ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে – গৃহায়ণমন্ত্রী কুমিল্লায় এসএন মার্কেটে দোকান দখলের চেষ্টার অভিযোগ,নিরাপত্তার দাবি ভুক্তভোগীদের জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই : আফরোজা খানম কালিহাতীতে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে মারধর, চার দিন পর আহত ব্যক্তির মৃত্যু বড়লেখায় ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ সোমবার সকাল ১০টায়, যেভাবে জানা যাবে রিজভীর বক্তব্য ‘মিথ্যা’, সালমান শাহর মৃ’ত্যু নিয়ে মুখ খুললেন শাবনূর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ববিরোধের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০ বাংলাদেশিকে বিএসএফ নিয়ে যাওয়ায় ভারতীয়কে ধরে আনলো গ্রামবাসী মারা গেলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির বাবা

চাঁদা না দেয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে সাবের বাহিনী

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় পলাশ উপজেলার ডাংগা বাজারের এক সংখালঘু স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে, চেয়ারম্যান সাবের উল হাই বাহিনীর সদস্যরা।

আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম জহর লাল নন্দী। তিনি একই উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার সুবাস নন্দীর ছেলে ও ডাংগা বাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ীয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

আহত জহর লাল নন্দী জানান, ডাংগা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী জহর লাল নন্দীর কাছে প্রায় সময়ই মোটা স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা ধার নিতেন ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবের উল হাইের বিশ্বস্থ হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত রাজু ও জসিম। কিছু দিন পর এসে টাকা না দিয়ে বন্ধকী স্বর্ণ জোর পূর্বক নিয়ে যেতো। গত দুই তিন আগে রাজু আবারো আসেন স্বর্ণ বন্ধক রাখতে, এসময় জহর লাল নন্দী বন্ধক রাখতে অস্বীকার করেন। বন্ধক রেখে টাকা না দিলেও আমাকে চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে যান রাজু। এরই জের ধরে গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজু ও জসিম জহর লাল নন্দীর দোকানে এসে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। জহর নন্দী চাঁদা অস্বীকার করলে দেশীয় অস্ত্র রাম দা, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

এসময় দোকানে উপস্থিত ডালিম নামের একজন ক্রেতা সে বাধা দিতে গেলে তাকে ও কুপিয়ে জখম করেন। পরে দোকান থেকে ২৫ থেকে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ক্যাশ বা থেকে নগদ ৩ /৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান । তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আহতদের উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে যান। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত জহর লাল নন্দীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার্ড করেন।

এ ব্যাপারে আহত ক্রেতা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও গুরুতর আহত জহর লাল নন্দী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আইনগত ব্যবস্থার আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

চেয়ারম্যান বাহিনির দুর্ধর্ষ হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত রাজু হাসনহাটা গ্রামের আক্তারের ছেলে ও জসিম একই এলাকার জামালউদ্দিন এর ছেলে । জসিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান এলাকাবাসী।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান,চেয়ারম্যানের লোকজন মাঝে মাঝে এসে আমার কাছে চাদা দাবি করে আমি চাদা না দিলে তারা আমাকে মারধর করে। তারা অনেক ক্ষমতাশীল লোক তাদের ভয়ে এলাকার কোন কথা বলতে পারে।কথা বলতে গেলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়।তাদের ভয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিতে পারছি না। তাই সরকারের কাছে কঠিন বিচার চাই।

এব্যাপারে নরসিংদী জেলার পলাশ থানার ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবের উল হাই বলেন,আমার লোক তার কাছে চাদা দাবি করে নাই। বরং তার কাছে আমার লোকের স্বর্ণ বন্ধক রাখা ছিল সে স্বর্ণ দিতে অস্বীকার করছে। এছাড়া আমার লোক তাদেরকে মারে নাই। তাকে যারা মেরেছে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন বলেন,স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনা ঘটনা শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে – গৃহায়ণমন্ত্রী

চাঁদা না দেয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে সাবের বাহিনী

আপডেট সময় ০১:০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মে ২০২৩

চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় পলাশ উপজেলার ডাংগা বাজারের এক সংখালঘু স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে, চেয়ারম্যান সাবের উল হাই বাহিনীর সদস্যরা।

আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ীর নাম জহর লাল নন্দী। তিনি একই উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার সুবাস নন্দীর ছেলে ও ডাংগা বাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ীয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

আহত জহর লাল নন্দী জানান, ডাংগা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী জহর লাল নন্দীর কাছে প্রায় সময়ই মোটা স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে টাকা ধার নিতেন ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবের উল হাইের বিশ্বস্থ হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত রাজু ও জসিম। কিছু দিন পর এসে টাকা না দিয়ে বন্ধকী স্বর্ণ জোর পূর্বক নিয়ে যেতো। গত দুই তিন আগে রাজু আবারো আসেন স্বর্ণ বন্ধক রাখতে, এসময় জহর লাল নন্দী বন্ধক রাখতে অস্বীকার করেন। বন্ধক রেখে টাকা না দিলেও আমাকে চাঁদা দিতে হবে বলে হুমকি দিয়ে যান রাজু। এরই জের ধরে গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজু ও জসিম জহর লাল নন্দীর দোকানে এসে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। জহর নন্দী চাঁদা অস্বীকার করলে দেশীয় অস্ত্র রাম দা, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন।

এসময় দোকানে উপস্থিত ডালিম নামের একজন ক্রেতা সে বাধা দিতে গেলে তাকে ও কুপিয়ে জখম করেন। পরে দোকান থেকে ২৫ থেকে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ক্যাশ বা থেকে নগদ ৩ /৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান । তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে আহতদের উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে যান। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক গুরুতর আহত জহর লাল নন্দীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা রেফার্ড করেন।

এ ব্যাপারে আহত ক্রেতা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও গুরুতর আহত জহর লাল নন্দী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আইনগত ব্যবস্থার আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

চেয়ারম্যান বাহিনির দুর্ধর্ষ হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত রাজু হাসনহাটা গ্রামের আক্তারের ছেলে ও জসিম একই এলাকার জামালউদ্দিন এর ছেলে । জসিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান এলাকাবাসী।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানান,চেয়ারম্যানের লোকজন মাঝে মাঝে এসে আমার কাছে চাদা দাবি করে আমি চাদা না দিলে তারা আমাকে মারধর করে। তারা অনেক ক্ষমতাশীল লোক তাদের ভয়ে এলাকার কোন কথা বলতে পারে।কথা বলতে গেলে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়।তাদের ভয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিতে পারছি না। তাই সরকারের কাছে কঠিন বিচার চাই।

এব্যাপারে নরসিংদী জেলার পলাশ থানার ডাংগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবের উল হাই বলেন,আমার লোক তার কাছে চাদা দাবি করে নাই। বরং তার কাছে আমার লোকের স্বর্ণ বন্ধক রাখা ছিল সে স্বর্ণ দিতে অস্বীকার করছে। এছাড়া আমার লোক তাদেরকে মারে নাই। তাকে যারা মেরেছে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন বলেন,স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনা ঘটনা শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।