ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় নিজ মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষন্ড ছেলে, ঘাতক আটক

ভোলার বোরহানউদ্দিনে দা দিয়ে কুপিয়ে মাকে হত্যা করেছেন ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। তাঁকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ঘাতককে আটক করেছে।

সোমবার রাতে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

ঘাতক রাহাত হোসেন (২৭) ওই গ্রামের দুলাল হাওলাদারের ছেলে। তাঁর মায়ের নাম নাছিমা বেগম (৫০)। আহত জাহানারা বেগম একই গ্রামের নাজু মৃধার স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, রাহাত হোসেনের স্ত্রী ও বাবা ঢাকায় থাকেন। রাহাত আজ দুপুরে ঢাকা থেকে বাসায় আসেন। সন্ধ্যায় ইফতারের পর মাকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা ইলিশ ও চিংড়ি মাছ রান্না করতে বলেন। মা বলেন, বাড়িতে কেউ নেই, তিনি একা সংসারের অন্যান্য কাজ শেষ করে মাছ রান্না করতে পারবেন না। কিন্তু রাহাত বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয় এবং হাতাহাতিতে গড়ায়। একপর্যায়ে রাহাত দা দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশের পাশে বসে থাকেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে রাহাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকে ঢাকায় কাজ করে সংসারের হাল ধরেন তিনি। কিন্তু মা–বাবা জমি বিক্রি করে সেই টাকা মেয়ে শিউলী বেগমকে দেয়। তাঁকে ও তাঁর ছোট ভাইকে বঞ্চিত করে। এ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঢাকায় ব্যবসা করেন। সেখান থেকে আজ দেশে ফিরলে মা তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী বলে কবিরাজের কাছে নিয়ে যেতে চান। তিনি রাজি হননি। ঢাকা থেকে নিয়ে আসা ইলিশ ও চিংড়ি রান্না করতে বলেন। মা তা না করে বাইরের দুজন লোকের মাধ্যমে তাঁকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে কবিরাজের কাছে নিতে চাইলে ক্ষোভে এ ঘটনা ঘটান।

জাহানারা নামে আহত নারী বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করেন রাহাত। বর্তমানে ওই নারী বরিশাল শেরে বাংলা (শেবাচিম) মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন ফকির বলেন, মাকে হত্যার ঘটনায় ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। লাশ রাত ১১টায় ঘটনাস্থল থেকে বোরহানউদ্দিন থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলায় নিজ মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষন্ড ছেলে, ঘাতক আটক

আপডেট সময় ০৪:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০২৪

ভোলার বোরহানউদ্দিনে দা দিয়ে কুপিয়ে মাকে হত্যা করেছেন ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। তাঁকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ঘাতককে আটক করেছে।

সোমবার রাতে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

ঘাতক রাহাত হোসেন (২৭) ওই গ্রামের দুলাল হাওলাদারের ছেলে। তাঁর মায়ের নাম নাছিমা বেগম (৫০)। আহত জাহানারা বেগম একই গ্রামের নাজু মৃধার স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, রাহাত হোসেনের স্ত্রী ও বাবা ঢাকায় থাকেন। রাহাত আজ দুপুরে ঢাকা থেকে বাসায় আসেন। সন্ধ্যায় ইফতারের পর মাকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা ইলিশ ও চিংড়ি মাছ রান্না করতে বলেন। মা বলেন, বাড়িতে কেউ নেই, তিনি একা সংসারের অন্যান্য কাজ শেষ করে মাছ রান্না করতে পারবেন না। কিন্তু রাহাত বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া শুরু হয় এবং হাতাহাতিতে গড়ায়। একপর্যায়ে রাহাত দা দিয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশের পাশে বসে থাকেন।

তবে ঘটনার বিষয়ে রাহাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকে ঢাকায় কাজ করে সংসারের হাল ধরেন তিনি। কিন্তু মা–বাবা জমি বিক্রি করে সেই টাকা মেয়ে শিউলী বেগমকে দেয়। তাঁকে ও তাঁর ছোট ভাইকে বঞ্চিত করে। এ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঢাকায় ব্যবসা করেন। সেখান থেকে আজ দেশে ফিরলে মা তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী বলে কবিরাজের কাছে নিয়ে যেতে চান। তিনি রাজি হননি। ঢাকা থেকে নিয়ে আসা ইলিশ ও চিংড়ি রান্না করতে বলেন। মা তা না করে বাইরের দুজন লোকের মাধ্যমে তাঁকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে কবিরাজের কাছে নিতে চাইলে ক্ষোভে এ ঘটনা ঘটান।

জাহানারা নামে আহত নারী বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করেন রাহাত। বর্তমানে ওই নারী বরিশাল শেরে বাংলা (শেবাচিম) মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন ফকির বলেন, মাকে হত্যার ঘটনায় ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। লাশ রাত ১১টায় ঘটনাস্থল থেকে বোরহানউদ্দিন থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।