ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে চসিক ময়মনসিংহে উপপরিচালক হারুনের পদোন্নতি নিয়ে অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলী ঘোষণা (২০২৭–২০২৮) সেনবাগে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমন্বিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচি-২০২৬ অনুষ্ঠিত কলেজ শিক্ষকের কাছে ডাকযোগে কাফনের কাপড়, তদন্তে পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আতাহারে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’: বছরে দুবার ফলন ও রপ্তানির স্বপ্নে বিভোর পলাশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোটের  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়-ব্যয়ের হিসেব দিলেন প্রশাসক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের কিং কোবরা সাপ উদ্ধার বয়সভিত্তিক দলে বিদেশি কোচ ও বিদেশে প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম বন্দরে ধ্বংস করা হচ্ছে নিলাম অযোগ্য ৭৩ কন্টেইনার পণ্য

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমদানি করা ৭৩ কন্টেইনার পচনশীল পণ্য ধ্বংসের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ। 

এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে রেফার্ড (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) ও ড্রাই কনটেইনারসহ মোট ১২টি এবং বিভিন্ন অফডকে থাকা ৬১টি কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করা হবে।

সোমবার (১৪ নভেম্বর) নগরীর উত্তর হালিশহরের বে-টার্মিনাল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ রোডের চৌধুরী পাড়ায় অবস্থিত একটি খোলা জায়গায় এই ধ্বংস কার্যক্রম চালানো হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ কন্টেইনার পণ্য ধ্বংস করা হবে। পর্যায়ক্রমে ৭৩টি কন্টেইনার পণ্য পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব পণ্যচালান ধ্বংসের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একজন করে প্রতিনিধিকে নিয়ে ৯ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। নগরীর হালিশহরের আনন্দবাজারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনের পাশের একটি খালি জায়গাকে এসব পণ্য ধ্বংসের স্থান হিসেবে অনুমোদন দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী গঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস বিষয়ক কমিটির ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭৩ কন্টেইনার পণ্য ধ্বংস করা হবে। ১৫ লটের এসব কন্টেইনারে বন্দরের ভেতরে রেফার্ডসহ ড্রাই কন্টেইনার আছে ১৫টি। বিভিন্ন অফডকে ড্রাই পণ্যের কন্টেইনার আছে ৬১টি। এসব কন্টেইনারে ধ্বংসযোগ্য ও বায়োডিগ্রেডেবল (পচনশীল) আদা, সুপারি, খেজুর, জুস, ক্যারোলা বীজ, মাছের খাদ্য, মাছ ইত্যাদি রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার প্রিভেন্টিভ মো. মাহফুজ আলম বলেন, এবার ৭৩টি কন্টেইনার ধ্বংসের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি কন্টেইনার রয়েছে বন্দরে এবং ৬১টি কন্টেইনার রয়েছে অফডকে। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংসের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। এ কারণে সিটি করপোরেশনের ময়লার ডাম্পিং স্পেসের পাশের পাঁচ একর জায়গায় এসব পণ্য ধ্বংস করা হবে। ওই জায়গা খুঁড়ে পচে যাওয়া পণ্য ফেলার সঙ্গে সঙ্গে মাটিচাপা দেওয়া হবে। এ কারণে কোনো দুর্গন্ধ ছড়াবে না।

প্রসঙ্গত, আমদানিকারকরা অনেক সময় বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন পণ্য ডেলিভারি নেন না। এছাড়া শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ব্যবসায়ীরা আমদানির চেষ্টা করলে ভৌত পরীক্ষার সময় কর্তৃপক্ষ কিছু পণ্য আটক করে।

নিয়ম অনুযায়ী, আমদানিকারকদের ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি নিতে নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের আমদানির টাকা না পেলে কাস্টমস হাউস সেসব পণ্য নিলাম করে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও আমদানি করা পণ্য বন্দরে নষ্ট হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলো ধ্বংস করে ফেলে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে চসিক

চট্টগ্রাম বন্দরে ধ্বংস করা হচ্ছে নিলাম অযোগ্য ৭৩ কন্টেইনার পণ্য

আপডেট সময় ০৮:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমদানি করা ৭৩ কন্টেইনার পচনশীল পণ্য ধ্বংসের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ। 

এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে রেফার্ড (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) ও ড্রাই কনটেইনারসহ মোট ১২টি এবং বিভিন্ন অফডকে থাকা ৬১টি কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করা হবে।

সোমবার (১৪ নভেম্বর) নগরীর উত্তর হালিশহরের বে-টার্মিনাল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ রোডের চৌধুরী পাড়ায় অবস্থিত একটি খোলা জায়গায় এই ধ্বংস কার্যক্রম চালানো হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ কন্টেইনার পণ্য ধ্বংস করা হবে। পর্যায়ক্রমে ৭৩টি কন্টেইনার পণ্য পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। এসব পণ্যচালান ধ্বংসের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একজন করে প্রতিনিধিকে নিয়ে ৯ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। নগরীর হালিশহরের আনন্দবাজারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনের পাশের একটি খালি জায়গাকে এসব পণ্য ধ্বংসের স্থান হিসেবে অনুমোদন দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী গঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস বিষয়ক কমিটির ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭৩ কন্টেইনার পণ্য ধ্বংস করা হবে। ১৫ লটের এসব কন্টেইনারে বন্দরের ভেতরে রেফার্ডসহ ড্রাই কন্টেইনার আছে ১৫টি। বিভিন্ন অফডকে ড্রাই পণ্যের কন্টেইনার আছে ৬১টি। এসব কন্টেইনারে ধ্বংসযোগ্য ও বায়োডিগ্রেডেবল (পচনশীল) আদা, সুপারি, খেজুর, জুস, ক্যারোলা বীজ, মাছের খাদ্য, মাছ ইত্যাদি রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার প্রিভেন্টিভ মো. মাহফুজ আলম বলেন, এবার ৭৩টি কন্টেইনার ধ্বংসের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি কন্টেইনার রয়েছে বন্দরে এবং ৬১টি কন্টেইনার রয়েছে অফডকে। মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংসের জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। এ কারণে সিটি করপোরেশনের ময়লার ডাম্পিং স্পেসের পাশের পাঁচ একর জায়গায় এসব পণ্য ধ্বংস করা হবে। ওই জায়গা খুঁড়ে পচে যাওয়া পণ্য ফেলার সঙ্গে সঙ্গে মাটিচাপা দেওয়া হবে। এ কারণে কোনো দুর্গন্ধ ছড়াবে না।

প্রসঙ্গত, আমদানিকারকরা অনেক সময় বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন পণ্য ডেলিভারি নেন না। এছাড়া শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ব্যবসায়ীরা আমদানির চেষ্টা করলে ভৌত পরীক্ষার সময় কর্তৃপক্ষ কিছু পণ্য আটক করে।

নিয়ম অনুযায়ী, আমদানিকারকদের ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি নিতে নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের আমদানির টাকা না পেলে কাস্টমস হাউস সেসব পণ্য নিলাম করে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও আমদানি করা পণ্য বন্দরে নষ্ট হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেগুলো ধ্বংস করে ফেলে।