ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে ‘চিরকুট’ লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

 

 

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন তানিয়া আক্তার তানজিনা (২০) নামে এক গৃহবধূ।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ শাকতলী গ্রামে বসতঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

তানজিনা দক্ষিণ শাকতলী গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের মেয়ে। ৪ বছর আগে নাওগোদা গ্রামের শহীদের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সোহাগের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে দেড়বছরের একটি মেয়ে রয়েছে তানজিনার।

চিরকুটে তানজিনা লিখেন, ‘আমি মরে গেলে আমার মরার পিছনে কেউ দায়ী নয়। আমি স্বেচ্ছায় আমার জীবন দিয়েছি। আমাকে মাটি দিবে চট্টগ্রামের বাড়িতে। আমাকে বাড়িতে মাটি দিবেন না। আমি মরার পরে কেউ কান্না করবেন না। আমি মরার পর চারজন মাটি দিবে। তারা হলো শহরের মানুষ। মাটি দিবে হৃদয়, আকরাম, রাজু ভাই, রকি ভাই। এ চারজন আমাকে মাটি দেবে। আর এছাড়া কেউ আমাকে মাটি দিবেন না। আর আমাকে পালকি করে নিয়ে যাবে, প্রথম মাটি দিবে আমার বাবা। বাবার টাকায় কাফন কিনে আমাকে মাটি দিবে। আমি মরে গেলে আমাকে কেউ ফিরে পাবে না। ইতি- তানজিনা।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীসহ তানজিনা চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি বাবার বাড়ি কুমিল্লায় চলে আসেন। আসার পর থেকে স্বামী যোগাযোগ না করায় অভিমানে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তানজিনার মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে তার স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। তাকে সবসময় মারধর ও গালমন্দ করতো তার স্বামী সোহাগ।’

নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে ‘চিরকুট’ লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

আপডেট সময় ০৭:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৩

 

 

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন তানিয়া আক্তার তানজিনা (২০) নামে এক গৃহবধূ।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ শাকতলী গ্রামে বসতঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

তানজিনা দক্ষিণ শাকতলী গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের মেয়ে। ৪ বছর আগে নাওগোদা গ্রামের শহীদের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সোহাগের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে দেড়বছরের একটি মেয়ে রয়েছে তানজিনার।

চিরকুটে তানজিনা লিখেন, ‘আমি মরে গেলে আমার মরার পিছনে কেউ দায়ী নয়। আমি স্বেচ্ছায় আমার জীবন দিয়েছি। আমাকে মাটি দিবে চট্টগ্রামের বাড়িতে। আমাকে বাড়িতে মাটি দিবেন না। আমি মরার পরে কেউ কান্না করবেন না। আমি মরার পর চারজন মাটি দিবে। তারা হলো শহরের মানুষ। মাটি দিবে হৃদয়, আকরাম, রাজু ভাই, রকি ভাই। এ চারজন আমাকে মাটি দেবে। আর এছাড়া কেউ আমাকে মাটি দিবেন না। আর আমাকে পালকি করে নিয়ে যাবে, প্রথম মাটি দিবে আমার বাবা। বাবার টাকায় কাফন কিনে আমাকে মাটি দিবে। আমি মরে গেলে আমাকে কেউ ফিরে পাবে না। ইতি- তানজিনা।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীসহ তানজিনা চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি বাবার বাড়ি কুমিল্লায় চলে আসেন। আসার পর থেকে স্বামী যোগাযোগ না করায় অভিমানে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তানজিনার মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে তার স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। তাকে সবসময় মারধর ও গালমন্দ করতো তার স্বামী সোহাগ।’

নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।