ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বগুড়ায় সোনাতলা বিএনপি নেতা ও তাঁর লোকজনের হামলায় আহত যুবদল নেতা রাশেদুল হাসান মৃত্যু

বগুড়ার সোনাতলায় বিএনপি নেতা ও তাঁর লোকজনের হামলায় আহত যুবদল নেতা রাশেদুল হাসান (২৭) মারা গেছেন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হারুনার রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত রাশেদুল সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাকুল্লা বাজারে রাশেদুলের ওপর হামলা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান বাটালু ও তাঁর লোকজন। এদিকে আজ রাশেদুলের মৃত্যুর খবর শুনে বিএনপি নেতা হান্নান ও তাঁর সহযোগীদের চার-পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর করেছেন বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা।
রাশেদুলের ওপর হামলার কারণ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে এলাকাবাসী তিন পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান। বাকি দুটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী হাসান নারুন এবং বগুড়া শহর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাজেদুর রহমান জুয়েলএই বিভক্তি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জামায়াত নেতা জুয়েল ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল নিয়ে পাকুল্লা বাজারে মহড়া দেন। ওই দিন হান্নান দাবি করেছিলেন, জুয়েল তাঁর বাড়িতে আক্রমণ করতে যান। তাঁদের মোটরসাইকেল বহরে যুবদল নেতা রাশেদ ছিলেন। জুয়েল ফিরে যাওয়ার পর কে বা কারা রাশেদুলের ওপর হামলা করেন। বিএনপি নেতা আলী হাসান বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় যুবদল নেতা রাশেদ মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বাটালুর (হান্নান) নেতৃত্বে তাঁর লোকজন ধাওয়া করে। রাশেদ মোটরসাইকেল ফেলে রেখে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেই পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন্নবি বলেন, ‘কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই জের ধরে রাশেদ নামের একজনকে মারধর করা হয়। আজ শুক্রবার রাশেদ মারা গেলে তাঁর পক্ষের লোকজন বাটালু (হান্নান) ও তাঁর লোকজনের চার-পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর করেন। এর আগেই বাটালু ও তাঁর লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। রাশেদুল মারা যাওয়ার খবরে পাকুল্লা বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাশেদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্ব শ্রমিক দিবসে কুমিল্লায় তরুণদের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ

বগুড়ায় সোনাতলা বিএনপি নেতা ও তাঁর লোকজনের হামলায় আহত যুবদল নেতা রাশেদুল হাসান মৃত্যু

আপডেট সময় ১২:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

বগুড়ার সোনাতলায় বিএনপি নেতা ও তাঁর লোকজনের হামলায় আহত যুবদল নেতা রাশেদুল হাসান (২৭) মারা গেছেন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হারুনার রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত রাশেদুল সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। অভিযোগ রয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাকুল্লা বাজারে রাশেদুলের ওপর হামলা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান বাটালু ও তাঁর লোকজন। এদিকে আজ রাশেদুলের মৃত্যুর খবর শুনে বিএনপি নেতা হান্নান ও তাঁর সহযোগীদের চার-পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর করেছেন বিএনপি ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা।
রাশেদুলের ওপর হামলার কারণ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাকুল্লা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে এলাকাবাসী তিন পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান। বাকি দুটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী হাসান নারুন এবং বগুড়া শহর জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাজেদুর রহমান জুয়েলএই বিভক্তি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জামায়াত নেতা জুয়েল ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল নিয়ে পাকুল্লা বাজারে মহড়া দেন। ওই দিন হান্নান দাবি করেছিলেন, জুয়েল তাঁর বাড়িতে আক্রমণ করতে যান। তাঁদের মোটরসাইকেল বহরে যুবদল নেতা রাশেদ ছিলেন। জুয়েল ফিরে যাওয়ার পর কে বা কারা রাশেদুলের ওপর হামলা করেন। বিএনপি নেতা আলী হাসান বলেন, ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় যুবদল নেতা রাশেদ মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় বাটালুর (হান্নান) নেতৃত্বে তাঁর লোকজন ধাওয়া করে। রাশেদ মোটরসাইকেল ফেলে রেখে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেই পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ বিষয়ে সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিলাদুন্নবি বলেন, ‘কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক দিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই জের ধরে রাশেদ নামের একজনকে মারধর করা হয়। আজ শুক্রবার রাশেদ মারা গেলে তাঁর পক্ষের লোকজন বাটালু (হান্নান) ও তাঁর লোকজনের চার-পাঁচটি বাড়ি ভাঙচুর করেন। এর আগেই বাটালু ও তাঁর লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। রাশেদুল মারা যাওয়ার খবরে পাকুল্লা বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাশেদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।