ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট চেয়েছিল বিএনপি: শফিকুর রহমান সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা, রাতে কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন সংস্কার বাস্তবায়নে বিএনপির সদিচ্ছা নেই: আখতার হোসেন রংপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সড়ক মেরামত, সাত দিনেই বেহাল দশা বিদেশের কারাগারে ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি, মিলছে না পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতা আওয়ামী লীগর সাবেক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে চাকরি পাওয়া মাসুম বিল্লাহ এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গোপালগঞ্জে গ্রাম পুলিশকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা শরীয়তপুরে পৌর বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়ালের বিরুদ্ধে চার নেতাকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ সংবিধান সংস্কারের নামে সরকার জুলাই সনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে: গোলাম পরওয়ার

শরীয়তপুরে পৌর বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়ালের বিরুদ্ধে চার নেতাকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে দলটির সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত চারজনের মধ্যে একজনের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈশাখীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নড়িয়া পৌর বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়াল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ওই চার নেতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নোমান চোকদার, নড়িয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, একই সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল শিকদার ও পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব দেওয়ান।

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন সূত্র জানায়, এই চার নেতা ঠিকাদারি এবং জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এসব ব্যবসা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সালাউদ্দিন ছৈয়ালের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে গতকাল সন্ধ্যার পর সালাউদ্দিন চার নেতাকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর সালাউদ্দিনের ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক তাঁদের ওপর হামলা চালান। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

“তাঁদের সঙ্গে আমার তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা কিছু লোকজনের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি।”

সালাউদ্দিন ছৈয়াল, নড়িয়া পৌর বিএনপির সহসভাপতি

ব্যবসায়িক বিরোধের কথা স্বীকার

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে সালাউদ্দিন ছৈয়াল মুঠোফোনে বলেন, দল ক্ষমতায় আসার পর নোমান চোকদার ও মাসুদ খান তাঁর কাছে এসে ঠিকাদারি কাজ ও জমি কেনাবেচার ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন। এ জন্য তাঁর কাছে বিনিয়োগের টাকা চান।

সালাউদ্দিনের দাবি, গত চার মাসে দুই দফায় তিনি তাঁদের ৪৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেও তাঁকে মুনাফার ভাগ দিচ্ছিলেন না, বিনিয়োগের টাকাও ফেরত দিচ্ছিলেন না। গতকাল টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা নানা টালবাহানা করছিলেন। সালাউদ্দিন বলেন, ‘তাঁদের সঙ্গে আমার তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা কিছু লোকজনের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি।’

৫০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নোমান চোকদার বলেন, সালাউদ্দিন ফোন করে তাঁদের ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। নোমানের ভাষ্য, সালাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই। কেন তাঁদের মারধর করা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

‘এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

আনোয়ার হোসেন, ওসি, নড়িয়া থানা

মাসুদ খানের অভিযোগ, সালাউদ্দিন ফোন করে তাঁকে ও নোমানকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর সালাউদ্দিন আরও কয়েকজনকে নিয়ে তাঁদের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে হবে কেন—এমন প্রশ্ন করতেই তাঁদের মারধর শুরু হয়। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের একজন বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে আহত করেছেন।

একজনের পায়ের হাড় ভেঙেছে

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তমাল কুমার দাস জানান, মারধরের ঘটনায় আহত চারজনকে গতকাল রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এক্স-রে করার পর তাজুল নামের একজনের বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি জানিয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট চেয়েছিল বিএনপি: শফিকুর রহমান

শরীয়তপুরে পৌর বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়ালের বিরুদ্ধে চার নেতাকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:০৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে দলটির সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত চারজনের মধ্যে একজনের পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। তাঁদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাতে নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈশাখীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নড়িয়া পৌর বিএনপির সহসভাপতি সালাউদ্দিন ছৈয়াল তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ওই চার নেতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নোমান চোকদার, নড়িয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, একই সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল শিকদার ও পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব দেওয়ান।

নড়িয়া উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন সূত্র জানায়, এই চার নেতা ঠিকাদারি এবং জমি কেনাবেচার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এসব ব্যবসা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে সালাউদ্দিন ছৈয়ালের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে গতকাল সন্ধ্যার পর সালাউদ্দিন চার নেতাকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর সালাউদ্দিনের ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক তাঁদের ওপর হামলা চালান। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

“তাঁদের সঙ্গে আমার তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা কিছু লোকজনের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি।”

সালাউদ্দিন ছৈয়াল, নড়িয়া পৌর বিএনপির সহসভাপতি

ব্যবসায়িক বিরোধের কথা স্বীকার

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রাতে সালাউদ্দিন ছৈয়াল মুঠোফোনে বলেন, দল ক্ষমতায় আসার পর নোমান চোকদার ও মাসুদ খান তাঁর কাছে এসে ঠিকাদারি কাজ ও জমি কেনাবেচার ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন। এ জন্য তাঁর কাছে বিনিয়োগের টাকা চান।

সালাউদ্দিনের দাবি, গত চার মাসে দুই দফায় তিনি তাঁদের ৪৪ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেও তাঁকে মুনাফার ভাগ দিচ্ছিলেন না, বিনিয়োগের টাকাও ফেরত দিচ্ছিলেন না। গতকাল টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁরা নানা টালবাহানা করছিলেন। সালাউদ্দিন বলেন, ‘তাঁদের সঙ্গে আমার তর্কবিতর্ক হয়। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা কিছু লোকজনের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি।’

৫০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নোমান চোকদার বলেন, সালাউদ্দিন ফোন করে তাঁদের ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। নোমানের ভাষ্য, সালাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধ নেই। কেন তাঁদের মারধর করা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

‘এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

আনোয়ার হোসেন, ওসি, নড়িয়া থানা

মাসুদ খানের অভিযোগ, সালাউদ্দিন ফোন করে তাঁকে ও নোমানকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর সালাউদ্দিন আরও কয়েকজনকে নিয়ে তাঁদের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে হবে কেন—এমন প্রশ্ন করতেই তাঁদের মারধর শুরু হয়। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের একজন বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে তাঁকে আহত করেছেন।

একজনের পায়ের হাড় ভেঙেছে

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তমাল কুমার দাস জানান, মারধরের ঘটনায় আহত চারজনকে গতকাল রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এক্স-রে করার পর তাজুল নামের একজনের বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি জানিয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।