ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

আত্রাইয়ে প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির আমন ধান পানির নিচে,  ক্ষতির মুখে কৃষক

  উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও একটানা ভারি বৃষ্টিপাতে বেড়ে গেছে আত্রাই এবং ছোট যমুনা নদীর পানি। এতে করে আত্রাই উপজেলার নিম্নাঞ্চলে মাঠের রোপণকৃত প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির আমন ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। কৃষকরা বলছেন, ২-৪ দিনের মধ্যে মাঠ থেকে পানি নামা শুরু হলে হয়তো খুব বেশি ক্ষতি হতোনা। তবে বর্তমানে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার কোন সম্ভবনা নেই বললেই চলে।
বরং বৃষ্টিপাত হলে পানি আরো বাড়তে পারে। ফলে আমন আবাদে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই উপজেলার কৃষকরা।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৬ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাতে এবং উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে মনিয়ারী, বিশা, সাহাগোলা ও ভোঁপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ প্লাবিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। যদি ২-৪ দিনের মধ্যে পানি কমতে থাকে তাহলে কিছুটা ধান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন বলেন, তিনি এই মৌসুমে প্রায় ৯০ বিঘা জমিতে
আমন ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু নদী থেকে মাঠে পানি প্রবেশ করায় এবং একটানা ভারি বৃষ্টিপাতে সবগুলো ধান ডুবে গেছে। এসব ধান পানির নিচে পচন ধরেছে। ফলে পানি নেমে গেলেও ধান হওয়ার সম্ভবনা নেই। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মনিয়ারী গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম জানান, তিনি এবার প্রায় ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান রোপণ করেছেন। পানিতে সবগুলো জমির ধান ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
সাহেবগঞ্জ গ্রামের কৃষক মুজাম বলেন, পাঁচুপুর ইউনিয়নের অনেক জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও আবার কালভার্ট বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে অনেক কৃষক বিপদে আছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে না।
মির্জাপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন,আমি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেছিলাম, ঔষধ সার দিয়ে ধানগাছ গুলো বড় হলেও গত কয়েকদিনে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারনে সেগুলো পানিতে ডুবে গেছে।
এদিকে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল বলেন, একটানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নদ-নদীতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন এলাকা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। যদি বৃষ্টিপাত আরো অব্যাহত থাকে তাহলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।#
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

আত্রাইয়ে প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির আমন ধান পানির নিচে,  ক্ষতির মুখে কৃষক

আপডেট সময় ১১:৪৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও একটানা ভারি বৃষ্টিপাতে বেড়ে গেছে আত্রাই এবং ছোট যমুনা নদীর পানি। এতে করে আত্রাই উপজেলার নিম্নাঞ্চলে মাঠের রোপণকৃত প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির আমন ধান পানির নিচে ডুবে গেছে। কৃষকরা বলছেন, ২-৪ দিনের মধ্যে মাঠ থেকে পানি নামা শুরু হলে হয়তো খুব বেশি ক্ষতি হতোনা। তবে বর্তমানে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার কোন সম্ভবনা নেই বললেই চলে।
বরং বৃষ্টিপাত হলে পানি আরো বাড়তে পারে। ফলে আমন আবাদে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই উপজেলার কৃষকরা।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ৬ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে ভারি বৃষ্টিপাতে এবং উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে মনিয়ারী, বিশা, সাহাগোলা ও ভোঁপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ প্লাবিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। যদি ২-৪ দিনের মধ্যে পানি কমতে থাকে তাহলে কিছুটা ধান হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্রাট হোসেন বলেন, তিনি এই মৌসুমে প্রায় ৯০ বিঘা জমিতে
আমন ধান রোপণ করেছেন। কিন্তু নদী থেকে মাঠে পানি প্রবেশ করায় এবং একটানা ভারি বৃষ্টিপাতে সবগুলো ধান ডুবে গেছে। এসব ধান পানির নিচে পচন ধরেছে। ফলে পানি নেমে গেলেও ধান হওয়ার সম্ভবনা নেই। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মনিয়ারী গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম জানান, তিনি এবার প্রায় ১০ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান রোপণ করেছেন। পানিতে সবগুলো জমির ধান ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের দাবি জানান।
সাহেবগঞ্জ গ্রামের কৃষক মুজাম বলেন, পাঁচুপুর ইউনিয়নের অনেক জমি পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও আবার কালভার্ট বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে অনেক কৃষক বিপদে আছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে না।
মির্জাপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন,আমি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করেছিলাম, ঔষধ সার দিয়ে ধানগাছ গুলো বড় হলেও গত কয়েকদিনে নদীতে পানি বৃদ্ধির কারনে সেগুলো পানিতে ডুবে গেছে।
এদিকে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল বলেন, একটানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নদ-নদীতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ আত্রাই রেলওয়ে স্টেশন এলাকা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। যদি বৃষ্টিপাত আরো অব্যাহত থাকে তাহলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।#