ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি এক মাসে দুইবার বাড়লো এলপিজির দাম, ১২ কেজি ১৯৪০ টাকা ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু সেই ভুয়া আজিজের সহযোগী ইউসুফ রিমান্ডে জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু সিন্ডিকেটে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট হচ্ছে তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচি ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসচাপায় ঠিকাদার নিহত চুয়াডাঙ্গায় ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে ফের উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মোটরসাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডাকসু
সংবাদ প্রকাশের জেরে

সাংবাদিকের হাঁটু ভেঙে দিতে চাওয়া অধ্যক্ষ এখনো বহাল

রংপুরের মিঠাপুকুরের বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় চুক্তিতে নকল সরবরাহের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হাঁটু ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৯ দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে হুমকির ঘটনায় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মের দায়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মণ।
এ ঘটনায় শঙ্কা জানিয়েছেন হুমকির শিকার সাংবাদিক খন্দকার রাকিবুল ইসলাম। তিনি দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে রংপুরে কর্মরত আছেন।
এর আগে গত সোমবার (২১ এপ্রিল) ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, গণিত, রসায়ন, পদার্থ ও জীব বিজ্ঞানসহ ছয়টি বিষয়ের প্রতিপত্রে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার চুক্তিতে পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমের যোগসাজশে ওই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হায়দার, অলি, রায়হান, সোহাগীকে দিয়ে প্রতি রুমে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ প্রচারের পরেই ওই দিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রসচিব অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম মুঠোফোনে সাংবাদিক খন্দকার রাকিবুল ইসলামকে হাঁটু ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়ার হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এছাড়াও ওই রিপোর্টের জন্য সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক খন্দকার রাকিবুল ইসলাম মাতৃভূমিকে জানান, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে নকল সরবরাহ নিয়ে রিপোর্ট করেছিলাম। রিপোর্টের পর যে ভাষায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এই ভাষা কোনো শিক্ষকের হতে পারে না। ঘটনার পরেই থানায় জিডি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী। কিন্তু আজ অবধি চাকরি বিধির শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মের দায়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সুকৌশলে বিচার বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এই অধ্যক্ষকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিকাশ চন্দ্র বর্মণ জানান, হুমকির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমরা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। অপরদিকে এ ঘটনার দায় নির্ধারণ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পেলে চলতি সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রংপুর জেলা শিক্ষা অফিসার এনায়েত হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আমি তদন্ত করেছি। এটি ফৌজদারি অপরাধের বিষয়। এ বিষয়ে থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিবে। অধ্যক্ষ পদে থেকে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের দায়ে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন ডিসি অফিসে মিটিংয়ে আছি, পরে আপনার সঙ্গে কথা বলবো।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি থানা পুলিশের বিষয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে কাস্টমস কর্মকর্তাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলা, প্রত্যাহারে হুমকির দাবি

সংবাদ প্রকাশের জেরে

সাংবাদিকের হাঁটু ভেঙে দিতে চাওয়া অধ্যক্ষ এখনো বহাল

আপডেট সময় ১০:৩০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

রংপুরের মিঠাপুকুরের বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় চুক্তিতে নকল সরবরাহের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হাঁটু ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৯ দিনেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে হুমকির ঘটনায় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মের দায়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মণ।
এ ঘটনায় শঙ্কা জানিয়েছেন হুমকির শিকার সাংবাদিক খন্দকার রাকিবুল ইসলাম। তিনি দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে রংপুরে কর্মরত আছেন।
এর আগে গত সোমবার (২১ এপ্রিল) ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র, গণিত, রসায়ন, পদার্থ ও জীব বিজ্ঞানসহ ছয়টি বিষয়ের প্রতিপত্রে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার চুক্তিতে পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলমের যোগসাজশে ওই প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হায়দার, অলি, রায়হান, সোহাগীকে দিয়ে প্রতি রুমে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ প্রচারের পরেই ওই দিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রসচিব অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম মুঠোফোনে সাংবাদিক খন্দকার রাকিবুল ইসলামকে হাঁটু ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়ার হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এছাড়াও ওই রিপোর্টের জন্য সাংবাদিকের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক খন্দকার রাকিবুল ইসলাম মাতৃভূমিকে জানান, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে নকল সরবরাহ নিয়ে রিপোর্ট করেছিলাম। রিপোর্টের পর যে ভাষায় আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এই ভাষা কোনো শিক্ষকের হতে পারে না। ঘটনার পরেই থানায় জিডি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী। কিন্তু আজ অবধি চাকরি বিধির শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মের দায়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। সুকৌশলে বিচার বিভাগ, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর এই অধ্যক্ষকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিকাশ চন্দ্র বর্মণ জানান, হুমকির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমরা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। অপরদিকে এ ঘটনার দায় নির্ধারণ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পেলে চলতি সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রংপুর জেলা শিক্ষা অফিসার এনায়েত হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আমি তদন্ত করেছি। এটি ফৌজদারি অপরাধের বিষয়। এ বিষয়ে থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিবে। অধ্যক্ষ পদে থেকে শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের দায়ে চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন ডিসি অফিসে মিটিংয়ে আছি, পরে আপনার সঙ্গে কথা বলবো।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত আছি। এটি থানা পুলিশের বিষয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।