ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবিপ্রবিতে জুলাই শহীদ যোদ্ধা ও আহতদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধা ও আহতদের স্মরণে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হামিদুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি.এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাবু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করেন। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গভীর আবেগে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন।পরে ভাইস-চ্যান্সেলরের লিখিত বাণি পাঠ করেন ভিসি কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. রাহাত মাহমুদ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার পিতা রতন চন্দ্র তরুয়া, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর এম. জহুরুল হক, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি, নাহিদ ইসলাম, মো. রাকিব, তন্ময়, ওমিও জামান, ইমন হোসেন, আশিকুর রহমান, শামীম মাহমুদ আবির, খালিদ মাহমুদ, মো. সাব্বির, শাহাদাৎ হোসেন এবং কর্মচারী প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “১৬ জুলাই’২৪ আমাদের জাতীয় জীবনে, বিশেষ করে আমাদের ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।এদিন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারাদেশে ৬ জন যোদ্বা পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।তাদের সেই বিরোচিত আত্মত্যাগ পুরো দেশের ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব জাগরণে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি বলেন, জাতির ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত কেবল একটি ঘটনার নাম নয়; সেগুলো হয়ে ওঠে একটি প্রজন্মের সাহস, আত্মত্যাগ ও পরিবর্তনের প্রতীক। জুলাই ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেই শিক্ষা দেয় যে, অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত অবস্থান ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। এই আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
তিনি বলেন, “আজকের এই আলোচনা সভা শুধু স্মরণ নয়; এটি আত্মসমালোচনা, শিক্ষা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, জবাবদিহীমূলক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।”
ভাইস-চ্যান্সেলর আরও বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়; এটি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম গড়ে তোলারও অন্যতম প্রতিষ্ঠান। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার চর্চায় বিশ্বাসী। আমরা এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে চাই, যারা জ্ঞান ও গবেষণার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।”
আলোচনা শেষে জুলাই যোদ্ধা শহীদ হৃদয় তারুয়ার পিতা রতন চন্দ্র তারুয়াকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ ।পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিপ্রবিতে জুলাই শহীদ যোদ্ধা ও আহতদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৪:০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধা ও আহতদের স্মরণে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই স্মরণ অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হামিদুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি.এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বাবু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করেন। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গভীর আবেগে শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন।পরে ভাইস-চ্যান্সেলরের লিখিত বাণি পাঠ করেন ভিসি কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. রাহাত মাহমুদ।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার পিতা রতন চন্দ্র তরুয়া, কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর এম. জহুরুল হক, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনি, নাহিদ ইসলাম, মো. রাকিব, তন্ময়, ওমিও জামান, ইমন হোসেন, আশিকুর রহমান, শামীম মাহমুদ আবির, খালিদ মাহমুদ, মো. সাব্বির, শাহাদাৎ হোসেন এবং কর্মচারী প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “১৬ জুলাই’২৪ আমাদের জাতীয় জীবনে, বিশেষ করে আমাদের ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়।এদিন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ সারাদেশে ৬ জন যোদ্বা পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।তাদের সেই বিরোচিত আত্মত্যাগ পুরো দেশের ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব জাগরণে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি বলেন, জাতির ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত কেবল একটি ঘটনার নাম নয়; সেগুলো হয়ে ওঠে একটি প্রজন্মের সাহস, আত্মত্যাগ ও পরিবর্তনের প্রতীক। জুলাই ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেই শিক্ষা দেয় যে, অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত অবস্থান ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। এই আত্মত্যাগের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
তিনি বলেন, “আজকের এই আলোচনা সভা শুধু স্মরণ নয়; এটি আত্মসমালোচনা, শিক্ষা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষার সর্বোত্তম উপায় হলো একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, জবাবদিহীমূলক ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।”
ভাইস-চ্যান্সেলর আরও বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়; এটি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেম গড়ে তোলারও অন্যতম প্রতিষ্ঠান। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার চর্চায় বিশ্বাসী। আমরা এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে চাই, যারা জ্ঞান ও গবেষণার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।”
আলোচনা শেষে জুলাই যোদ্ধা শহীদ হৃদয় তারুয়ার পিতা রতন চন্দ্র তারুয়াকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ ।পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ যোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।