ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে জীবনযাপন করছেন। হিরু মোল্লার ঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে শুধু আশ্বাসে, কমছে না ভোগান্তি।
গত বছরের ডিসেম্বরে মাটি পরীক্ষার পর স্থানীয়দের আশা জেগেছিল। কিন্তু ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। ফলে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের মানুষের।

জানা গেছে, কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক অংশ (৩, ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) পদ্মার চরের ওপর অবস্থিত। এখানে তিনটি স্কুল, কয়েকটি হাট-বাজার রয়েছে। কয়েক হাজার পরিবার বসবাস করে। প্রতিদিন শত শত মানুষ হিরু মোল্লার ঘাট দিয়ে উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। মালামাল পরিবহন, ফসল আনা-নেওয়া, শিক্ষার্থীদের চলাচল ও অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানান ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে হেঁটে বা যানবাহনে পার হওয়া গেলেও বর্ষায় নৌকা ছাড়া বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই ক্ষতির শিকার হন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রসূতিদের জন্য এ দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও তৈরি হয় বড় সমস্যা।

নদী পার হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল বেপারী বলেন, প্রতি বছরই বর্ষায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সেতু হবে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে আর কোনো খোঁজ মেলে না। এবার রড-সিমেন্ট আনা হলেও কাজ শুরু হয়নি। কেন শুরু হয়নি, তা আমরা জানি না।
রোজিনা আক্তার নামে এক নারী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়ে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। কষ্টটা বলে বোঝাতে পারব না। সেতু হলে চরের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই দূর হতো।

এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহুয়া আফরোজ বলেন, হিরু মোল্লার ঘাটে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার পর প্রয়োজনের তাগিদে দুইবার নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন বর্ষার কারণে কাজ করা সম্ভব নয়। শুষ্ক মৌসুমে দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

তবে কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছে না চরাঞ্চলবাসী। তাদের দাবি- প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত কাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে হবে। একটি সেতুই পারে পদ্মার চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দিতে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

একটি সেতুর জন্য দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় ০৭:০৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে জীবনযাপন করছেন। হিরু মোল্লার ঘাটে সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে শুধু আশ্বাসে, কমছে না ভোগান্তি।
গত বছরের ডিসেম্বরে মাটি পরীক্ষার পর স্থানীয়দের আশা জেগেছিল। কিন্তু ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তা এখন হতাশায় রূপ নিয়েছে। ফলে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের মানুষের।

জানা গেছে, কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের প্রায় অর্ধেক অংশ (৩, ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) পদ্মার চরের ওপর অবস্থিত। এখানে তিনটি স্কুল, কয়েকটি হাট-বাজার রয়েছে। কয়েক হাজার পরিবার বসবাস করে। প্রতিদিন শত শত মানুষ হিরু মোল্লার ঘাট দিয়ে উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। মালামাল পরিবহন, ফসল আনা-নেওয়া, শিক্ষার্থীদের চলাচল ও অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে নানান ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে হেঁটে বা যানবাহনে পার হওয়া গেলেও বর্ষায় নৌকা ছাড়া বিকল্প থাকে না। এতে সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই ক্ষতির শিকার হন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রসূতিদের জন্য এ দুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও তৈরি হয় বড় সমস্যা।

নদী পার হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল বেপারী বলেন, প্রতি বছরই বর্ষায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সেতু হবে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে আর কোনো খোঁজ মেলে না। এবার রড-সিমেন্ট আনা হলেও কাজ শুরু হয়নি। কেন শুরু হয়নি, তা আমরা জানি না।
রোজিনা আক্তার নামে এক নারী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়ে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি। কষ্টটা বলে বোঝাতে পারব না। সেতু হলে চরের মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই দূর হতো।

এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহুয়া আফরোজ বলেন, হিরু মোল্লার ঘাটে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার পর প্রয়োজনের তাগিদে দুইবার নকশা পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন বর্ষার কারণে কাজ করা সম্ভব নয়। শুষ্ক মৌসুমে দ্রুতই কাজ শুরু হবে।

তবে কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছে না চরাঞ্চলবাসী। তাদের দাবি- প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত কাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে হবে। একটি সেতুই পারে পদ্মার চরাঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দিতে।