র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জলদস্যূদের গ্রেফতারে সচেষ্ঠ। বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ভোলা এবং বরিশালের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যু বাহিনীদের আক্রমণে সাগরে জেলেদের উপর অমানবিক অত্যাচার, জুলুম, চাঁদাবাজি, অপহরণ, প্রাণ নাশের হুমকি সহ হত্যার মত জঘন্য ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের দাপটে তটস্থ জেলেরা। র্যাবের উপর্যপুরি অভিযানের এক পর্যায়ে সশস্ত্র জলদস্যুরা গত ২০১৮ এবং ২০২২ সালে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু তাদের তথাকথিত গডফাদাররা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায়।
আত্মসমর্পণের পর সাগরে ডাকাতি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও তথাকথিত গডফাদাররা নতুন ডাকাত সদস্য রিক্রুট করে পুনরায় জলদস্যু গ্রুপ তৈরী করে। উক্ত তথাকথিত গডফাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন-শৃংখলা বাহিনীর চোঁখ ফাকি দিয়ে নিজেদের ট্রলার নিয়ে অন্য যেকোনো কোম্পানির বোট ডাকাতি করে মাঝিমাল্লাদের বেধড়ক পিটিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নামিয়ে দিয়ে জলদস্যুরা লুটকৃত কোম্পানির বোট দিয়ে ডাকাতি চালিয়ে যায় জলদস্যূরা। যাতে তথাকথিত গডফাদারদের কেউ চিহ্নিত করতে না পারে।
র্যাব-৭, চট্টগ্রামের নিকট অভিযোগ গৃহীত হয় যে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারের, ভোলা ও বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যু বাহিনী কিছু দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর সম্প্রতি তারা আবারও পূর্বের ন্যায় সাগরে জেলেদের উপর অত্যাচার, জুলুম, চাঁদাবাজি এবং অপহরণসহ সকল প্রকার অন্যায় কাজ পরিচালনা করছে। ভুক্তভোগীদের এরুপ অভিযোগের বিষয়টি র্যাব-৭, চট্টগ্রাম মানবিকতার সহিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে উল্লেখিত এলাকায় ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ খ্রিঃ থেকে অদ্য ১২ ফেব্রæয়ারি ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের স্থল ও সাগর পথে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের আভিযানিক দল দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালনা করে আসামি ১। করিম (৩৩), পিতা- আঃ ছত্তার, সাং- দক্ষিণ পূর্বপাড়া, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রাম, ২। মোঃ রুবেল (৩৩) পিতা- মৃত জয়নাল আবেদীন, সাং-ওয়াইজার পাড়া, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা-কক্সবাজার, ৩। মোঃ জফুর (৩৫), পিতা-মৃত মেখের আলী সাং-গহিরা, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ৪। শফি আলম (৪০), পিতা-জবন হোসেন, সাং-গহিরা, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ৫। আঃ রহিম (২৫), পিতা-নোয়া মিয়া, সাং-গোবাদিয়া, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ৬। মোঃ শামীম (২১), পিতা-মোঃ দুলাল বলি, সাং-আয়েমাবাগ, থানা-চর ফ্যাশন, জেলা-ভোলা, ৭। মোঃ ইউসুফ (২৯), পিতা-মৃত আব্দুল মান্নান বলি, সাং-আয়েশাবাগ থানা-চরফ্যাশন, জেলা-ভোলা, ৮। শাজাহান বেগম (৩৭), পিতা-মৃত কাঞ্চন মাঝি, সাং-জিন্নাহ, থানা-চরফ্যশন, জেলা-ভোলা, ৯। মোঃ সাহাব উদ্দিন (৩৫), পিতা-মোঃ রবি আলম, সাং-শান্তিনগর, থানা-শষীভূষন, জেলা-ভোলা, ১০। মোঃ শওকত (৩৭), পিতা-মৃত নুর মোহাম্মদ, সাং-সুন্নাহপাড়া,থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ১১। মোঃ ইসমাইল (২৬), পিতা-মোঃ আলমগীর, সাং-বোয়ালীয়া, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ১২। দেলোয়ার ইসলাম (৪২), পিতা-আবু সৈয়দ, সাং-উত্তর দুরুম, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা-কক্সবাজার, ১৩। নুর মোহাম্মদ (১৭), পিতা-হাসান শরীফ, সাং-ভোটতলী থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ১৪। আব্দুর রহিম সিকদার (৩৪), পিতা-আফজাল আহমদ, সাং-বারখাইন, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ১৫। মোঃ মফিজুর রহমান (৩০), পিতা-মৃত ইয়ার মোহাম্মদ, সাং-গোবাদিয়া, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম, ১৬। ফজল হক (৪০), পিতা- মৃত মোঃ শফি, সাং-দোয়াশি বাজার, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ১৭। মোঃ গিয়াস উদ্দিন (২৬), পিতা- বাদশা মিয়া, সাং-আন্দার ঘোনা, থানা-মহেশখালি, জেলা-কক্সবাজার, ১৮। মোঃ কাছেদ (১৯), পিতা-নুরুল হক, সাং-বোয়ালিয়া, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম, ১৯। মোঃ আকিদ খান (৩৭), পিতা-মৃত হবিবুর রহমান, সাং-গোবাদিয়া, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম, ২০। মোঃ দিদারুল ইসলাম (৩৩), পিতা-মৃত জমির উদ্দিন, সাং-দক্ষিন দুরুম, থানা- কুতুবদিয়া, জেলা-কক্সবাজার, ২১। মোঃ নাইম (১৯), পিতা-আক্তার হোসেন, সাং-আলী আকবর সিকদার পাড়া, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা-কক্সবাজার, ২২। মোঃ হারুন (৪৪), পিতা-আব্দুর সবুর, সাং-দক্ষিন পূর্ব পাড়া, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম, ২৩। মোঃ ইয়াছিন(২৯), পিতা- মৃত-আব্দুর সবুর, সাং-দক্ষিণ পূর্ব পাড়া, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম,২৪। মোঃ খলিলুর রহমান (২৫), পিতা-আবুল কালম, সাং- কুর্দ্দ গহিরা, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম, ২৫। মোঃ ইকবাল হোসেন (২৪), পিতা-সালেহ আহম্মদ, সাং- কুর্দ্দ গহিরা, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম, ২৬। মোঃ শাহেদ (২২), পিতাÑমোঃ রফিক, সাং-কুর্দ্দ গহিরা, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম, ২৭। মোঃ হোসেন (২৭), পিতা-মৃত ইয়ার মোহাম্মদ, সাং-কুর্দ্দ গহিরা, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম, ২৮। মোঃ আলী হোসেন (২৪), পিতা-আব্দুস সালাম, সাং-কুর্দ্দ গহিরা, থানা-আনোয়ারা , জেলা-চট্রগ্রাম, ২৯। আব্দুল মান্নান (৪০), পিতা-মৃত আব্দুল খালেক, সাং- কুর্দ্দ গহিরা, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রাম, ৩০। মোঃ সোলায়মান (৩৮), পিতা-মৃত আব্দুল রশিদ, সাং-কুর্দ্দ গহিরা, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্রগ্রামদের আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত সকল আসামীদের জ্ঞাতসারে তাদের নিজ হেফাজতে থাকা ০২ টি ট্রলার থেকে ০৮টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ০৫টি কার্তুজসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান সরাঞ্জাম উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পুরো এক/দুই সপ্তাহ বঙ্গোপসাগরে ডাকাতি করে দাপিয়ে বেড়ায়। গডফাদারদের কাজ হলো অস্ত্র, গুলি এবং ট্রলারের যোগান দেয়া। বিভিন্ন নৌ/লঞ্চ/স্টীমার ঘাটে সোর্সের মাধ্যমে আইন শৃংখলা বাহিনী সাগরে অভিযানে যাচ্ছে কিনা তা তদারকি করে জলদস্যুরা উপকূলে আসার সময় তা অবগত করাসহ বোট মালিক এবং মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে ডাকাতির মাছ ও মাল
সুমনসেন চট্টগ্রাম ব্যুরো 





















