ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি পদে অলি আহমদের মনোনয়ন দুটি কেন? গোয়াইনঘাটে বিএনপি নেতা স্বপন-মান্নানের থাবায় তছনছ পিয়াইন নদী ধামরাইয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মহিলা দল সভাপতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কালিহাতীতে জসিম খানের নিজ অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ নওগাঁয় মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ প্রেসক্লাব গংগাচড়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এমপির মতবিনিময়  ফরিদপুরে ছেঁড়া-ফাটা ও অতি পুরাতন টাকায় চরম ভোগান্তি  শাহরাস্তিতে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন

গাজায় যুদ্ধ-দখলদারিত্ব বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জেদ্দা, সৌদি আরব থেকে: ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতা ও দখলদারিত্ব অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

সৌদি আরব সফররত প্রধানমন্ত্রী সোমবার (৬ নভেম্বর) জেদ্দার একটি হোটেলে ইসলামে নারীবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে এ তাগিদ দেন। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসি এবং সৌদি আরব সরকার এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বর্বরোচিত হামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাজায় নিরীহ নারী ও শিশুদের ওপর ইসরায়েলি নৃশংসতার নিন্দা জানাই। এটা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দুই লক্ষাধিক নারীর ওপর চালানো বর্বরতার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। এই নৃশংসতা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডকেই মনে করিয়ে দেয়। এটা যেন ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত-নিপীড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশ অভিমুখে ছুটে আসার দৃশ্যপটকে ফিরিয়ে আনলো। আমি অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ভয়াবহ যুদ্ধ, গোষ্ঠীগত শাস্তি ও অবৈধ দখলদারিত্ব এখনই থামাতে আমি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি আমার ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের পক্ষে নিজের ভূমিকা রেখে যাবো। শান্তির জন্য সব মুসলিম নারীকে সোচ্চার হতে হবে। ’

মুসলিম নারীদের কল্যাণের জন্য এসময় কিছু সুপারিশ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রথমত—ফিলিস্তিনে সংঘাতে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রতি অপরাধের বিচার করতে হবে। দ্বিতীয়ত—সব ধরনের অপরাধ, সহিংসতা ও বৈষম্য এবং নারী ও মেয়েদের টার্গেট করে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষকে ‘না’ বলতে হবে।

তৃতীয়ত—এসডিজি-৫ অর্জনে লিঙ্গ সমতা এবং নারী ও মেয়ের ক্ষমতায়নে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। চতুর্থত—মুসলিম নারী ও মেয়েরা যেন জনপরিসরে নিজেদের পছন্দ বা ইচ্ছে অনুসারে চলতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চম প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও মূলধারায় তাদের ভূমিকা রাখার ক্ষেত্র তৈরিতে উজ্জ্বল উদাহরণ বাংলাদেশ এ বিষয়ে বন্ধুপ্রতীম মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রস্তুত।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

গাজায় যুদ্ধ-দখলদারিত্ব বন্ধের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১০:২৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর ২০২৩

জেদ্দা, সৌদি আরব থেকে: ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতা ও দখলদারিত্ব অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

সৌদি আরব সফররত প্রধানমন্ত্রী সোমবার (৬ নভেম্বর) জেদ্দার একটি হোটেলে ইসলামে নারীবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতাকালে এ তাগিদ দেন। ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা-ওআইসি এবং সৌদি আরব সরকার এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত বর্বরোচিত হামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাজায় নিরীহ নারী ও শিশুদের ওপর ইসরায়েলি নৃশংসতার নিন্দা জানাই। এটা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দুই লক্ষাধিক নারীর ওপর চালানো বর্বরতার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। এই নৃশংসতা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আমার বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডকেই মনে করিয়ে দেয়। এটা যেন ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত-নিপীড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশ অভিমুখে ছুটে আসার দৃশ্যপটকে ফিরিয়ে আনলো। আমি অবিলম্বে গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ভয়াবহ যুদ্ধ, গোষ্ঠীগত শাস্তি ও অবৈধ দখলদারিত্ব এখনই থামাতে আমি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমি আমার ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের পক্ষে নিজের ভূমিকা রেখে যাবো। শান্তির জন্য সব মুসলিম নারীকে সোচ্চার হতে হবে। ’

মুসলিম নারীদের কল্যাণের জন্য এসময় কিছু সুপারিশ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রথমত—ফিলিস্তিনে সংঘাতে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রতি অপরাধের বিচার করতে হবে। দ্বিতীয়ত—সব ধরনের অপরাধ, সহিংসতা ও বৈষম্য এবং নারী ও মেয়েদের টার্গেট করে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষকে ‘না’ বলতে হবে।

তৃতীয়ত—এসডিজি-৫ অর্জনে লিঙ্গ সমতা এবং নারী ও মেয়ের ক্ষমতায়নে বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। চতুর্থত—মুসলিম নারী ও মেয়েরা যেন জনপরিসরে নিজেদের পছন্দ বা ইচ্ছে অনুসারে চলতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চম প্রস্তাবনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও মূলধারায় তাদের ভূমিকা রাখার ক্ষেত্র তৈরিতে উজ্জ্বল উদাহরণ বাংলাদেশ এ বিষয়ে বন্ধুপ্রতীম মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে প্রস্তুত।