২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনের বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এবং শাহবাগী নেত্রী লাকি আক্তারসহ দেশ বিরোধী সকল সেবাদাসদের গ্রেফতারের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ইনকিলাব মঞ্চ।
আজ ( ১৩ মার্চ,২০২৫) বিক্ষোভ মিছিলটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে শুরু হয়ে ঢাকা -কুয়াকাটা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় ।
উক্ত সমাবেশে দর্শণ বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার সায়েম বলেন, “ আমরা দেখেছি হাসিনার শাসনে ফ্যাসিস্ট বিরোধী কোনো শক্তি যাতে তৈরি না হয় শাহবাগিরা তার সকল চেষ্টাই করেছে, আমরা দেখেছি হাসিনা রেজিমে এই শাহবাগীরা দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র করেছে! আমরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বলে দিতে চাই এটা ২০১৩ সাল না এটা ২০২৫ সাল। এদেশের মানুষ যুদ্ধ করে হাসিনা রেজিমের পতন ঘটিয়েছে। শাহবাগীরা যদি মনে করে আগের রেজিমের মতো তারা নীল-নকশা বাস্তবায়ন করবে তাদেরকে সে সুযোগ দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ”
এছাড়াও তিনি ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন,
১. ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিস্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে কেউ মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করলে তাকেও সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
২. বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিশাবে মব তৈরি করে দায়িত্বরত নিরস্ত্র পুলিশের উপর হামলাকারীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
৩. অবিলম্বে শাপলার কসাই লাকি আক্তার ও তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী দোসরদের গ্রেফতার করে শাহবাগের ২০১৩ সালের রাষ্ট্রবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচন করতে হবে।
৪. জাতিসংঘকে অন্তর্ভুক্ত করে শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার স্বাধীন বিচারিক তদন্ত কমিশন গঠন করে এই গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।
৫. অবিলম্বে জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে গণহত্যাকারী দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
এছাড়াও বক্তারা বলেন, “শাহবাগ আন্দোলনের নামে যারা বিচারহীনতার সংস্কৃতি কায়েম করতে চেয়েছে, তাদের বিচার করতে হবে। লাকি আক্তারসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
উক্ত সমাবেশে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মইনুল ইসলাম বলেন, “ ফ্যাসিবাদী হাসিনা ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তিকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে যে নাট্যমঞ্চের মাধ্যমে সেই নাট্যমঞ্চের নাম গণজাগরণ মঞ্চ। এটি গণজাগরণ মঞ্চ নয় এটি ছিলো গণতন্ত্র বিরোধী মঞ্চ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছে কিন্তু সেই গণজাগরণ মঞ্চের কুশীলবরা এখনো রয়ে গেছে, তারা আরেকটি গনজাগরণ মঞ্চ তৈরি করতে চায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই জুলাই অভ্যূত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আর কোনো গণজাগরণ মঞ্চের মতো আর কোনো নাট্যমঞ্চ হতে দেওয়া হবে না”
আব্দুল্লাহ আল মামুন, ববি প্রতিনিধি 



















