ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিষ মেশানো ভাত খেয়ে কাতরাচ্ছিলেন স্বামী, স্ত্রী এনে দিলেন বিষাক্ত শরবত হলিস্টিক গ্রুপের দুই শত কোটি টাকার প্রতারণা পবিপ্রবিতে গ্রেটার রাজশাহী স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্সের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা গাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দিয়েই সংসদীয় কমিটি গঠন রেলওয়ের প্রকৌশলী শাহ আলমের কুলখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে দুটি  বিস্ফোরক ও হত্যা মামলার আসামী আল মামুন  অটোরিকশায় যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম অটোরিকশায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের বাসা থেকে অফিসের কাজ সামলাচ্ছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী, শিগগির ফিরবেন কর্মস্থলে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মঙ্গলবার নতুন করে আবারও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সালের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। আগে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল নতুন বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে ভোগপণ্যের চাহিদা বাড়ায় এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ চীন করোনার কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করায় প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২২ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। নতুন পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা বলা হলেও গত বছরের তুলনায় এটি এখনো কম। অপরদিকে আইএমএফ বলছে, ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। অক্টোবরে দেওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এটি ১০ শতাংশ কম।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ে-অলিভার গোরিনচাস বলেছেন, ‘মন্দার শঙ্কা কেটে গেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ইতিবাচক অবস্থানে আছে।’ তবে তিনি জানিয়েছেন, মূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও কাজ করতে হবে। কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীনের করোনা বিধিনিষেধের কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

 শক্তিশালী চাহিদা

অপরদিকে ইউরোপে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। অক্টোবরের পূর্বাভাসে যা ০ দশমিক ৫ শতাংশ বলা হয়েছিল। আইএমএফ বলেছে, ধারণারও কম সময়ের মধ্যে জ্বালানির উচ্চমূল্যের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। জ্বালানির মূল্য কমার বিষয়টি এ অঞ্চলের জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সহায়তা করেছে।

বড় অর্থনৈতিক দেশগুলো একমাত্র যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। যুক্তরাজ্যের জিডিপির প্রবৃদ্ধি এ বছর ০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পাবে। দেশটির মানুষ জীবনমানের ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে।

খুলেছে চীনের দুয়ার

এশিয়ার দেশ চীনে গত বছরের শেষ দিকে করোনার কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। বিধিনিষেধ শিথিলের আগে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। মূলত বিধিনিষেধ শিথিলের কারণে অর্থনেতিক কার্যক্রম বাড়ায় দেশটির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ২০২৪ সালে এটি কমে যাবে। ২০২২ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ০ শতাংশ। গত ৪০ বছরের মধ্যে যা বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম ছিল।

একই সময় ভারতের প্রবৃদ্ধি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

এদিকে গত বছর আইএমএফ অর্থনীতির যে পূর্বাভাস দিয়েছিল সেখানে তিনবার প্রবৃদ্ধির হার কমানো হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যে এবারই প্রথমবার প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা বলা হচ্ছে। যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ভালো সংবাদ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়া অলিভার গোরিনচাস।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিষ মেশানো ভাত খেয়ে কাতরাচ্ছিলেন স্বামী, স্ত্রী এনে দিলেন বিষাক্ত শরবত

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আইএমএফ

আপডেট সময় ০১:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মঙ্গলবার নতুন করে আবারও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ২০২৩ সালের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। আগে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বলা হয়েছিল নতুন বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে ভোগপণ্যের চাহিদা বাড়ায় এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ চীন করোনার কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করায় প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২২ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। নতুন পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা বলা হলেও গত বছরের তুলনায় এটি এখনো কম। অপরদিকে আইএমএফ বলছে, ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। অক্টোবরে দেওয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এটি ১০ শতাংশ কম।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়ে-অলিভার গোরিনচাস বলেছেন, ‘মন্দার শঙ্কা কেটে গেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ইতিবাচক অবস্থানে আছে।’ তবে তিনি জানিয়েছেন, মূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও কাজ করতে হবে। কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চীনের করোনা বিধিনিষেধের কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে।

 শক্তিশালী চাহিদা

অপরদিকে ইউরোপে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। অক্টোবরের পূর্বাভাসে যা ০ দশমিক ৫ শতাংশ বলা হয়েছিল। আইএমএফ বলেছে, ধারণারও কম সময়ের মধ্যে জ্বালানির উচ্চমূল্যের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। জ্বালানির মূল্য কমার বিষয়টি এ অঞ্চলের জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সহায়তা করেছে।

বড় অর্থনৈতিক দেশগুলো একমাত্র যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আইএমএফ। যুক্তরাজ্যের জিডিপির প্রবৃদ্ধি এ বছর ০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পাবে। দেশটির মানুষ জীবনমানের ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে।

খুলেছে চীনের দুয়ার

এশিয়ার দেশ চীনে গত বছরের শেষ দিকে করোনার কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। বিধিনিষেধ শিথিলের আগে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু নতুন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। মূলত বিধিনিষেধ শিথিলের কারণে অর্থনেতিক কার্যক্রম বাড়ায় দেশটির প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ২০২৪ সালে এটি কমে যাবে। ২০২২ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ০ শতাংশ। গত ৪০ বছরের মধ্যে যা বৈশ্বিক গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় কম ছিল।

একই সময় ভারতের প্রবৃদ্ধি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকবে ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

এদিকে গত বছর আইএমএফ অর্থনীতির যে পূর্বাভাস দিয়েছিল সেখানে তিনবার প্রবৃদ্ধির হার কমানো হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যে এবারই প্রথমবার প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা বলা হচ্ছে। যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ভালো সংবাদ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়া অলিভার গোরিনচাস।