ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার

‎কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নিঃস্ব হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ। গত এক মাসে যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া, ফান্দের চর, শালমারা, নুচনি, খেতাবখাসহ কয়োকটি গ্রামের প্রায় তিন শত পরিবারের বাড়িঘরসহ হাজার হাজার ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিতরা কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কেউ বাইরে চলে গেছেন। ‎নদের তীব্র স্রোতে প্রতি মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি সরাচ্ছেন। নদীর তীর থেকে গরু-ছাগল, আসবাবপত্র, বাঁশের বেড়া সবকিছুই যেন ছিন্নমূল মানুষের মতো দিকহারা হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।

নদী ভাঙনের শিকার কৃষক আমজাদ আলী (৭০) বলেন, এ পর্যন্ত আমার বাড়িঘর পাঁচ বার নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে। এখন আবারও বাড়ি ভাঙল। কোথায় যাব চিন্তায় আছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম (৫০), আব্দুল জলিল (৬০) ও আসাদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, সরকার হামার দেখি দেখে না। নদীর ভাঙনে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এবার বাড়িঘর ভাঙলে নিঃস্ব হয়ে যাবে।

‎স্থানীয় চরভিত্তিক গবেষণা ও অধিকার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম জাস্টিস ফর চর’স অ্যান্ড লোকাল রিসার্চের পরিচালক স্বপন কুমার সরকার বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ নদী ভাঙন। প্রতিবছর শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে। কৃষিজমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল কুড়িগ্রামের নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। সরকারকে দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প হাতে নিতে হবে। একইসাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি তুলে ধরা জরুরি। যাতে বিশ্বনেতারা চরের মানুষের পাশে দাঁড়ান।

‎যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (প্যানেল) চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটসহ পুরো গ্রাম ভাঙনের হুমকিতে পড়বে।

কুড়িগ্রাম জেলা খামারবাড়ির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নদীর ভাঙনে কুড়িগ্রামে হাজার হাজার ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এতে কৃষকদের জীবন জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নিঃস্ব শত শত পরিবার

আপডেট সময় ০৫:০৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

‎কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নিঃস্ব হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ। গত এক মাসে যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া, ফান্দের চর, শালমারা, নুচনি, খেতাবখাসহ কয়োকটি গ্রামের প্রায় তিন শত পরিবারের বাড়িঘরসহ হাজার হাজার ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিতরা কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কেউ বাইরে চলে গেছেন। ‎নদের তীব্র স্রোতে প্রতি মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি।
‎সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি সরাচ্ছেন। নদীর তীর থেকে গরু-ছাগল, আসবাবপত্র, বাঁশের বেড়া সবকিছুই যেন ছিন্নমূল মানুষের মতো দিকহারা হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।

নদী ভাঙনের শিকার কৃষক আমজাদ আলী (৭০) বলেন, এ পর্যন্ত আমার বাড়িঘর পাঁচ বার নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে। এখন আবারও বাড়ি ভাঙল। কোথায় যাব চিন্তায় আছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম (৫০), আব্দুল জলিল (৬০) ও আসাদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, সরকার হামার দেখি দেখে না। নদীর ভাঙনে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এবার বাড়িঘর ভাঙলে নিঃস্ব হয়ে যাবে।

‎স্থানীয় চরভিত্তিক গবেষণা ও অধিকার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম জাস্টিস ফর চর’স অ্যান্ড লোকাল রিসার্চের পরিচালক স্বপন কুমার সরকার বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ নদী ভাঙন। প্রতিবছর শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে। কৃষিজমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল কুড়িগ্রামের নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। সরকারকে দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প হাতে নিতে হবে। একইসাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি তুলে ধরা জরুরি। যাতে বিশ্বনেতারা চরের মানুষের পাশে দাঁড়ান।

‎যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (প্যানেল) চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটসহ পুরো গ্রাম ভাঙনের হুমকিতে পড়বে।

কুড়িগ্রাম জেলা খামারবাড়ির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নদীর ভাঙনে কুড়িগ্রামে হাজার হাজার ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এতে কৃষকদের জীবন জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।