সংবাদ শিরোনাম ::
দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির স্টাফ রিপোর্টার প্রিয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি শহীদ সন্তানের মায়ের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণে অশ্রুসিক্ত চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি শনিবারকে ছুটির দিন ভেবে পরীক্ষা মিস শাহনাজের, পরে গিয়েও মিলল না প্রবেশের অনুমতি দেশের সব হাসপাতালে ৬ নির্দেশনা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে : ডেপুটি স্পিকার কৃমি নির্মূল করে যে পাতার রস শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৮২ মাদক কারবারি যত প্রভাবশালীই হোক তার জায়গা সমাজে হবে না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী কেন শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গেলেন না শাকিব খান? ১৭ বছরে অনেক নির্যাতনেও মাথা নত করিনি : মির্জা ফখরুল

৩৭ কোটি টাকার দরপত্রে আগাম দুর্নীতির আয়োজন মতিন আব্দুল্লাহ মতিন আব্দুল্লাহ

রাজধানীর গাবতলীতে সুইপারদের বহুতল আবাসন ভবনের লিফট কেনায় পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) লঙ্ঘনে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লিফট সরবরাহে ঠিকাদারের যোগ্যতার মাপকাঠি চাওয়ার পাশাপাশি কারিগরি কিছু বিষয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিধিমোতাবেক এ ধরনের স্পেসিফিকেশন চাওয়ার নিয়ম নেই। এর ফলে আগে থেকে সমঝোতার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারণ করার সুযোগ থেকে যায়। এ বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিকার দাবি করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছে দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর ডিএনসিসির গাবতলী সুইপার কলোনির বহুতলবিশিষ্ট সুইপার কলোনির ৭টি ভবনের জন্য ২০টি লিফট কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের প্রাক্কলিত দর ৩৭ কোটি টাকা। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ নভেম্বর।

প্রশাসককে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, এক হাজার কেজি ক্যাপাসিটির লিফট স্থাপন, ১২৫০ কেভিএ ক্যাপাসিটির ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন স্থাপন, ৪০০ কেভিএ ক্যাপাসিটি জেনারেটর স্থাপনের অভিজ্ঞতা এবং এ সংক্রান্ত সিভিলওয়ার্ক বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু পিপিআর-২০০৮ এর আইটিটি ধারা-১৪.১/বি ধারা অনুযায়ী এটা দরপত্র আহ্বানকারী প্রকল্প পরিচালক এসব শর্ত আরোপ করতে পারেন না। এতে প্রতিযোগিতা হ্রাস পায়। এছাড়া আগে থেকে পছন্দের কাউকে কাজ দেওয়ার জন্য এ ধরনের চাতুরতার আশ্রয় নেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সাবেক মহাপরিচালক একেএম ফজলুল করিম দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, দরপত্র আহ্বানকারীকে ক্রয় আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এমন কোনো কৌশল গ্রহণ করা যাবে না, যাতে প্রতিযোগিতা হ্রাস পায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বেশিরভাগ দরপত্র আহ্বানকারী তা হরহামেশা করে চলেছে। এ ধরনের দরপত্রের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে। ঠিকাদার ও দরপত্র আহ্বানকারীরা আঁতাত করে সুবিধা নেয়, যা ক্রয় আইন ও বিধি সমর্থন করে না। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির গাবতলী সুইপার কলোনি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে  বলেন, গাবতলী সুইপার কলোনির লিফট কেনার দরপত্রের বিষয়ে আগ্রহী কয়েকজন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা অভিযোগের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখছেন। তিনি বলেন, যদি কোথাও বিধিবহির্ভূত শর্ত যুক্ত হয়ে থাকে তাহলে তা সংশোধন করা হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির স্টাফ রিপোর্টার প্রিয়া চৌধুরীকে অব্যাহতি

৩৭ কোটি টাকার দরপত্রে আগাম দুর্নীতির আয়োজন মতিন আব্দুল্লাহ মতিন আব্দুল্লাহ

আপডেট সময় ১১:০৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০২৪

রাজধানীর গাবতলীতে সুইপারদের বহুতল আবাসন ভবনের লিফট কেনায় পিপিআর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস) লঙ্ঘনে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লিফট সরবরাহে ঠিকাদারের যোগ্যতার মাপকাঠি চাওয়ার পাশাপাশি কারিগরি কিছু বিষয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিধিমোতাবেক এ ধরনের স্পেসিফিকেশন চাওয়ার নিয়ম নেই। এর ফলে আগে থেকে সমঝোতার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্ধারণ করার সুযোগ থেকে যায়। এ বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিকার দাবি করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছে দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর ডিএনসিসির গাবতলী সুইপার কলোনির বহুতলবিশিষ্ট সুইপার কলোনির ৭টি ভবনের জন্য ২০টি লিফট কেনার দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের প্রাক্কলিত দর ৩৭ কোটি টাকা। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ নভেম্বর।

প্রশাসককে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, এক হাজার কেজি ক্যাপাসিটির লিফট স্থাপন, ১২৫০ কেভিএ ক্যাপাসিটির ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন স্থাপন, ৪০০ কেভিএ ক্যাপাসিটি জেনারেটর স্থাপনের অভিজ্ঞতা এবং এ সংক্রান্ত সিভিলওয়ার্ক বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু পিপিআর-২০০৮ এর আইটিটি ধারা-১৪.১/বি ধারা অনুযায়ী এটা দরপত্র আহ্বানকারী প্রকল্প পরিচালক এসব শর্ত আরোপ করতে পারেন না। এতে প্রতিযোগিতা হ্রাস পায়। এছাড়া আগে থেকে পছন্দের কাউকে কাজ দেওয়ার জন্য এ ধরনের চাতুরতার আশ্রয় নেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সাবেক মহাপরিচালক একেএম ফজলুল করিম দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে বলেন, দরপত্র আহ্বানকারীকে ক্রয় আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এমন কোনো কৌশল গ্রহণ করা যাবে না, যাতে প্রতিযোগিতা হ্রাস পায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বেশিরভাগ দরপত্র আহ্বানকারী তা হরহামেশা করে চলেছে। এ ধরনের দরপত্রের পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকে। ঠিকাদার ও দরপত্র আহ্বানকারীরা আঁতাত করে সুবিধা নেয়, যা ক্রয় আইন ও বিধি সমর্থন করে না। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির গাবতলী সুইপার কলোনি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে  বলেন, গাবতলী সুইপার কলোনির লিফট কেনার দরপত্রের বিষয়ে আগ্রহী কয়েকজন ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা অভিযোগের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখছেন। তিনি বলেন, যদি কোথাও বিধিবহির্ভূত শর্ত যুক্ত হয়ে থাকে তাহলে তা সংশোধন করা হবে।