ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পালন

শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পালন করা হয়েছে।
সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শনিবার  শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন পালন করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে মন্দিরে, বাড়িতে বাড়িত শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন পালন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করেছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে মথুরায় কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন। সেই জন্মতিথি স্মরণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সারা দেশে ও জাতির মঙ্গল কামনায় মন্দিরে মন্দিরে গীতা পাঠ ও বিকেলে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
অষ্টমী তিথি শুক্রবার ১৫ আগস্ট ২০২৫ ইং
ভাদ্র ১৪৩২ বাংলা  শুক্রবার রাত্রি ১ টা ৪৬  মিনিট ২১ সেকেন্ডে শুরু পরদিন শনিবার  রাত ১১ টা ১৮  মিনিট ১৭ সেকেন্ড পর্যন্ত  শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা যাবে।
সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, পৃথিবীতে যখনই অধর্ম বেড়ে গিয়ে ধার্মিক ও সাধারন মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে ধর্মের রক্ষার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতার রুপে পৃথিবীতে নেমে আসে।
জানা যায়, দ্বাপর যুগে অত্যাচারী রাজা কংসের নৃশংসতায় মথুরাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। কংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা শুরু করে। ভক্তের ডাকে সাড়া দেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
রাজা কংস একদিন তার ছোট  বোনকে দেবকী ও তার স্বামী বাসুদেব কে নিয়ে রথে চড়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন সময় দৈববাণী হলো, ” বোন দেবকীর অষ্টম সন্তানই হবে তার মৃত্যুর কারন। ”
রাজা কংস দৈববাণী শুনে সাথে সাথে তার
বোনকে হত্যা  করতে উদ্যত হলেন।  বাসুদেব নিভৃত করলেন।  বাসুদেব বললেন আমাদের দুজনকে কারাগারে আটকে রাখুন।  আমাদের সন্তান হলে আপনার হাতে  তুলে দিব। আপনি আমাদের  সন্তানকে  হত্যা করে  নিজের সংশয় কাটাবেন ।
বাসুদেবের যুক্তি রাজা কংসের ভালো লাগলো। কংস তাদের  কারাবন্দি করে রাখলেন। কারাগারে থাকার সময় দেবকি ও বাসুদেবের একে একে ছয়টি সন্তান কংসের হাতে তুলে দেন। সপ্তম সন্তান হাতে নেবার পরই সে হাসতে হাসতে শূন্যে ভেসে  যায়। কংসকে তার মৃত্যু অবধারিত বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে শূন্যে ভেসে যেতে থাকে।
দেবকির অষ্টম সন্তানের  জন্ম নেয় ভ্রাদ্র মাসের শুক্লা পক্ষের অষ্টমী তিথির রাতে। সেই রাত ছিল প্রচন্ড  ঝড় -বৃষ্টি। বৈরী আবহাওয়ার কারনে কারাগারের ফটকে কোন রক্ষী পাহারায় ছিল না।
এমন সময়  এক দৈববাণীতে সদ্যোজাত ছেলে সন্তানকে নিরাপদে গোকুলে নন্দ – যশোদা দম্পতির কাছে রেখে আসতে বলা হয়। এ সময় কারাগারের দরজাও  খুলে যায়। বাসুদেব ঝড় – বৃষ্টির উপেক্ষা করে ছেলেকে নিয়ে গোকুলে যায়। গোকুলে যশোদার পাশে ছেলেকে রেখে যশোদার মেয়ে সন্তানকে নিয়ে আবার কারাগারে ফিরে আসেন।
গোকুলেই যশোদার কাছে বড় হতে থাকেন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধে মথুরারাজ কংসকে পরাজিত ও হত্যা করে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, পাশবিক শক্তি যখন সত্য, সুন্দর ও পবিত্রতাকে  গ্রাস করতে উদ্যত হয়। ধর্ম সংস্হাপনের জন্য ভক্তের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে ঈশ্বর অবতার রুপে পৃথিবীতে আসেন। পৃথিবীতে যখনই পাপাচার শুরু হয় তখনই শ্রীকৃষ্ণ দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ, সাধুর রক্ষা, ধর্ম সংস্হাপনের অবতার রুপে পৃথিবীতে আসেন।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ( ইসকন) সহ বিভিন্ন সামাজিক – সাংস্কৃতিক ও  ধর্মীয় সংগঠন শ্রীকৃষ্ণে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পালন

