ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন হিন্দুদের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের ধামইরহাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দোকানমালিকদের হয়রানির অভিযোগ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এনামুল হক বশিরের বিরুদ্ধে ৩৭ দিনে ইয়েমেনের ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে করেছে হুথিরা বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ আ.লীগের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার ড. ইউনূস: রিজভী কামারখন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওয়ার্ডবয় করিম সরকারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়ায় অসহায় দুই শিশুর পাশে দাঁড়াল পুলিশ এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী

শিবির নেতাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সাবেক ওসি লোকমানের বিরুদ্ধে

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসাইনের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে সাবেক শিবির নেতা আব্দুর রহমান বিপ্লব ওরফে শিবির বিপ্লবকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

নির্মম নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পর বিপ্লবকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। দুটি মামলায় চাওয়া হয়েছিল ২০ দিনের রিমান্ড। তবে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শারীরিক নির্যাতন ও ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ এনে সাবেক ওসি লোকমানের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন বিপ্লব। শিগগিরই লোকমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

আব্দুর রহমান বিপ্লব লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে রায়পুর থানার দায়িত্বে থাকাকালীন ওসি লোকমান রায়পুর পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ৫ লাখ এবং রায়পুর পৌর শিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন পরানের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় করেন। ভুক্তভোগী এই দুই আইনজীবী জানান, সে সময় তাঁদেরও নির্মম মারধরের পর টাকা নিয়ে মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছিল।

নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বিপ্লব জানান, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনের নির্দেশে পুলিশ তাঁর বাসায় অভিযান চালায়। দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর একপর্যায়ে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে থানা এলাকায় ওসির বাসভবনে নিয়ে চোখ খুলে দুই হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনভর ঝুলিয়ে রেখে রাতে মোটা লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। সারাদিন তাঁকে কোনো খাবারও দেওয়া হয়নি। রাত প্রায় ১১টার দিকে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়। এরপর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর শরীরে বিদ্যুতের শক দেয় পুলিশ।

বিপ্লব আরও জানান, গভীর রাতে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে গাড়িতে তুলে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধে নিয়ে যান। সেখানে আবারও মারধর করে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়। এর মধ্যে এক গণমাধ্যমকর্মী এসপিকে ফোন দিয়ে বিপ্লবকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে এসপি তা অস্বীকার করেন। পরে তাঁকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয়।

পরবর্তীতে সদর মডেল থানায় ফিরিয়ে আনা হলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সুযোগে ওসি লোকমান তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বিপ্লব বলেন, “আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আমার বাবার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করেন ওসি লোকমান। সন্তান হারানোর ভয়ে বাবা দেনদরবারের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। এরই মধ্যে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে সেই ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওসি। এরপর দুপুরে আমাকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়, যার মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।”

বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে লক্ষ্মীপুরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর ওসি লোকমান অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছেন। তিনি বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) উত্তরায় কর্মরত আছেন। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও লোকমান কীভাবে এখনও চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, তা বোধগম্য নয়। আমি এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করব।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ওসি লোকমান হোসাইনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস উদযাপন

শিবির নেতাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সাবেক ওসি লোকমানের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০১:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসাইনের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে সাবেক শিবির নেতা আব্দুর রহমান বিপ্লব ওরফে শিবির বিপ্লবকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

নির্মম নির্যাতন ও মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পর বিপ্লবকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছিলেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। দুটি মামলায় চাওয়া হয়েছিল ২০ দিনের রিমান্ড। তবে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শারীরিক নির্যাতন ও ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ এনে সাবেক ওসি লোকমানের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন বিপ্লব। শিগগিরই লোকমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

আব্দুর রহমান বিপ্লব লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে রায়পুর থানার দায়িত্বে থাকাকালীন ওসি লোকমান রায়পুর পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ৫ লাখ এবং রায়পুর পৌর শিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন পরানের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় করেন। ভুক্তভোগী এই দুই আইনজীবী জানান, সে সময় তাঁদেরও নির্মম মারধরের পর টাকা নিয়ে মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছিল।

নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বিপ্লব জানান, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনের নির্দেশে পুলিশ তাঁর বাসায় অভিযান চালায়। দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর একপর্যায়ে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে থানা এলাকায় ওসির বাসভবনে নিয়ে চোখ খুলে দুই হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনভর ঝুলিয়ে রেখে রাতে মোটা লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। সারাদিন তাঁকে কোনো খাবারও দেওয়া হয়নি। রাত প্রায় ১১টার দিকে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সেখানে উপস্থিত হলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়। এরপর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর শরীরে বিদ্যুতের শক দেয় পুলিশ।

বিপ্লব আরও জানান, গভীর রাতে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে গাড়িতে তুলে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধে নিয়ে যান। সেখানে আবারও মারধর করে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে শেষ ইচ্ছা জানতে চাওয়া হয়। এর মধ্যে এক গণমাধ্যমকর্মী এসপিকে ফোন দিয়ে বিপ্লবকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে এসপি তা অস্বীকার করেন। পরে তাঁকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয়।

পরবর্তীতে সদর মডেল থানায় ফিরিয়ে আনা হলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সুযোগে ওসি লোকমান তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

বিপ্লব বলেন, “আমাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আমার বাবার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করেন ওসি লোকমান। সন্তান হারানোর ভয়ে বাবা দেনদরবারের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। এরই মধ্যে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর বাবার ওপর চাপ সৃষ্টি করে সেই ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওসি। এরপর দুপুরে আমাকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়, যার মধ্যে দুটি মামলায় পুলিশ ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।”

বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে লক্ষ্মীপুরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর ওসি লোকমান অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছেন। তিনি বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) উত্তরায় কর্মরত আছেন। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও লোকমান কীভাবে এখনও চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, তা বোধগম্য নয়। আমি এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করব।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ওসি লোকমান হোসাইনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।