ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছাত্রদলের পরিণতি ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে : সারজিস আলম যাদের কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা ছিল না, তারা উপদেষ্টা হয়েছিল : পার্থ ভারতে যাওয়ার সময় কৃষক লীগ নেতা গ্রেপ্তার হাসিনা কোনো বক্তব্য দিলে দায় নেবে না ভারত: রণধীর জয়সওয়াল আগামী প্রজন্মের স্বার্থেই সংবিধান সংশোধন করা হবে : চিফ হুইপ জনগণ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ জুলাই চেতনায় গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে ২৮ দিনের সন্তান নিয়ে উধাও গৃহবধূ

মেয়ের জন্মের দুই দিন আগে শহীদ হন ইসহাক

চারিদিকে যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেই জন্ম হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মো. ইসহাক আলীর প্রথম সন্তানের। মেয়ের নাম রাখা হয় আছিয়া। পরে কেতাবি নাম পায় মোছা. ইসমত আরা বেগম। ১৯৭১ সালের ১ এপ্রিলের ঘটনা এটি। এই আনন্দঘন মুহূর্ত দেখে যেতে পারেননি মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলী। মেয়ের জন্মের ঠিক দুই দিন আগে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন এই বীরযোদ্ধা।

kalerkantho

শহীদ বাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে সম্প্রতি ইসমত আরা এসব তথ্য জানান। বড় হয়ে মা ও স্বজনদের কাছ থেকে শুনেছেন তিনি এই ঘটনা।

বাবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন ইসমত আরা। নিজেকে সামলে নিয়ে মায়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনা উল্লেখ করে আবার বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার সময় বাবা তাঁর মাকে বলেছিলেন, ফিরে এসে তাঁকে (ইসমত) নিয়ে ছবি তুলবেন। কিন্তু তা আর হয়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলী ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রথম শহীদ। উপজেলার বীরহলি গ্রামের এই বীরযোদ্ধার একমাত্র মেয়ে ইসমত আরা।

বাবার সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে ইসমত আরা জানান, যুদ্ধে যাওয়ার আগে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে লন্ড্রির দোকান চালাতেন তাঁর বাবা। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ দিনাজপুরে তৎকালীন ইপিআর (ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) ক্যাম্প আক্রমণ করতে গিয়ে বাবাসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ নিয়ে এসে পীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও পাকা সড়কের পশ্চিমে পীরগঞ্জের পীরডাঙ্গী কবরস্থানে দাফন করেন। পরে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর সমাধি সংরক্ষণ করা হয়।

পরিবারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ইসমত আরা জানান, অভাবের সংসারে উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর পড়তে পারেননি তিনি। মায়ের সঙ্গে একটি ছাপরাঘরে তিনি থাকেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামী শহরে ছোটখাটো কাজ করেন। বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাই এখন তাঁদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৫৯ বিলিয়ন ডলার

মেয়ের জন্মের দুই দিন আগে শহীদ হন ইসহাক

আপডেট সময় ০৯:৪৮:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

চারিদিকে যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেই জন্ম হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মো. ইসহাক আলীর প্রথম সন্তানের। মেয়ের নাম রাখা হয় আছিয়া। পরে কেতাবি নাম পায় মোছা. ইসমত আরা বেগম। ১৯৭১ সালের ১ এপ্রিলের ঘটনা এটি। এই আনন্দঘন মুহূর্ত দেখে যেতে পারেননি মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলী। মেয়ের জন্মের ঠিক দুই দিন আগে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন এই বীরযোদ্ধা।

kalerkantho

শহীদ বাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে সম্প্রতি ইসমত আরা এসব তথ্য জানান। বড় হয়ে মা ও স্বজনদের কাছ থেকে শুনেছেন তিনি এই ঘটনা।

বাবার সম্পর্কে বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন ইসমত আরা। নিজেকে সামলে নিয়ে মায়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনা উল্লেখ করে আবার বলেন, যুদ্ধে যাওয়ার সময় বাবা তাঁর মাকে বলেছিলেন, ফিরে এসে তাঁকে (ইসমত) নিয়ে ছবি তুলবেন। কিন্তু তা আর হয়নি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলী ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রথম শহীদ। উপজেলার বীরহলি গ্রামের এই বীরযোদ্ধার একমাত্র মেয়ে ইসমত আরা।

বাবার সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে ইসমত আরা জানান, যুদ্ধে যাওয়ার আগে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে লন্ড্রির দোকান চালাতেন তাঁর বাবা। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ দিনাজপুরে তৎকালীন ইপিআর (ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) ক্যাম্প আক্রমণ করতে গিয়ে বাবাসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ নিয়ে এসে পীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও পাকা সড়কের পশ্চিমে পীরগঞ্জের পীরডাঙ্গী কবরস্থানে দাফন করেন। পরে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর সমাধি সংরক্ষণ করা হয়।

পরিবারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ইসমত আরা জানান, অভাবের সংসারে উচ্চ মাধ্যমিকের পর আর পড়তে পারেননি তিনি। মায়ের সঙ্গে একটি ছাপরাঘরে তিনি থাকেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামী শহরে ছোটখাটো কাজ করেন। বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাই এখন তাঁদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।