ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

ব্রাজিল থেকে চার বন্দর ঘুরে চট্টগ্রামে আসা কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত

ব্রাজিল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো এক কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বন্দরের মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ রেডিয়েশন ডিটেকটিভ সিস্টেমের মাধ্যমে এটি শনাক্ত হয়।

কনটেইনারটি ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ৬ আগস্ট এটি খালাসের সময় ৪ নম্বর ফটক দিয়ে বের করার সময় তেজস্ক্রিয় সংকেত বাজে। পরবর্তীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটির খালাস স্থগিত করে আলাদা স্থানে রেখে দেয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কনটেইনারটিতে ছিল পুরোনো লোহার টুকরা বা স্ক্র্যাপ। প্রাথমিক পরীক্ষায় তাতে তিনটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থোরিয়াম-২৩২, রেডিয়াম-২২৬ ও ইরিডিয়াম-১৯২ চিহ্নিত হয়েছে। বিকিরণের পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ঘণ্টায় ১ মাইক্রোসিয়েভার্টস ধরা পড়েছে, যা খুব উচ্চ মাত্রার না হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কনটেইনারটি মানুষের সংস্পর্শ এড়াতে আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৩০ মার্চ কনটেইনারটি ব্রাজিলের মানাউস বন্দরে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। এরপর পানামার ক্রিস্টোবাল, নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম ও শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে চট্টগ্রামে আসে। চারটি বন্দরের মধ্যে তিনটিতে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ যন্ত্র থাকলেও কোথাও তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়েনি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, এই স্ক্র্যাপের আমদানিকারক ঢাকার ডেমরার আল আকসা স্টিল মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি মোট পাঁচটি কনটেইনারে ১৩৫ টন স্ক্র্যাপ আমদানি করে। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান বলেন, খালাস স্থগিত করে কনটেইনারটি আলাদা করে রাখা হয়েছে। এখন পরমাণু শক্তি কমিশনকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এসে সরেজমিন তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করবেন। এরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে প্রথমবার কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয় ২০১৪ সালে। চট্টগ্রাম থেকে ভারতে পাঠানোর পথে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে স্ক্র‍্যাপ বোঝাই কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়ে। কনটেইনারটি চট্টগ্রামে ফেরত আনার পর আন্তর্জাতিক দলের সহায়তায় রেডিয়াম বেরিলিয়াম নামের তেজস্ক্রিয় পদার্থ আলাদা করা হয়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

ব্রাজিল থেকে চার বন্দর ঘুরে চট্টগ্রামে আসা কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত

আপডেট সময় ০১:৫১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

ব্রাজিল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো এক কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বন্দরের মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ রেডিয়েশন ডিটেকটিভ সিস্টেমের মাধ্যমে এটি শনাক্ত হয়।

কনটেইনারটি ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ৬ আগস্ট এটি খালাসের সময় ৪ নম্বর ফটক দিয়ে বের করার সময় তেজস্ক্রিয় সংকেত বাজে। পরবর্তীতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটির খালাস স্থগিত করে আলাদা স্থানে রেখে দেয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, কনটেইনারটিতে ছিল পুরোনো লোহার টুকরা বা স্ক্র্যাপ। প্রাথমিক পরীক্ষায় তাতে তিনটি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থোরিয়াম-২৩২, রেডিয়াম-২২৬ ও ইরিডিয়াম-১৯২ চিহ্নিত হয়েছে। বিকিরণের পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ঘণ্টায় ১ মাইক্রোসিয়েভার্টস ধরা পড়েছে, যা খুব উচ্চ মাত্রার না হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে কনটেইনারটি মানুষের সংস্পর্শ এড়াতে আলাদা করে রাখা হয়েছে এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৩০ মার্চ কনটেইনারটি ব্রাজিলের মানাউস বন্দরে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। এরপর পানামার ক্রিস্টোবাল, নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম ও শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে চট্টগ্রামে আসে। চারটি বন্দরের মধ্যে তিনটিতে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্তকরণ যন্ত্র থাকলেও কোথাও তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়েনি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, এই স্ক্র্যাপের আমদানিকারক ঢাকার ডেমরার আল আকসা স্টিল মিলস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি মোট পাঁচটি কনটেইনারে ১৩৫ টন স্ক্র্যাপ আমদানি করে। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান বলেন, খালাস স্থগিত করে কনটেইনারটি আলাদা করে রাখা হয়েছে। এখন পরমাণু শক্তি কমিশনকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এসে সরেজমিন তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা করবেন। এরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে প্রথমবার কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয় ২০১৪ সালে। চট্টগ্রাম থেকে ভারতে পাঠানোর পথে শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দরে স্ক্র‍্যাপ বোঝাই কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তা ধরা পড়ে। কনটেইনারটি চট্টগ্রামে ফেরত আনার পর আন্তর্জাতিক দলের সহায়তায় রেডিয়াম বেরিলিয়াম নামের তেজস্ক্রিয় পদার্থ আলাদা করা হয়।