ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

কৃষি বিভাগের প্রণোদনার সার, বীজ রাজনৈতিক নেতাদের কবজায়

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিকীকরণ এবং নির্দিষ্ট ফসল আবাদ ও উন্নয়নে উৎসাহিত করার জন্য কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সরকার কৃষকদের আর্থিক বা উপকরণগত সহায়তা প্রদান করে থাকে। এর আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার, বা অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়, যা মূলত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পাওয়ার কথা।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গাজীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি প্রণোদনার তালিকা নিয়ে করা হচ্ছে নয়ছয়। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা কৃষি কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এসব তালিকায়। এছাড়াও একই কৃষকের নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এদিকে এসব অনিয়মের ফলে যোগ্য প্রান্তিক কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রণোদনার অর্থ ও উপকরণ নিয়ে দুর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছেন কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নজরদারির অভাবে এসব কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর যাদের এসব দেখার কথা তারাও এসব অনিয়মের সাথে জড়িত।

সূত্র বলছে, মাঠ পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে প্রকৃত কৃষকরা সার, বীজ ও প্রণোদনা পাচ্ছেন না। মাঠ কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত কৃষকরা কৃষি অফিসের আওতায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে সব সময় বঞ্চিত হচ্ছেন। মাঠ কর্মকর্তারা প্রতিবছর ঘুরেফিরে তাদের পছন্দের লোকদের তালিকাভুক্ত করে সার, বীজ ও কৃষি প্রণোদনা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীপুর উপজেলার এক কৃষক বলেন, আমি প্রায় ৫০ শতাংশ জমি চাষ করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কৃষি অফিসের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। কৃষি অফিসের লোকদের সঙ্গে যাদের ভালো সম্পর্ক, তারাই সব সময় সরকারি প্রণোদনা পায়। এমননকি কে যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাকেও আমরা চিনিনা।

এ উপজেলার কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের বেশিরভাগ প্রকৃত ও দরিদ্র কৃষকই প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের সিন্ডিকেটের লোকজন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নামের তালিকা তৈরি করে। এরপর বিনামূল্যে সার-বীজ উত্তোলন করে কম টাকায় ডিলারদের কাছে বিক্রি করে। পরে ডিলারদের কাছ থেকে কৃষকদের চড়া দামে সেগুলো কিনতে হচ্ছে। এমনকি তালিকায় নাম থাকা স্বত্তেও অধিকাংশ কৃষক সার ও বীজ পাননি। আবার তালিকায় নাম আছে এমন অধিকাংশ কৃষকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর অব্যবহৃত বলে জানা গেছে।

এমন চিত্র জেলার গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জেও। এসব উপজেলার অনেক কৃষকরা জানান, তারা কখনো প্রণোদনা, প্রদর্শনী কিংবা প্রশিক্ষণ এসব পান না। তারা আরো জানান, বিগত দিনে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা, স্থানীয় ইউপি সদস্যরা এসব তালিকা দিতো। সরকার পতনের পর থেকে নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের নেতারা এখন এসব তালিকা করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেন কিন্তু তারা দেখেনও না কে কৃষি কাজ করে।

তবে এসব অভিযোগ অসত্য বলে গাজীপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, আমরা সবসময় প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনা, প্রদর্শনী দেয়ার চেষ্টা করি। তবে কেউ যদি এমন অনিয়ম করে তাহলে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

কৃষি বিভাগের প্রণোদনার সার, বীজ রাজনৈতিক নেতাদের কবজায়

আপডেট সময় ০২:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিকীকরণ এবং নির্দিষ্ট ফসল আবাদ ও উন্নয়নে উৎসাহিত করার জন্য কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সরকার কৃষকদের আর্থিক বা উপকরণগত সহায়তা প্রদান করে থাকে। এর আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার, বা অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ এবং কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা প্রদান করা হয়, যা মূলত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পাওয়ার কথা।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গাজীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি প্রণোদনার তালিকা নিয়ে করা হচ্ছে নয়ছয়। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বা কৃষি কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এসব তালিকায়। এছাড়াও একই কৃষকের নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এদিকে এসব অনিয়মের ফলে যোগ্য প্রান্তিক কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রণোদনার অর্থ ও উপকরণ নিয়ে দুর্নীতি করার সুযোগ পাচ্ছেন কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নজরদারির অভাবে এসব কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর যাদের এসব দেখার কথা তারাও এসব অনিয়মের সাথে জড়িত।

সূত্র বলছে, মাঠ পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে প্রকৃত কৃষকরা সার, বীজ ও প্রণোদনা পাচ্ছেন না। মাঠ কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত কৃষকরা কৃষি অফিসের আওতায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে সব সময় বঞ্চিত হচ্ছেন। মাঠ কর্মকর্তারা প্রতিবছর ঘুরেফিরে তাদের পছন্দের লোকদের তালিকাভুক্ত করে সার, বীজ ও কৃষি প্রণোদনা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীপুর উপজেলার এক কৃষক বলেন, আমি প্রায় ৫০ শতাংশ জমি চাষ করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কৃষি অফিসের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। কৃষি অফিসের লোকদের সঙ্গে যাদের ভালো সম্পর্ক, তারাই সব সময় সরকারি প্রণোদনা পায়। এমননকি কে যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাকেও আমরা চিনিনা।

এ উপজেলার কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের বেশিরভাগ প্রকৃত ও দরিদ্র কৃষকই প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের সিন্ডিকেটের লোকজন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নামের তালিকা তৈরি করে। এরপর বিনামূল্যে সার-বীজ উত্তোলন করে কম টাকায় ডিলারদের কাছে বিক্রি করে। পরে ডিলারদের কাছ থেকে কৃষকদের চড়া দামে সেগুলো কিনতে হচ্ছে। এমনকি তালিকায় নাম থাকা স্বত্তেও অধিকাংশ কৃষক সার ও বীজ পাননি। আবার তালিকায় নাম আছে এমন অধিকাংশ কৃষকের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর অব্যবহৃত বলে জানা গেছে।

এমন চিত্র জেলার গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর, কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জেও। এসব উপজেলার অনেক কৃষকরা জানান, তারা কখনো প্রণোদনা, প্রদর্শনী কিংবা প্রশিক্ষণ এসব পান না। তারা আরো জানান, বিগত দিনে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা, স্থানীয় ইউপি সদস্যরা এসব তালিকা দিতো। সরকার পতনের পর থেকে নতুন নতুন রাজনৈতিক দলের নেতারা এখন এসব তালিকা করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেন কিন্তু তারা দেখেনও না কে কৃষি কাজ করে।

তবে এসব অভিযোগ অসত্য বলে গাজীপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, আমরা সবসময় প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনা, প্রদর্শনী দেয়ার চেষ্টা করি। তবে কেউ যদি এমন অনিয়ম করে তাহলে অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।