ঢাকা ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে চসিক ময়মনসিংহে উপপরিচালক হারুনের পদোন্নতি নিয়ে অভিযোগ, তদন্তের দাবি স্বাধীনবাংলা সাহিত্য পরিষদের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মণ্ডলী ঘোষণা (২০২৭–২০২৮) সেনবাগে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সমন্বিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচি-২০২৬ অনুষ্ঠিত কলেজ শিক্ষকের কাছে ডাকযোগে কাফনের কাপড়, তদন্তে পুলিশ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আতাহারে ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গো’: বছরে দুবার ফলন ও রপ্তানির স্বপ্নে বিভোর পলাশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোটের  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আয়-ব্যয়ের হিসেব দিলেন প্রশাসক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের কিং কোবরা সাপ উদ্ধার বয়সভিত্তিক দলে বিদেশি কোচ ও বিদেশে প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা

বরগুনায় নেই আবহাওয়া অফিস, শিগগিরই নির্মাণের দাবি

দেশের সর্ব দক্ষিণের সাগর তীরবর্তী জেলা বরগুনা। প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগ আঘাত হানে এ জেলায়। এছাড়া সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় লঘুচাপ, নিম্নচাপ লেগেই থাকে। প্রাকৃতিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ হওয়া সত্ত্বেও বরগুনায় এখনো নির্মাণ হয়নি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস।

ফলে সঠিক সময়ে সঠিক পূর্ভাবাস না পেয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার বিপর্যস্ত হচ্ছে এই জনপদ, রক্ষা করা যাচ্ছে না ফসল। জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলীয় জেলা বরগুনা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার বিপর্যস্ত হচ্ছে এই জনপদ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে বরগুনা চিহ্নিত হলেও এখন পর্যন্ত এখানে নির্মাণ করা হয়নি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস।

এতে সময়মতো পূর্ভাবাস না পেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ, জেলে ও কৃষকরা। বিগত দিনের ঘূর্ণিঝড় সিডর, মহাসেন, আইলা, রোয়ানু ও মোরার সময় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অমিল ছিল ঝড়ের গতি ও স্থান পরিবর্তনের। যার প্রভাবটা পড়েছে উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের ওপর। নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি। জেলার সচেতন মহল বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত বরগুনায় এখনো নির্মাণ হয়নি আবহাওয়া অফিস।

ফলে বিগত দিনের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের সময় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অনেক গরমিল ছিল। এ কারণে বন্যার গতি ও স্থান পরিবর্তনের প্রভাবটা পড়েছে গোটা উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের ওপর। আমাদের দাবি শিগগিরই এ জেলায় পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস নির্মাণ করা হোক। আবহাওয়া অফিস নির্মাণ হলে সঠিক পূর্ভাবাস পেয়ে সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারব আমরা। জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সঠিক সময়ে আবহাওয়ার সংকেত না পাওয়ায় আমরা গভীর সাগরে থাকা জেলেদের তথ্য দিতে পারি না।

তাই ঝড়ের কবলে পড়ে প্রতি বছর বহু জেলে ট্রলারডুবিতে মারা যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস না থাকায় সমুদ্রগামী জেলেদের আমরা সংকেত জানাতে পারি না। তাই তারা ঝড়ের মধ্যে সুন্দরবনসহ ঝুঁকিপূর্ণ সাগর এলাকায় আশ্রয় নেয়। অনেক সময় ভাসতে ভাসতে ভারতেও চলে যায়। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে জেলায় আবহাওয়া অফিস নির্মাণ অতি জরুরি।

বরগুনা জেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপ-পরিচালক কিশোর কুমার সরদার বলেন, আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস না থাকায় জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয় আমাদের। আবহাওয়ার তথ্য ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে যে সময় লাগে, ততক্ষণে আবহাওয়া অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই বরগুনায় আবহাওয়া অফিস করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এ জেলায় আবহাওয়া অফিস স্থাপন মানুষের প্রাণের দাবি। বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, বরগুনা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতি বছরই বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে এ অঞ্চলে। জানমালের অনেক ক্ষতি হয়। তাই এখানে একটি স্থানীয় আবহাওয়া অফিস স্থাপন করা প্রয়োজন। বিষয়টি দ্রুত সরকারের নজরে আনা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে চসিক

বরগুনায় নেই আবহাওয়া অফিস, শিগগিরই নির্মাণের দাবি

আপডেট সময় ১১:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ নভেম্বর ২০২২

দেশের সর্ব দক্ষিণের সাগর তীরবর্তী জেলা বরগুনা। প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগ আঘাত হানে এ জেলায়। এছাড়া সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় লঘুচাপ, নিম্নচাপ লেগেই থাকে। প্রাকৃতিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ হওয়া সত্ত্বেও বরগুনায় এখনো নির্মাণ হয়নি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস।

ফলে সঠিক সময়ে সঠিক পূর্ভাবাস না পেয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার বিপর্যস্ত হচ্ছে এই জনপদ, রক্ষা করা যাচ্ছে না ফসল। জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলীয় জেলা বরগুনা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার বিপর্যস্ত হচ্ছে এই জনপদ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে বরগুনা চিহ্নিত হলেও এখন পর্যন্ত এখানে নির্মাণ করা হয়নি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস।

এতে সময়মতো পূর্ভাবাস না পেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ, জেলে ও কৃষকরা। বিগত দিনের ঘূর্ণিঝড় সিডর, মহাসেন, আইলা, রোয়ানু ও মোরার সময় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অমিল ছিল ঝড়ের গতি ও স্থান পরিবর্তনের। যার প্রভাবটা পড়েছে উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের ওপর। নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি। জেলার সচেতন মহল বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত বরগুনায় এখনো নির্মাণ হয়নি আবহাওয়া অফিস।

ফলে বিগত দিনের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের সময় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অনেক গরমিল ছিল। এ কারণে বন্যার গতি ও স্থান পরিবর্তনের প্রভাবটা পড়েছে গোটা উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের ওপর। আমাদের দাবি শিগগিরই এ জেলায় পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস নির্মাণ করা হোক। আবহাওয়া অফিস নির্মাণ হলে সঠিক পূর্ভাবাস পেয়ে সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারব আমরা। জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সঠিক সময়ে আবহাওয়ার সংকেত না পাওয়ায় আমরা গভীর সাগরে থাকা জেলেদের তথ্য দিতে পারি না।

তাই ঝড়ের কবলে পড়ে প্রতি বছর বহু জেলে ট্রলারডুবিতে মারা যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস না থাকায় সমুদ্রগামী জেলেদের আমরা সংকেত জানাতে পারি না। তাই তারা ঝড়ের মধ্যে সুন্দরবনসহ ঝুঁকিপূর্ণ সাগর এলাকায় আশ্রয় নেয়। অনেক সময় ভাসতে ভাসতে ভারতেও চলে যায়। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে জেলায় আবহাওয়া অফিস নির্মাণ অতি জরুরি।

বরগুনা জেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপ-পরিচালক কিশোর কুমার সরদার বলেন, আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস না থাকায় জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয় আমাদের। আবহাওয়ার তথ্য ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে যে সময় লাগে, ততক্ষণে আবহাওয়া অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই বরগুনায় আবহাওয়া অফিস করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এ জেলায় আবহাওয়া অফিস স্থাপন মানুষের প্রাণের দাবি। বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, বরগুনা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতি বছরই বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে এ অঞ্চলে। জানমালের অনেক ক্ষতি হয়। তাই এখানে একটি স্থানীয় আবহাওয়া অফিস স্থাপন করা প্রয়োজন। বিষয়টি দ্রুত সরকারের নজরে আনা হবে।