ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

‘ছেলেটা আমার বাড়ি আসল ঠিকই, কিন্তু লাশ হইয়া’

‘দুর্ঘটনার আগের দিনই বাপজান ক্যইছিল, এ মাসেই বাড়ি আসব। কপাল দ্যাখো, ছেলেটা আমার বাড়ি আসল ঠিকই, কিন্তু লাশ হইয়া। সড়ক আমার ছেলেরে ক্যাইরা নিলো, আমার তিন কলিজার টুকরারে কাইরা নিলো। এখন আমারে মা বলে ডাকব কে রে? দাদি মা বলে ছুটে আসব কে? আল্লারে! আমার সংসারের সব সুখ শেষ হয়ে গেল।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বিলাপ করছিলেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মুকিমপুর গ্রামের আলেকজান বেগম।
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ হারান তার ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৩), আনোয়ারের স্ত্রী আঁখি আক্তার (২৬) ও তাদের দুই বছরের কন্যা আন্নি খাতুন। এ ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো মুকিমপুর গ্রাম।

আনোয়ারের বাবা খলিল হোসেন বারবার বিলাপ করে বলেন, আমার ছেলে সংসারটা নিয়ে কত স্বপ্ন দেখতো। এখন আমাকে কে বাবা বলে ডাকবে? আর আমার ফুটফুটে নাতনিও দাদা বলে ছুটে আসবে না। সংসারের ভরসা ছিল আনোয়ার, সেই ভরসা এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। কথা বলতে বলতে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহে আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি করতেন আনোয়ার। মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি আশুলিয়ায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় রওনা হন তিনি। পথে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশার পেছনের চাকা খুলে নিয়ন্ত্রণ হারায়। তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু আন্নি। গুরুতর আহত আনোয়ার ও আঁখিকে গাজীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদেরও মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ প্রথমে ঢাকার আশুলিয়ায় নেওয়া হয়। রাতে সেখানে জানাজা শেষে ভোরে গ্রামের বাড়ি মুকিমপুরে আনা হয়। বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গ্রামের কবরস্থানে তিনজনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসমাউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশা গাজীপুরের বাসন থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

‘ছেলেটা আমার বাড়ি আসল ঠিকই, কিন্তু লাশ হইয়া’

আপডেট সময় ০৭:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

‘দুর্ঘটনার আগের দিনই বাপজান ক্যইছিল, এ মাসেই বাড়ি আসব। কপাল দ্যাখো, ছেলেটা আমার বাড়ি আসল ঠিকই, কিন্তু লাশ হইয়া। সড়ক আমার ছেলেরে ক্যাইরা নিলো, আমার তিন কলিজার টুকরারে কাইরা নিলো। এখন আমারে মা বলে ডাকব কে রে? দাদি মা বলে ছুটে আসব কে? আল্লারে! আমার সংসারের সব সুখ শেষ হয়ে গেল।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই বিলাপ করছিলেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মুকিমপুর গ্রামের আলেকজান বেগম।
গতকাল মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ হারান তার ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৩), আনোয়ারের স্ত্রী আঁখি আক্তার (২৬) ও তাদের দুই বছরের কন্যা আন্নি খাতুন। এ ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো মুকিমপুর গ্রাম।

আনোয়ারের বাবা খলিল হোসেন বারবার বিলাপ করে বলেন, আমার ছেলে সংসারটা নিয়ে কত স্বপ্ন দেখতো। এখন আমাকে কে বাবা বলে ডাকবে? আর আমার ফুটফুটে নাতনিও দাদা বলে ছুটে আসবে না। সংসারের ভরসা ছিল আনোয়ার, সেই ভরসা এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। কথা বলতে বলতে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহে আরএফএল কোম্পানিতে চাকরি করতেন আনোয়ার। মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি আশুলিয়ায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় রওনা হন তিনি। পথে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশার পেছনের চাকা খুলে নিয়ন্ত্রণ হারায়। তখন বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু আন্নি। গুরুতর আহত আনোয়ার ও আঁখিকে গাজীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদেরও মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ প্রথমে ঢাকার আশুলিয়ায় নেওয়া হয়। রাতে সেখানে জানাজা শেষে ভোরে গ্রামের বাড়ি মুকিমপুরে আনা হয়। বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে গ্রামের কবরস্থানে তিনজনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসমাউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশা গাজীপুরের বাসন থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।