ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

রাজবাড়ীতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, শঙ্কায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজবাড়ীতে হু হু করে বাড়ছে সব নদ-নদীর পানি। কোনো কোনো স্থানে পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই। এতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো। পানি বাড়ার কারণে জেলার ৫৭ কিলোমিটার নদী তীরবর্তী অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম।

জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি প্রতিনিয়তই বাড়ছে। পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও খুব শিগগিরই অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে পদ্মা তীরবর্তী যেসব নিম্নাঞ্চল রয়েছে তা প্লাবিত হয়ে অনেক মানুষই পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কার রয়েছেন। পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর, চর সেলিমপুর, কালিতলা, মেছোঘাটা এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া এলাকার কাউলজানি গ্রামের ৩ কিলোমিটার এলাকার ৬০/৭০ বিঘা কৃষিজমি বিলীন হয়েছে। অপরদিকে দৌলতদিয়ার ৩ ও ৭ নং ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনে কয়েকটি ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়ার সবকটি ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী ৪টি গেজ স্টেশনেই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মা নদীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৯১ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৮ দশমিক ২০ মিটার। পদ্মা ও হড়াই নদীর মহেন্দ্রপুর পয়েন্ট পানি ৮ দশমিক ৮২ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্ট পানি বিপৎসীমার ১০ দশমিক ৫০ মিটার। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৯ দশমিক ৮২ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্ট পানির বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৫২ মিটার। এছাড়াও গড়াই নদীর কামারখালী ব্রিজ পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৪৫ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৭৫ মিটার।

সূত্র আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ০৬ মিটার, মহেন্দ্রপুর পয়েন্ট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ১০ মিটার, পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ০৯ মিটার এবং কামারখালীর গড়াই নদীতে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, উজানের পানির চাপে রাজবাড়ীর বিভিন্ন নদ-নদীর পানি গত একসপ্তাহ ধরে বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি এবং নিম্নাঞ্চল বা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, পানি বাড়ার কারণে কয়েকটি স্পটে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে ভাঙন ঠেকাতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

রাজবাড়ীতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, শঙ্কায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ

আপডেট সময় ১২:৫০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজবাড়ীতে হু হু করে বাড়ছে সব নদ-নদীর পানি। কোনো কোনো স্থানে পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই। এতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো। পানি বাড়ার কারণে জেলার ৫৭ কিলোমিটার নদী তীরবর্তী অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম।

জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি প্রতিনিয়তই বাড়ছে। পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও খুব শিগগিরই অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে পদ্মা তীরবর্তী যেসব নিম্নাঞ্চল রয়েছে তা প্লাবিত হয়ে অনেক মানুষই পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কার রয়েছেন। পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর, চর সেলিমপুর, কালিতলা, মেছোঘাটা এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া এলাকার কাউলজানি গ্রামের ৩ কিলোমিটার এলাকার ৬০/৭০ বিঘা কৃষিজমি বিলীন হয়েছে। অপরদিকে দৌলতদিয়ার ৩ ও ৭ নং ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙনে কয়েকটি ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে ও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়ার সবকটি ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী ৪টি গেজ স্টেশনেই পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পদ্মা নদীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৯১ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৮ দশমিক ২০ মিটার। পদ্মা ও হড়াই নদীর মহেন্দ্রপুর পয়েন্ট পানি ৮ দশমিক ৮২ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্ট পানি বিপৎসীমার ১০ দশমিক ৫০ মিটার। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি ৯ দশমিক ৮২ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্ট পানির বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৫২ মিটার। এছাড়াও গড়াই নদীর কামারখালী ব্রিজ পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৪৫ মিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৭৫ মিটার।

সূত্র আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ০৬ মিটার, মহেন্দ্রপুর পয়েন্ট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ১০ মিটার, পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে শূন্য দশমিক ০৯ মিটার এবং কামারখালীর গড়াই নদীতে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এ শামীম বলেন, উজানের পানির চাপে রাজবাড়ীর বিভিন্ন নদ-নদীর পানি গত একসপ্তাহ ধরে বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি এবং নিম্নাঞ্চল বা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, পানি বাড়ার কারণে কয়েকটি স্পটে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে ভাঙন ঠেকাতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে।