রংপুরের বদরগঞ্জে হিন্দু এক পরিবারের ক্রয়কৃত বসত ভিটা দখল নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার রিরুদ্ধে
শুধু তাই নয় ওই বসতভিটা বিএনপি’র নেতাকে লিখে না দিলে হিন্দু এই পরিবারকে দেশ ছাড়ার পাশাপাশি হত্যা করে লাশ গুণ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানান, জমির মালিক ভাদু চন্দ্র রায় গত বৃহস্পতিবার ৯ নং দামোদুর পুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়ার সহ-সভাপতি সেলিম মিয়া ও এই নেতার ভাই হারুন মিয়া ও তার পিতা আঃ কাদেরসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও গত রবিবার পর্যন্ত অবস্থায় নেয়া হয়নি বিএনপি’র নেতা সেলিম মিয়া বিরুদ্ধে ব্যবস্থা।
বদরগঞ্জ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ হিন্দু পরিবার সূত্রে জানাযায়, দামোদুরপুর ইউপির শেখেরহাট ব্যাংকডুবি গ্রামের গণেশ চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে গত ১৪/০৭/২০২৫ ইং তারিখে ভাদু চন্দ্র রায় বসত বাড়ীও উঠানসহ ১২শতক জমি ক্রয় করের যাহার দলিল নং- ৩৬৭৭ । বৃহস্পতিবার ৭আগষ্ট বিএনপি নেতা সেলিম পরিকল্পিত ভাবে দলবদ্য নিয়ে জোর পূর্বক ক্রয়কৃত বশত বাড়ীর ১২ শতক জমির মধ্য বাড়ীর উঠান প্রায় ২ শতক জমি দখল করে বাঁশের বেড়া দেয়। উঠান ২শতক জমিতে বেড়া দেওয়ার কারণে হিন্দু পরিবারের চলাচলের একমাত্র দরজাটি বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী ভাদু চন্দ্র রায় বলেন, আমার বাড়ীর এক মাত্র চলাচলের দরজা বন্ধ করে ২ শতক জমি বিএনপি’র নেতা জোর করে দখল করে। আমি বাধা দিলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ওরা সবাই লাঠি নিয়ে আমাদের মারতে আসে। আর বলে আমরা যদি বাঁশের বেড়ায় হাত দেই তাহলে আমাদেরকে দেশ ছাড়ার হুমকি দেয়।ভাদু চন্দ্র আরোও বলেন,
বসতবাড়ি লিখে না দেই তাহলে আমাদেরকে মেরে লাশ করে লাশ গুণ করবে বলে হুমকি দিয়েছে বিএনপি’র নেতা সেলিম ।
ভাদু চন্দ্র আরোও বলেন,থানায় অভিযোগ করছি ঐ নেতার বিরুদ্ধে কেন তার জন্য আমাদেরকে দেশ ছাড়া করবে।
পুলিশ ব্যবস্থা না উল্টা ওই বিএনপি নেতার পক্ষ নিয়ে তার সঙ্গে আপস করতে বলেছেন। আপসের জন্য থানাতে পুলিশ আমাদের ডেকেছিল আমরা যাইনি।
ভাদুর স্ত্রী রীতি রানী বলেন,আমাদের আগে থাকার জায়গা ছিল না নিচু জায়গা অনেক কষ্ট আছিলাম এখন এই বাড়ীসহ ১২ মতক জমি কিনার পার আমরা ভাল ভাবে থাকতে পাছি । এটাই ওই বিএনপি’র নেতা সেলিমে চোখে পরেছে। এই জায়গাটা তাদের বাড়ীর সাথে তাই ওরা জোর করে আমাদের বাঁশের বেড়া দিয়ে আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্দ করে দিয়ে আমাদের জমি দখর করে। তিনি আরোও বলেন, আমার মেয়ের সোনা গহনা হাঁস মুরগি গরু ছাগল বিক্রি করে আবার মানুষের কাছে ধার দেনা করে আমার চাচা শ্বশুরের কাছ থেকে ১২ শত বসতবাড়ির জায়গা কিনেছি। বসতবাড়ির কিনার পর থেকে ঐ বসতবাড়ীতে বসবাস করছি। কিন্তু হঠাৎ করে এক মাস পর বিএনপি’র নেতা সেলিম বলে ঐ জমি নাকি তারা কিনতে চেয়েছিলেন। বিএনপি’র নেতা সেলিম জমিটি কিনতে না পেরে আমাদের ওপর এখন খুব অত্যাচার করছে আর বলে বসতবাড়ির লিখে দিতে। লিখে না দেওয়াই ক্ষুব্ধ হয়ে সেলিম লোক জন নিয়ে বাঁশের বেড়া দেন প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন দেশ ছাড়তে। রীতি রানী বলেন,আমাদের কি অপরাধ এদেশে জন্ম গ্রহন করা। আমরাকি ন্যায় বিচার পাব না ।
বসত বাড়িতে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেন সেলিম মিয়া, হিন্দুদের দেশ ছাড়ার গুম খুনের অভিযোগ অস্বীকার করলেন। তিনি আরো বলেন ওই জমি ঘেঁষে আমার বাড়ি সেখানে দুই শতক জায়গার আমার খুব দরকার জমির মালিক গণেশ চন্দ্র সাথে আমার কথা হয়েছিল ঐ জমি আমার কাছে বিক্রি করবে। এজন্যে আমার কাছ থেকে গণেশ চন্দ্র ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বায়না নেন কিন্তু গনেশ আমার কাছে জমি না দিয়ে গোপনে ভাদু চন্দ্রর কাছে দলিল করে দেন। আমার বায়না পত্রের টাকা ৩ লাখি ৮০ হাজার টাকা গনেশ ফিরত দিলে তবে ঐ বাঁশের বেড়া তুলবো।
তবে গনেশকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বায়না দেওয়ার কোনো কাগজপত্র দেখতে চাইলে সেলিম দেখাতে পারেননি । অভিযোগ রয়েছে, গনেশ ভাতিজাকে জমি লিখে দেওয়ার পর ওই বিএনপি নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে গনেশকে তুলে নিয়ে জোর করে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নিয়েছেন। গনেশ চন্দ্র ওই ঘটনার পর থেকে জীবন বাঁচাতে মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে হিন্দু পরিবারের জায়গা দখলের অভিযোগ পেয়ে বিষয়টি দেখার জন্য ওই ইউনিয়নের বিএনপি নেতাদের বলেছিলাম। কিন্তু তাঁরা কোনো সমাধন করে দিতে পারেননি । তবে হিন্দু পরিবারের জায়গাটি এভাবে দখলে নেওয়া ঠিক করেনি বিএনপি নেতা সেলিম। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ওসিকে বলা হয়েছে। পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, এঘটনায় দলের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্য, ওই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও গনেশের কাছ থেকে জোর করে ফাকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগটি সত্য বলে বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক পরিতোষ চক্রবর্তী জানান।
বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আতিকুর রহমান বলেন, আমরা দু’পক্ষের দু’টি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা স্থলে পুলিশ পুলিশ পাঠানো হয়েছে। যাতে কোন ধরনের আইন-শৃঙ্খলা অবনতি না ঘটে আমরা দু পক্ষকে থানায় ডেকেছি। তিনি আরোও দুই পক্ষ থানায় না আসলে। তদন্ত শেষে এর সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নুরুন্নবী,ব্যুরো চিফঃ 























