ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে বিক্ষোভ, গুলিতে শ্রমিক নিহত

ঢাকা: বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে রাসেল হাওলাদার (২৬) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাকে হাসপাতাল নিয়ে আসা সহকর্মী ও রুমমেট মো. আবু সুফিয়ান জানান, স্থানীয় ডিজাইন এক্সপ্রেস লিমিটেড নামে একটি কারখানায় কাজ করেন তারা। কারখানাটির ইলেকট্রিশিয়ান রাসেল হাওলাদার। স্থানীয় ৫-৬টি গার্মেন্টসের কর্মীরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। সেজন্য সকালে তাদের কারখানাটি কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারখানা থেকে বের হয়ে তারা পায়ে হেঁটে বাসার দিকে রওনা হন।

তিনি আরো দাবি করেন, তখন কারখানাটির সামনে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে রাসেল বুকের ডান পাশে এবং ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেলে। অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেকে রাসেলের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রে (টিকেট) চিকিৎসক ‘গুলিতে মৃত্যু’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনেন টুঙ্গি পূর্ব থানার দুই কনস্টেবল তিলক ও মামুন। পাশাপাশি রাসেলের পরিচিত কয়েকজনও ছিলেন।

তারা জানান, ঝালকাঠির সদর উপজেলার খাগুটিয়া গ্রামের হান্নান হাওলাদারের ছেলে রাসেল। বর্তমানে গাজীপুর বাসন মালেকের বাড়ি এলাকায় একটি মেসে থাকতেন তিনি।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাসেলের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে বিক্ষোভ, গুলিতে শ্রমিক নিহত

আপডেট সময় ০৬:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩

ঢাকা: বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে রাসেল হাওলাদার (২৬) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

সোমবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাকে হাসপাতাল নিয়ে আসা সহকর্মী ও রুমমেট মো. আবু সুফিয়ান জানান, স্থানীয় ডিজাইন এক্সপ্রেস লিমিটেড নামে একটি কারখানায় কাজ করেন তারা। কারখানাটির ইলেকট্রিশিয়ান রাসেল হাওলাদার। স্থানীয় ৫-৬টি গার্মেন্টসের কর্মীরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। সেজন্য সকালে তাদের কারখানাটি কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারখানা থেকে বের হয়ে তারা পায়ে হেঁটে বাসার দিকে রওনা হন।

তিনি আরো দাবি করেন, তখন কারখানাটির সামনে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে রাসেল বুকের ডান পাশে এবং ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেলে। অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেকে রাসেলের চিকিৎসার ব্যবস্থাপত্রে (টিকেট) চিকিৎসক ‘গুলিতে মৃত্যু’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রাসেলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনেন টুঙ্গি পূর্ব থানার দুই কনস্টেবল তিলক ও মামুন। পাশাপাশি রাসেলের পরিচিত কয়েকজনও ছিলেন।

তারা জানান, ঝালকাঠির সদর উপজেলার খাগুটিয়া গ্রামের হান্নান হাওলাদারের ছেলে রাসেল। বর্তমানে গাজীপুর বাসন মালেকের বাড়ি এলাকায় একটি মেসে থাকতেন তিনি।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাসেলের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।