ঢাকা ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

চুয়াডাঙ্গা শহরের রেল ক্রসিং এর ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এক-তৃতীয়াংশ সম্পন্ন।

চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে রেল ক্রসিং এর ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের কাজ কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও কাজের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক । চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাবি ভূমি অধিগ্রহনের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি হতে পারে। ৭৫ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজের সময়সীমা ৩৮০ দিন নির্ধারণ হলেও এক-তৃতীয়াংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরে সহজ রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার চুড়ান্ত করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। চুয়াডাঙ্গাবাসী সহ পার্শ্ববর্তী ঢাকা ভায়া ঝিনেদাহ হয়ে মেহেরপুর এলাকার মানুষের জন্য চুয়াডাঙ্গা রেলগেটটি ছিলো চরম ভোগান্তির একটি জায়গা। প্রায় প্রতিদিনই চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন হয়ে গড়ে ১০-১২টি ট্রেন আপ এবং ডাউন চলাচল করে। প্রতিটি ট্রেন যদি যাতায়াত মিলে ২০ মিনিট সময় নেয়। তাহলে হিসাব করলে দেখা যায় ২৪০ থেকে ২৫০ মিনিট ট্রেন যাতায়াতের সময় নেয়। অর্থাৎ প্রতিদিন চার ঘন্টা রেলগেট পড়ে থাকে। এতে সহজেই বুঝা যায় যে, চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ এলাকার যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য এই ওভারপাস সড়কটি নির্মাণ হওয়া যে কতো বড় গুরুত্বপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য । স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা বাসীর মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা ভেবে জনগুরুত্বপূর্ণ এ কাজটি করার একনেকে অনুমতিসহ বাজেট প্রদান করেছেন। চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের সূত্রমতে, ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চুয়াডাঙ্গা শহরের রেল ক্রসিং এর ওপর ওভারপাসের দৈর্ঘ্য ৪১৮.৬৯৬ মিটার। রেম্পের দৈর্ঘ্য ৩৩০ মিটার, মোট দৈর্ঘ্য ৭৪৮. ৬৯৬ মিটার, ওভারপাসের প্রস্থ ১০. ২৫০ মিটার, ১১ক্যারিয়েজ ওয়ে ০৭.৩০ মিটার, হেডরুম ৮.৫০ মিটার, পিয়ার সংখ্যা ১২ টি এবং এবার্টমেন্ট সংখ্যা ২ টি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করিম জানান,ওভার পাস নির্মাণ কাজ বিলম্ব হওয়ার কারণ হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। জমির দাম বাজেটের তুলনায় বর্তমানে খুব বেশি হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে খুব দ্রুতই এর সমস্যার সমাধান হবে। বর্তমানে পিয়ার কলামের ঢালাইয়ের কাজ এবং গাডার ঢালাই এর কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড় থেকে শুরু হয়ে চুয়াডাঙ্গা ঝিনাহদহ বাসস্ট্যান্ড মসজিদ পর্যন্ত দীর্ঘ এ ওভার পাস হবে একটি দৃষ্টিনন্দন প্রকল্প। প্রায় ৪১৯ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থ্যের ওভারপাস নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ১১ লাখ ৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল ওভারপাস তৈরি করা হবে। এছাড়া বাকী টাকা দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ, প্রকল্প এলাকায় বৈদ্যুতিক তার স্থানান্তরসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ওভারপাসে সর্বমোট ১৩টি স্প্যান থাকবে। আগামী ২০২৪ সালের ৩০ জুন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ঢাকার বনানীর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

চুয়াডাঙ্গা শহরের রেল ক্রসিং এর ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এক-তৃতীয়াংশ সম্পন্ন।

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে রেল ক্রসিং এর ওপর ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের কাজ কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও কাজের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক । চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের দাবি ভূমি অধিগ্রহনের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি হতে পারে। ৭৫ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজের সময়সীমা ৩৮০ দিন নির্ধারণ হলেও এক-তৃতীয়াংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সড়ক বিভাগ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। পরে সহজ রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার চুড়ান্ত করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। চুয়াডাঙ্গাবাসী সহ পার্শ্ববর্তী ঢাকা ভায়া ঝিনেদাহ হয়ে মেহেরপুর এলাকার মানুষের জন্য চুয়াডাঙ্গা রেলগেটটি ছিলো চরম ভোগান্তির একটি জায়গা। প্রায় প্রতিদিনই চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন হয়ে গড়ে ১০-১২টি ট্রেন আপ এবং ডাউন চলাচল করে। প্রতিটি ট্রেন যদি যাতায়াত মিলে ২০ মিনিট সময় নেয়। তাহলে হিসাব করলে দেখা যায় ২৪০ থেকে ২৫০ মিনিট ট্রেন যাতায়াতের সময় নেয়। অর্থাৎ প্রতিদিন চার ঘন্টা রেলগেট পড়ে থাকে। এতে সহজেই বুঝা যায় যে, চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ এলাকার যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য এই ওভারপাস সড়কটি নির্মাণ হওয়া যে কতো বড় গুরুত্বপূর্ণ তা বলাই বাহুল্য । স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা বাসীর মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা ভেবে জনগুরুত্বপূর্ণ এ কাজটি করার একনেকে অনুমতিসহ বাজেট প্রদান করেছেন। চুয়াডাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের সূত্রমতে, ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চুয়াডাঙ্গা শহরের রেল ক্রসিং এর ওপর ওভারপাসের দৈর্ঘ্য ৪১৮.৬৯৬ মিটার। রেম্পের দৈর্ঘ্য ৩৩০ মিটার, মোট দৈর্ঘ্য ৭৪৮. ৬৯৬ মিটার, ওভারপাসের প্রস্থ ১০. ২৫০ মিটার, ১১ক্যারিয়েজ ওয়ে ০৭.৩০ মিটার, হেডরুম ৮.৫০ মিটার, পিয়ার সংখ্যা ১২ টি এবং এবার্টমেন্ট সংখ্যা ২ টি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল করিম জানান,ওভার পাস নির্মাণ কাজ বিলম্ব হওয়ার কারণ হচ্ছে ভূমি অধিগ্রহণ। ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কাজটি শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। জমির দাম বাজেটের তুলনায় বর্তমানে খুব বেশি হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে খুব দ্রুতই এর সমস্যার সমাধান হবে। বর্তমানে পিয়ার কলামের ঢালাইয়ের কাজ এবং গাডার ঢালাই এর কাজ চলছে। তিনি আরো জানান, চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড় থেকে শুরু হয়ে চুয়াডাঙ্গা ঝিনাহদহ বাসস্ট্যান্ড মসজিদ পর্যন্ত দীর্ঘ এ ওভার পাস হবে একটি দৃষ্টিনন্দন প্রকল্প। প্রায় ৪১৯ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থ্যের ওভারপাস নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ১১ লাখ ৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল ওভারপাস তৈরি করা হবে। এছাড়া বাকী টাকা দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ, প্রকল্প এলাকায় বৈদ্যুতিক তার স্থানান্তরসহ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ওভারপাসে সর্বমোট ১৩টি স্প্যান থাকবে। আগামী ২০২৪ সালের ৩০ জুন নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ঢাকার বনানীর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।