ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাইয়ের ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার মামলায় তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ বিয়েবাড়িতে খাসির বদলে মুরগির মাংস দেওয়ায় তুমুল মারামারি নেপালে আবার কেন জেন-জি বিক্ষোভ, নেপথ্যে কী? আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে সমর্থন ট্রাম্প প্রশাসনের! রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী ভোলায় সমাজসেবা প্রশিক্ষণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ একটি ঘর, এক টুকরো স্বপ্ন-ইউএনও ও RSUF ফাউন্ডেশনের মানবিক উপহার কালিহাতীতে মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংবিরোধী প্রচার সভা অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় কমিয়ে অর্ধেক করল সরকার

প্রয়োজনে কৃষকের পাশে নেই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষকদের উৎপাদনে নিতে হচ্ছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন রোগ-বালাইয়ে জন্য একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদনেও। এমন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগকে কতটা পাশে পাচ্ছেন কৃষক? একাধিক কৃষকের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ তো দূরের কথা, অনেকেই তাদের চিনেনও না। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে রয়েছেন তারা। গাজীপুর জেলায় বেশি আবাদ হয় কাঁঠাল, কলা, পান, ধানসহ নানা শাক-সবজি ও ফসল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে কৃষকদের।

কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে একই জাতের বেগুন গাছে দুই-তিন রংয়ের ও আকৃতির বেগুন ফলছে। বেড়েছে নিত্য নতুন রোগবালাই। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ তার। কৃষক বকুল ইসলাম বলেন, নিজেই নানান কীটনাশক দিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছি। দোকানে গিয়ে পরামর্শ করে মেডিসিন দিচ্ছি। সার দিচ্ছি, আবার কেউ বললে ঔষধ দিচ্ছি। কৃষি বিভাগ থেকে সহজে কোনো পরামর্শ পাচ্ছি না। শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদে স্যার-ম্যাডামরা বসে। কাজ ফেলে বিভিন্ন সময় গিয়ে দেখি রুম তালাবদ্ধ। ফোন দিলে বলে, বাইরে বা দূরে আছি।

গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলার একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে সহযোগিতা মেলে না। কৃষি কর্মকর্তার দেখাই তারা পান না। পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ কোথাও!

বিকেল চারটায় জেলার সদর উপজেলা কৃষি অফিস ও সাড়ে চারটায় কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে কোনো উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মচারী বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অফিসে মিটিং বা বিশেষ প্রয়োজনে আসেন। স্যাররা ফোন দিলে বলেন মাঠে আছি। মাঝে মাঝে স্যাররা তাদের ব্লকে বা ইউনিয়নে গেলে তাদের অবগত করে তখন তারা ওখানে যায়।

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, তারা সব সময়ই কৃষকের পাশে রয়েছেন। তারা সার্বক্ষণিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তবে যদি কেউ অভিযোগ করেন যে, তাদের কাছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা যান না সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। আগের চেয়ে কৃষকরা এখন অনেক অভিজ্ঞ। তবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা প্রদানের। আমি বিষয়টি নিয়ে সকল উপজেলা কৃষি অফিসারদের সাথে কথা বলবো।

এদিকে তথ্য বলছে, প্রতিটি ইউনিয়নেই কৃষকদের সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ দিতে দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের কাছে পান না কৃষক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ১২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৩২ কোটি ডলার

প্রয়োজনে কৃষকের পাশে নেই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা

আপডেট সময় ১১:২৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষকদের উৎপাদনে নিতে হচ্ছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন রোগ-বালাইয়ে জন্য একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদনেও। এমন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগকে কতটা পাশে পাচ্ছেন কৃষক? একাধিক কৃষকের অভিযোগ, দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ তো দূরের কথা, অনেকেই তাদের চিনেনও না। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে রয়েছেন তারা। গাজীপুর জেলায় বেশি আবাদ হয় কাঁঠাল, কলা, পান, ধানসহ নানা শাক-সবজি ও ফসল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে কৃষকদের।

কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নের এক কৃষক জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে একই জাতের বেগুন গাছে দুই-তিন রংয়ের ও আকৃতির বেগুন ফলছে। বেড়েছে নিত্য নতুন রোগবালাই। তবে কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগ তার। কৃষক বকুল ইসলাম বলেন, নিজেই নানান কীটনাশক দিয়ে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছি। দোকানে গিয়ে পরামর্শ করে মেডিসিন দিচ্ছি। সার দিচ্ছি, আবার কেউ বললে ঔষধ দিচ্ছি। কৃষি বিভাগ থেকে সহজে কোনো পরামর্শ পাচ্ছি না। শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদে স্যার-ম্যাডামরা বসে। কাজ ফেলে বিভিন্ন সময় গিয়ে দেখি রুম তালাবদ্ধ। ফোন দিলে বলে, বাইরে বা দূরে আছি।

গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলার একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে সহযোগিতা মেলে না। কৃষি কর্মকর্তার দেখাই তারা পান না। পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ কোথাও!

বিকেল চারটায় জেলার সদর উপজেলা কৃষি অফিস ও সাড়ে চারটায় কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে কোনো উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা কৃষি অফিসের এক কর্মচারী বলেন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অফিসে মিটিং বা বিশেষ প্রয়োজনে আসেন। স্যাররা ফোন দিলে বলেন মাঠে আছি। মাঝে মাঝে স্যাররা তাদের ব্লকে বা ইউনিয়নে গেলে তাদের অবগত করে তখন তারা ওখানে যায়।

কৃষকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, তারা সব সময়ই কৃষকের পাশে রয়েছেন। তারা সার্বক্ষণিক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তবে যদি কেউ অভিযোগ করেন যে, তাদের কাছে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা যান না সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। আগের চেয়ে কৃষকরা এখন অনেক অভিজ্ঞ। তবে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা প্রদানের। আমি বিষয়টি নিয়ে সকল উপজেলা কৃষি অফিসারদের সাথে কথা বলবো।

এদিকে তথ্য বলছে, প্রতিটি ইউনিয়নেই কৃষকদের সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ দিতে দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা। তবে অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের কাছে পান না কৃষক।