ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

এজলাসে ডেকে বিচারপ্রার্থী শিশুকে চকলেট দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি

এজলাসে ডেকে নিয়ে ১৩ বছর বয়সী শিশু নাঈম হাসানকে চকলেট উপহার দিয়েছেন বিচারপতি নাইমা হায়দার। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ক্ষতিপূরণ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।

রায় শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার নাঈমকে এজলাসে ডেকে নেন। নিজ হাতে চকলেট উপহার দেন তিনি। পরে শিশুটিকে বিচারপতি নাইমা হায়দার বলেন, প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেন আবারও দেখা করেন তার সাথে। এসময় এজলাসে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালীন সময়ে নাঈম তার বাবা ও মার সঙ্গে ভৈরবে ইয়াকুব হোসেনের মালিকানাধীন নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ নেয়। একদিন নাঈমের ডান হাত একটি মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান হাত কেটে ফেলতে হয়। এ ঘটনায় নাইমের বাবা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পেতে রিট করেন হাইকোর্টে।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আজ হাইকোর্ট শিশু নাঈম হাসানকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে শিশুটি এইচএসসি পাস না করা পর্যন্ত তাকে প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাকি ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট করতে হবে। ১০ পছর পর নাঈম হাসান ডিপোজিটের টাকা উত্তোলন করতে পারবে। ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিককে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
মানবিক দিক বিবেচনায় কোনো পক্ষই যেন আর মামলা না চালায়, সেই কথাও বলেন আদালত।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং অ্যাডভোকেট মো. বাকির উদ্দিন ভূইয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তামজিদ হাসান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। ওয়ার্কশপ মালিকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও আইনজীবী আবদুল বারেক।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

এজলাসে ডেকে বিচারপ্রার্থী শিশুকে চকলেট দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি

আপডেট সময় ০২:৩২:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৪

এজলাসে ডেকে নিয়ে ১৩ বছর বয়সী শিশু নাঈম হাসানকে চকলেট উপহার দিয়েছেন বিচারপতি নাইমা হায়দার। বুধবার (৩১ জানুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ক্ষতিপূরণ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।

রায় শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার নাঈমকে এজলাসে ডেকে নেন। নিজ হাতে চকলেট উপহার দেন তিনি। পরে শিশুটিকে বিচারপতি নাইমা হায়দার বলেন, প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেন আবারও দেখা করেন তার সাথে। এসময় এজলাসে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালীন সময়ে নাঈম তার বাবা ও মার সঙ্গে ভৈরবে ইয়াকুব হোসেনের মালিকানাধীন নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপে কাজ নেয়। একদিন নাঈমের ডান হাত একটি মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার ডান হাত কেটে ফেলতে হয়। এ ঘটনায় নাইমের বাবা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পেতে রিট করেন হাইকোর্টে।

এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আজ হাইকোর্ট শিশু নাঈম হাসানকে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে শিশুটি এইচএসসি পাস না করা পর্যন্ত তাকে প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাকি ১৫ লাখ টাকার ডিপোজিট করতে হবে। ১০ পছর পর নাঈম হাসান ডিপোজিটের টাকা উত্তোলন করতে পারবে। ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিককে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
মানবিক দিক বিবেচনায় কোনো পক্ষই যেন আর মামলা না চালায়, সেই কথাও বলেন আদালত।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং অ্যাডভোকেট মো. বাকির উদ্দিন ভূইয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তামজিদ হাসান।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত। ওয়ার্কশপ মালিকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও আইনজীবী আবদুল বারেক।