ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণের সরকার- সেলিমুজ্জামান এম,পি দর্শক ফেরাতে আবারও প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন পিসিবি প্রধান রাজশাহীর মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, মানববন্ধনে ক্ষোভ হাম উপসর্গে বরিশালে আরও ২ শিশুর মৃত্যু নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার গুঞ্জন ঠাকুরগাঁওয়ে বিতর্কিত পিআইও নুরুন্নবী বদলি: এলাকায় স্বস্তি, তদন্তের দাবি পটুয়াখালীতে সংস্কার কাজে অনিয়ম, ঝুঁকিতে গ্রামীণ সড়কের স্থায়িত্ব বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ রেল টেন্ডারে কারসাজি: প্রকৌশলী শাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের গুজব: সরেজমিনে সত্যতা মেলেনি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্যামনগর উপজেলার নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে ভিডিওতে প্রদর্শিত হাসপাতালের অবকাঠামো এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোর মধ্যে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে, হাসপাতাল চত্বরে ভাঙচুর বা হামলার কোনো চিহ্নও দেখা যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ আগস্ট, শনিবার রাতে। ওইদিন একটি অজ্ঞাত হাসপাতালের ভাঙচুরের দৃশ্য ধারণ করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, শ্যামনগর উপজেলা জামায়াত ও শিবিরের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই করতে সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন করে দেখা যায়, হাসপাতালের মেইন গেট, আসবাবপত্র, চেয়ার-টেবিল কিংবা ভেতরের কোন কক্ষে কোনো ধরনের ভাঙচুরের চিহ্ন নেই। বরং হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খলভাবে চলছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমাদের হাসপাতালে এমন কোনো ঘটনার খবর নেই। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোথাকার, সেটাও আমি জানি না। এখানে কোনো ভাঙচুর বা মারামারির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।”

রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, “আমি নিজেও ফেসবুকে ভিডিওটি দেখেছি। ভিডিওটির সঙ্গে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো মিল নেই। গত কয়েক বছরেও এখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এ গুজব ছড়িয়েছে।”

স্যাকমো মোঃ শাকির হোসেন বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। ভিডিওটি শ্যামনগরের হাসপাতালের নয়। এটি ব্যবহার করে একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে জামায়াত-শিবিরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে ও গুজব ছড়াচ্ছে।”

শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবদুর রহমান বলেন, “ভিডিওটি কোথাকার, সেটিও নিশ্চিত নয়। অথচ আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরাসরি দোষারোপ করা হচ্ছে। এটি আমাদের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচার বলে মনে করছেন, যার মাধ্যমে একটি সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, এ ধরনের গুজবের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে, অন্যথায় জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণের সরকার- সেলিমুজ্জামান এম,পি

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের গুজব: সরেজমিনে সত্যতা মেলেনি

আপডেট সময় ০৮:৩৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের শ্যামনগর উপজেলার নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে ভিডিওতে প্রদর্শিত হাসপাতালের অবকাঠামো এবং শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোর মধ্যে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে, হাসপাতাল চত্বরে ভাঙচুর বা হামলার কোনো চিহ্নও দেখা যায়নি।

ঘটনার সূত্রপাত ৯ আগস্ট, শনিবার রাতে। ওইদিন একটি অজ্ঞাত হাসপাতালের ভাঙচুরের দৃশ্য ধারণ করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, শ্যামনগর উপজেলা জামায়াত ও শিবিরের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে।

পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই করতে সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন করে দেখা যায়, হাসপাতালের মেইন গেট, আসবাবপত্র, চেয়ার-টেবিল কিংবা ভেতরের কোন কক্ষে কোনো ধরনের ভাঙচুরের চিহ্ন নেই। বরং হাসপাতালের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খলভাবে চলছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমাদের হাসপাতালে এমন কোনো ঘটনার খবর নেই। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি কোথাকার, সেটাও আমি জানি না। এখানে কোনো ভাঙচুর বা মারামারির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।”

রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তরিকুল ইসলাম জানান, “আমি নিজেও ফেসবুকে ভিডিওটি দেখেছি। ভিডিওটির সঙ্গে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো মিল নেই। গত কয়েক বছরেও এখানে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এ গুজব ছড়িয়েছে।”

স্যাকমো মোঃ শাকির হোসেন বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। ভিডিওটি শ্যামনগরের হাসপাতালের নয়। এটি ব্যবহার করে একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে জামায়াত-শিবিরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে ও গুজব ছড়াচ্ছে।”

শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবদুর রহমান বলেন, “ভিডিওটি কোথাকার, সেটিও নিশ্চিত নয়। অথচ আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সরাসরি দোষারোপ করা হচ্ছে। এটি আমাদের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আমরা এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”

এ ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচার বলে মনে করছেন, যার মাধ্যমে একটি সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, এ ধরনের গুজবের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে, অন্যথায় জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।