ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পে দুর্নীতি : দুদকে অভিযোগ আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : ইশরাক হোসেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: রিজভী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার, শপথ শুক্রবার : চিফ হুইপ পিনাকী-ইলিয়াস জামায়াতের হয়ে টাকার বিনিময়ে গুজব ছড়ান: প্রতিমন্ত্রী নুর বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ স্বজনদের, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের জাজিরা থানার ওসি মোঃ সালেহ আহাম্মদ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত কালুখালীতে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেটে চুরি-ছিনতাই ও কিশোরগ্যাং আতঙ্ক, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও

কালকিনিতে ক্লিনিকে অভিযান; রোগী রেখে পালালো কর্তৃপক্ষ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ভুরঘাটার এ.এম ক্লিনিক এন্ড ডায়গনস্টিক(সাবেক আলাউদ্দিন ক্লিনিক)সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।এসময় ক্লিনিকটিতে থাকা তিনজন সিজারের রোগী রেখেই পালিয়ে যায় মালিক,নার্স,স্টাফ সহ সবাই।

গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কে.এম শিবলী রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সরেজমিন ও অভিযান সুত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন যাবৎ নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে কালকিনির ভুরঘাটার এ.এম ক্লিনিকটি(সাবেক আলাউদ্দিন ক্লিনিক)পরিচালিত হয়ে আসছে।এমন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় এক মাস আগেও এই ক্লিনিকটিতে অভিযান করা হয়।তখন সকল অনিয়ম দূর করতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১ সপ্তাহ সময় দেয়া হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে তিন সপ্তাহ করা হয়। নির্ধারিত ঐ সময়ের মধ্যে সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে সকল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ।

অভিযানে গিয়ে দেখা যায়,ক্লিনিকটির ছাদ ছিদ্র হয়ে ওটিতে বৃষ্টির পানি পড়ছে। যা সরাসরি ওটি টেবিলের উপর পড়ছে। এছাড়া ওটির লাইট এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদির উপর পানি গিয়ে পড়ছে।তাছাড়া কোন ল্যাব টেকনেশিয়ান নেই ক্লিনিকটিতে।সকল পরীক্ষানিরীক্ষা একজন অদক্ষ সহকারী করে থাকে।নেই কোন ডিউটি ডাক্তার ও নার্স । এই ক্লিনিকে যে সমস্ত সিজার বা অন্যান্য অপারেশন হয় তার ওটি নোটও পাওয়া যায়নি।নেই কোন সার্বক্ষনিক এমবিবিএস চিকিৎসক।

অভিযানকালে অসুস্থ রোগী রেখে এ.এম ক্লিনিক(সাবেক আলাউদ্দিন ক্লিনিক)এন্ড ডায়গনস্টিকের সবাই পালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনগন।তারা বলেন,”এভাবে রোগী রেখে সবাই সরে গেলো,একবারও রোগীদের কথা ভাবলোনা ! এরা আসলে মানুষ নামের অমানুষ,যাদের কাছে রোগীরদের জীবনের চেয়ে টাকাই বড়।অবিলম্বে এসব ক্লিনিক বন্ধের দাবী জানান স্থানীয়রা।

অভিযান সম্পর্কে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কে এম শিবলী রহমান জানান,”প্রায় একমাস আগে এই ক্লিনিকে অভিযান করে সতর্ক করা হয়েছিল।তখন ক্লিনিকের সকল অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রেখে যাবতীয় অসংগতি দূর করার জন্য তিন সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়া হয়।কিন্তু তারা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।তাছাড়া গতকাল অভিযানকালে ক্লিনিকটিতে ডিউটি ডাক্তার বা নার্স কাউকে পাওয়া যায়নি।এছাড়াও এখানে কোন প্যাথলজিস্টও নেই।ক্লিনিকটি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযানে পাওয়া যাবতীয় তথ্য ইউএনও কে জানানো হয়েছে।”

অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টটর মোঃ ইকরাম হোসেন সহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পে দুর্নীতি : দুদকে অভিযোগ

কালকিনিতে ক্লিনিকে অভিযান; রোগী রেখে পালালো কর্তৃপক্ষ

আপডেট সময় ০১:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ভুরঘাটার এ.এম ক্লিনিক এন্ড ডায়গনস্টিক(সাবেক আলাউদ্দিন ক্লিনিক)সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।এসময় ক্লিনিকটিতে থাকা তিনজন সিজারের রোগী রেখেই পালিয়ে যায় মালিক,নার্স,স্টাফ সহ সবাই।

গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কে.এম শিবলী রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সরেজমিন ও অভিযান সুত্রে জানা যায়,দীর্ঘদিন যাবৎ নানা অনিয়মের মধ্যদিয়ে কালকিনির ভুরঘাটার এ.এম ক্লিনিকটি(সাবেক আলাউদ্দিন ক্লিনিক)পরিচালিত হয়ে আসছে।এমন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় এক মাস আগেও এই ক্লিনিকটিতে অভিযান করা হয়।তখন সকল অনিয়ম দূর করতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে ১ সপ্তাহ সময় দেয়া হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে তিন সপ্তাহ করা হয়। নির্ধারিত ঐ সময়ের মধ্যে সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে সকল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ।

অভিযানে গিয়ে দেখা যায়,ক্লিনিকটির ছাদ ছিদ্র হয়ে ওটিতে বৃষ্টির পানি পড়ছে। যা সরাসরি ওটি টেবিলের উপর পড়ছে। এছাড়া ওটির লাইট এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদির উপর পানি গিয়ে পড়ছে।তাছাড়া কোন ল্যাব টেকনেশিয়ান নেই ক্লিনিকটিতে।সকল পরীক্ষানিরীক্ষা একজন অদক্ষ সহকারী করে থাকে।নেই কোন ডিউটি ডাক্তার ও নার্স । এই ক্লিনিকে যে সমস্ত সিজার বা অন্যান্য অপারেশন হয় তার ওটি নোটও পাওয়া যায়নি।নেই কোন সার্বক্ষনিক এমবিবিএস চিকিৎসক।

অভিযানকালে অসুস্থ রোগী রেখে এ.এম ক্লিনিক(সাবেক আলাউদ্দিন ক্লিনিক)এন্ড ডায়গনস্টিকের সবাই পালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনগন।তারা বলেন,”এভাবে রোগী রেখে সবাই সরে গেলো,একবারও রোগীদের কথা ভাবলোনা ! এরা আসলে মানুষ নামের অমানুষ,যাদের কাছে রোগীরদের জীবনের চেয়ে টাকাই বড়।অবিলম্বে এসব ক্লিনিক বন্ধের দাবী জানান স্থানীয়রা।

অভিযান সম্পর্কে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কে এম শিবলী রহমান জানান,”প্রায় একমাস আগে এই ক্লিনিকে অভিযান করে সতর্ক করা হয়েছিল।তখন ক্লিনিকের সকল অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রেখে যাবতীয় অসংগতি দূর করার জন্য তিন সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়া হয়।কিন্তু তারা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।তাছাড়া গতকাল অভিযানকালে ক্লিনিকটিতে ডিউটি ডাক্তার বা নার্স কাউকে পাওয়া যায়নি।এছাড়াও এখানে কোন প্যাথলজিস্টও নেই।ক্লিনিকটি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অভিযানে পাওয়া যাবতীয় তথ্য ইউএনও কে জানানো হয়েছে।”

অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেক্টটর মোঃ ইকরাম হোসেন সহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।