ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্নীতির দায়ে পদাবনতি, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক আরিফুল ইসলাম জুয়েল দুই হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু, ওয়াসার গাড়িচালক তাজুলের পাঁচতলা ভবনে ১৭ ফ্ল্যাট ডেঙ্গু ঠেকাতে নাগরিকদের বাসাবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৯০ কোটি টাকার খালি চেক দেওয়ার অভিযোগে দুদকের নজরে খুলনা ওয়াসার রেজাউল ইসলাম বিমান মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য গর্বের বিষয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামলার আশঙ্কায় পিছিয়ে গেল রোনালদোদের ম্যাচ শেখ হাসিনার দুপুরের খাবারের খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকায় নতুন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল পাকিস্তান ছাত্রলীগের পদের জন্য প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত সারজিস: রাশেদ খান

বরগুনায় নেই আবহাওয়া অফিস, শিগগিরই নির্মাণের দাবি

দেশের সর্ব দক্ষিণের সাগর তীরবর্তী জেলা বরগুনা। প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগ আঘাত হানে এ জেলায়। এছাড়া সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় লঘুচাপ, নিম্নচাপ লেগেই থাকে। প্রাকৃতিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ হওয়া সত্ত্বেও বরগুনায় এখনো নির্মাণ হয়নি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস।

ফলে সঠিক সময়ে সঠিক পূর্ভাবাস না পেয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার বিপর্যস্ত হচ্ছে এই জনপদ, রক্ষা করা যাচ্ছে না ফসল। জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলীয় জেলা বরগুনা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার বিপর্যস্ত হচ্ছে এই জনপদ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে বরগুনা চিহ্নিত হলেও এখন পর্যন্ত এখানে নির্মাণ করা হয়নি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস।

এতে সময়মতো পূর্ভাবাস না পেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ, জেলে ও কৃষকরা। বিগত দিনের ঘূর্ণিঝড় সিডর, মহাসেন, আইলা, রোয়ানু ও মোরার সময় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অমিল ছিল ঝড়ের গতি ও স্থান পরিবর্তনের। যার প্রভাবটা পড়েছে উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের ওপর। নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি। জেলার সচেতন মহল বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত বরগুনায় এখনো নির্মাণ হয়নি আবহাওয়া অফিস।

ফলে বিগত দিনের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের সময় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অনেক গরমিল ছিল। এ কারণে বন্যার গতি ও স্থান পরিবর্তনের প্রভাবটা পড়েছে গোটা উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের ওপর। আমাদের দাবি শিগগিরই এ জেলায় পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস নির্মাণ করা হোক। আবহাওয়া অফিস নির্মাণ হলে সঠিক পূর্ভাবাস পেয়ে সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারব আমরা। জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সঠিক সময়ে আবহাওয়ার সংকেত না পাওয়ায় আমরা গভীর সাগরে থাকা জেলেদের তথ্য দিতে পারি না।

তাই ঝড়ের কবলে পড়ে প্রতি বছর বহু জেলে ট্রলারডুবিতে মারা যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস না থাকায় সমুদ্রগামী জেলেদের আমরা সংকেত জানাতে পারি না। তাই তারা ঝড়ের মধ্যে সুন্দরবনসহ ঝুঁকিপূর্ণ সাগর এলাকায় আশ্রয় নেয়। অনেক সময় ভাসতে ভাসতে ভারতেও চলে যায়। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে জেলায় আবহাওয়া অফিস নির্মাণ অতি জরুরি।

বরগুনা জেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপ-পরিচালক কিশোর কুমার সরদার বলেন, আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস না থাকায় জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয় আমাদের। আবহাওয়ার তথ্য ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে যে সময় লাগে, ততক্ষণে আবহাওয়া অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই বরগুনায় আবহাওয়া অফিস করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এ জেলায় আবহাওয়া অফিস স্থাপন মানুষের প্রাণের দাবি। বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, বরগুনা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতি বছরই বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে এ অঞ্চলে। জানমালের অনেক ক্ষতি হয়। তাই এখানে একটি স্থানীয় আবহাওয়া অফিস স্থাপন করা প্রয়োজন। বিষয়টি দ্রুত সরকারের নজরে আনা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির দায়ে পদাবনতি, এবার ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্পের পরিচালক আরিফুল ইসলাম জুয়েল

