেশনে মির্জা আব্বাস, অভিনন্দন জানালেন স্পিকার দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ গুজব রটাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের আহ্বান রাষ্ট্রপতির জীবিকার সন্ধানে সাগরে গিয়ে লাশ হলেন দুই জেলে, নিখোঁজ ২ ২০ হাজার বাড়ি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেপাল সরকারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৮ জানুয়ারিতে করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‎তিন মাস বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন: জেলেপাড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস

‎‎টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর সুন্দরবন। ইলিশের প্রজনন মৌসুম ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল ধরনের মাছ ধরা, কাঠ ও মধু সংগ্রহ, যাতায়াত এবং অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল।
‎এই দীর্ঘ বিরতিতে কয়রা উপজেলার হাজারো জেলে পরিবার পড়েছিল চরম আর্থিক সংকটে। তবে বন উন্মুক্ত হওয়ার খবরে এখন তাদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আশার আলো।

‎বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরবন বন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস বনের নদীতে মাছ ধরা ও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। জুন থেকে জুলাই এই সময়টা মাছের প্রজনন মৌসুম। এই সময় মাছের পেটে ডিম থাকে। এই সময়ে যদি মাছ আহরণ না করা হয় তাহলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এই কারণে বনে সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখে সরকার। এই তিন মাস পর্যটকদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়।
‎বন বিভাগ জানিয়েছে, এবার জেলে-পাস ও নৌকা অনুমোদনের বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

‎স্থানীয় বনজীবিরা জানান, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ থাকায় গত তিন মাস বেশ কষ্টে কেটেছে। সুদ করে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন পরিশোধের পালা।

‎সুন্দবনের উপর নির্ভরশীল একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবনের ১০০ ভাগের মধ্যে ৫২ ভাগ অভয়ারণ্য। খোলা আছে আছে ৪৮ ভাগ। বাকিটা উন্মুক্ত করতে হবে। কারণ সুন্দরবনের যে জায়গাগুলো উন্মুক্ত সেখানে দুই থেকে তিন হাজার জেলে-বাওয়ালী মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে। এ জন্য চালান উঠানো দায় হয়ে যায়।

‎তারা আরো বলেন, টানা ৩ মাস সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকে। কিন্তু এই সময়ে কিছু অসাধু চক্র বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। যার বেশির ভাগই অভয়ারণ্যে ঘটে থাকে। কিন্তু বনবিভাগের নজর নেই সেদিকে।ফলে এই সময়ে জেলেদের জন্য সুন্দরবন বন্ধ থাকলেও অসাধু কতিপয় রাজনৈতিক, সাংবাদিক, মহাজনদের জন্য সুন্দরবন ছিল বিষ দিয়ে মাছ ধরার এক মোক্ষম সময়।
‎বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার। যা পুরো সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। সুন্দরবনের জলভাগে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মনোহরগঞ্জে ভাতের হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ২জন আটক

‎তিন মাস বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন: জেলেপাড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস

আপডেট সময় ০২:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

‎‎টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর সুন্দরবন। ইলিশের প্রজনন মৌসুম ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল ধরনের মাছ ধরা, কাঠ ও মধু সংগ্রহ, যাতায়াত এবং অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল।
‎এই দীর্ঘ বিরতিতে কয়রা উপজেলার হাজারো জেলে পরিবার পড়েছিল চরম আর্থিক সংকটে। তবে বন উন্মুক্ত হওয়ার খবরে এখন তাদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আশার আলো।

‎বিষয়টি নিশ্চিত করে সুন্দরবন বন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস বনের নদীতে মাছ ধরা ও পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। জুন থেকে জুলাই এই সময়টা মাছের প্রজনন মৌসুম। এই সময় মাছের পেটে ডিম থাকে। এই সময়ে যদি মাছ আহরণ না করা হয় তাহলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এই কারণে বনে সবার প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখে সরকার। এই তিন মাস পর্যটকদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হয়।
‎বন বিভাগ জানিয়েছে, এবার জেলে-পাস ও নৌকা অনুমোদনের বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জেলেদের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

‎স্থানীয় বনজীবিরা জানান, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ বন্ধ থাকায় গত তিন মাস বেশ কষ্টে কেটেছে। সুদ করে টাকা নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে। এখন পরিশোধের পালা।

‎সুন্দবনের উপর নির্ভরশীল একাধিক জেলে জানান, সুন্দরবনের ১০০ ভাগের মধ্যে ৫২ ভাগ অভয়ারণ্য। খোলা আছে আছে ৪৮ ভাগ। বাকিটা উন্মুক্ত করতে হবে। কারণ সুন্দরবনের যে জায়গাগুলো উন্মুক্ত সেখানে দুই থেকে তিন হাজার জেলে-বাওয়ালী মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে। এ জন্য চালান উঠানো দায় হয়ে যায়।

‎তারা আরো বলেন, টানা ৩ মাস সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকে। কিন্তু এই সময়ে কিছু অসাধু চক্র বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করে। যার বেশির ভাগই অভয়ারণ্যে ঘটে থাকে। কিন্তু বনবিভাগের নজর নেই সেদিকে।ফলে এই সময়ে জেলেদের জন্য সুন্দরবন বন্ধ থাকলেও অসাধু কতিপয় রাজনৈতিক, সাংবাদিক, মহাজনদের জন্য সুন্দরবন ছিল বিষ দিয়ে মাছ ধরার এক মোক্ষম সময়।
‎বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার। যা পুরো সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। সুন্দরবনের জলভাগে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়।