আপডেট সময় ০৫:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পালন করা হয়েছে।
সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শনিবার  শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন পালন করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে মন্দিরে, বাড়িতে বাড়িত শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন পালন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করেছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে মথুরায় কংসের কারাগারে শ্রীকৃষ্ণ জন্ম নিয়েছিলেন। সেই জন্মতিথি স্মরণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সারা দেশে ও জাতির মঙ্গল কামনায় মন্দিরে মন্দিরে গীতা পাঠ ও বিকেলে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমীর মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
অষ্টমী তিথি শুক্রবার ১৫ আগস্ট ২০২৫ ইং
ভাদ্র ১৪৩২ বাংলা  শুক্রবার রাত্রি ১ টা ৪৬  মিনিট ২১ সেকেন্ডে শুরু পরদিন শনিবার  রাত ১১ টা ১৮  মিনিট ১৭ সেকেন্ড পর্যন্ত  শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী পালন করা যাবে।
সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, পৃথিবীতে যখনই অধর্ম বেড়ে গিয়ে ধার্মিক ও সাধারন মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে ধর্মের রক্ষার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতার রুপে পৃথিবীতে নেমে আসে।
জানা যায়, দ্বাপর যুগে অত্যাচারী রাজা কংসের নৃশংসতায় মথুরাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। কংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা শুরু করে। ভক্তের ডাকে সাড়া দেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
রাজা কংস একদিন তার ছোট  বোনকে দেবকী ও তার স্বামী বাসুদেব কে নিয়ে রথে চড়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন সময় দৈববাণী হলো, ” বোন দেবকীর অষ্টম সন্তানই হবে তার মৃত্যুর কারন। ”
রাজা কংস দৈববাণী শুনে সাথে সাথে তার
বোনকে হত্যা  করতে উদ্যত হলেন।  বাসুদেব নিভৃত করলেন।  বাসুদেব বললেন আমাদের দুজনকে কারাগারে আটকে রাখুন।  আমাদের সন্তান হলে আপনার হাতে  তুলে দিব। আপনি আমাদের  সন্তানকে  হত্যা করে  নিজের সংশয় কাটাবেন ।
বাসুদেবের যুক্তি রাজা কংসের ভালো লাগলো। কংস তাদের  কারাবন্দি করে রাখলেন। কারাগারে থাকার সময় দেবকি ও বাসুদেবের একে একে ছয়টি সন্তান কংসের হাতে তুলে দেন। সপ্তম সন্তান হাতে নেবার পরই সে হাসতে হাসতে শূন্যে ভেসে  যায়। কংসকে তার মৃত্যু অবধারিত বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে শূন্যে ভেসে যেতে থাকে।
দেবকির অষ্টম সন্তানের  জন্ম নেয় ভ্রাদ্র মাসের শুক্লা পক্ষের অষ্টমী তিথির রাতে। সেই রাত ছিল প্রচন্ড  ঝড় -বৃষ্টি। বৈরী আবহাওয়ার কারনে কারাগারের ফটকে কোন রক্ষী পাহারায় ছিল না।
এমন সময়  এক দৈববাণীতে সদ্যোজাত ছেলে সন্তানকে নিরাপদে গোকুলে নন্দ – যশোদা দম্পতির কাছে রেখে আসতে বলা হয়। এ সময় কারাগারের দরজাও  খুলে যায়। বাসুদেব ঝড় – বৃষ্টির উপেক্ষা করে ছেলেকে নিয়ে গোকুলে যায়। গোকুলে যশোদার পাশে ছেলেকে রেখে যশোদার মেয়ে সন্তানকে নিয়ে আবার কারাগারে ফিরে আসেন।
গোকুলেই যশোদার কাছে বড় হতে থাকেন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধে মথুরারাজ কংসকে পরাজিত ও হত্যা করে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, পাশবিক শক্তি যখন সত্য, সুন্দর ও পবিত্রতাকে  গ্রাস করতে উদ্যত হয়। ধর্ম সংস্হাপনের জন্য ভক্তের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে ঈশ্বর অবতার রুপে পৃথিবীতে আসেন। পৃথিবীতে যখনই পাপাচার শুরু হয় তখনই শ্রীকৃষ্ণ দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ, সাধুর রক্ষা, ধর্ম সংস্হাপনের অবতার রুপে পৃথিবীতে আসেন।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ( ইসকন) সহ বিভিন্ন সামাজিক – সাংস্কৃতিক ও  ধর্মীয় সংগঠন শ্রীকৃষ্ণে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।