বরগুনায় নেই আবহাওয়া অফিস, শিগগিরই নির্মাণের দাবি

আপডেট সময় ১১:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ নভেম্বর ২০২২

দেশের সর্ব দক্ষিণের সাগর তীরবর্তী জেলা বরগুনা। প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগ আঘাত হানে এ জেলায়। এছাড়া সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় লঘুচাপ, নিম্নচাপ লেগেই থাকে। প্রাকৃতিকভাবে দুর্যোগপ্রবণ হওয়া সত্ত্বেও বরগুনায় এখনো নির্মাণ হয়নি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস।

ফলে সঠিক সময়ে সঠিক পূর্ভাবাস না পেয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার বিপর্যস্ত হচ্ছে এই জনপদ, রক্ষা করা যাচ্ছে না ফসল। জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলীয় জেলা বরগুনা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার বিপর্যস্ত হচ্ছে এই জনপদ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে বরগুনা চিহ্নিত হলেও এখন পর্যন্ত এখানে নির্মাণ করা হয়নি আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস।

এতে সময়মতো পূর্ভাবাস না পেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ, জেলে ও কৃষকরা। বিগত দিনের ঘূর্ণিঝড় সিডর, মহাসেন, আইলা, রোয়ানু ও মোরার সময় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অমিল ছিল ঝড়ের গতি ও স্থান পরিবর্তনের। যার প্রভাবটা পড়েছে উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের ওপর। নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি। জেলার সচেতন মহল বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত বরগুনায় এখনো নির্মাণ হয়নি আবহাওয়া অফিস।

ফলে বিগত দিনের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের সময় আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অনেক গরমিল ছিল। এ কারণে বন্যার গতি ও স্থান পরিবর্তনের প্রভাবটা পড়েছে গোটা উপকূলীয় এলাকার জনসাধারণের ওপর। আমাদের দাবি শিগগিরই এ জেলায় পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস নির্মাণ করা হোক। আবহাওয়া অফিস নির্মাণ হলে সঠিক পূর্ভাবাস পেয়ে সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারব আমরা। জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সঠিক সময়ে আবহাওয়ার সংকেত না পাওয়ায় আমরা গভীর সাগরে থাকা জেলেদের তথ্য দিতে পারি না।

তাই ঝড়ের কবলে পড়ে প্রতি বছর বহু জেলে ট্রলারডুবিতে মারা যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস না থাকায় সমুদ্রগামী জেলেদের আমরা সংকেত জানাতে পারি না। তাই তারা ঝড়ের মধ্যে সুন্দরবনসহ ঝুঁকিপূর্ণ সাগর এলাকায় আশ্রয় নেয়। অনেক সময় ভাসতে ভাসতে ভারতেও চলে যায়। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে জেলায় আবহাওয়া অফিস নির্মাণ অতি জরুরি।

বরগুনা জেলা দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপ-পরিচালক কিশোর কুমার সরদার বলেন, আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কোনো অফিস না থাকায় জনগণের তোপের মুখে পড়তে হয় আমাদের। আবহাওয়ার তথ্য ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতে যে সময় লাগে, ততক্ষণে আবহাওয়া অনেক পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই বরগুনায় আবহাওয়া অফিস করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ এ জেলায় আবহাওয়া অফিস স্থাপন মানুষের প্রাণের দাবি। বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, বরগুনা একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতি বছরই বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে এ অঞ্চলে। জানমালের অনেক ক্ষতি হয়। তাই এখানে একটি স্থানীয় আবহাওয়া অফিস স্থাপন করা প্রয়োজন। বিষয়টি দ্রুত সরকারের নজরে আনা হবে।